Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৫:১৮ অপরাহ্ণ

১৯৪৬ সালের প্রথম দিকের ঘটনা পাটনার জহর রায় নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে চলে এলেন কলকাতায়

১৯৪৬ সালের প্রথম দিকের ঘটনা পাটনার জহর রায় নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে চলে এলেন কলকাতায়। উঠছেন মামার শ্বশুড়বাড়িতে। মাখন সেন জহর রায়ের মামা খুব ভাল টেলারিং মাস্টার,পাটনায় নিজের দরজির দোকান। ব্যাচেলার মানুষ,নিউ মার্কেটের অর্ডার সাপ্লাই দিতে হিমসিম খেয়ে যান। কিন্তু ব্যাচেলার মামার আবার কিভাবে শ্বশুরবাড়ি  হয়! আশ্চর্যের বিষয়!

© ধ্রুবতারাদের খোঁজে 


রহস্য উন্মোচন করলেন জহর স্বয়ং।

" মামা আমাদের অবাক করে এক মামিকে ঘরে এনেছেন। এনেই পাটনার দোকানপাট বিক্রি করে বৌয়ের হাত ধরে শ্বশুড়ের বাড়িতে উঠে এসেছেন কারণ শ্বশুর মৃত এবং তাঁর বাড়ি বিষয়সম্পত্তি এবং শাশুড়িকে দেখাশোনা করার জন্য কলকাতায় স্থায়ীভাবে না এলে শাশুড়ি বিপদে পড়বেন কারণ মামিই তাঁর একমাত্র সন্তান। তাই মামা এখানেই শ্বশুরবাড়ির নিচের তলায় টেলারিং এর দোকান খুলে বসেছেন দিব্যি চলছে"।


পাটনার কদমকুঁয়া ড্রামাটিক ক্লাবের সবার প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় নাট্য পরিচালক সতু রায়ের ছেলে জহর।

তবে জহরের ভাল লাগে ক্যারিকেচার। পাটনায় তখন জহর রায়ের ক্যারিকেচার বিশেষ আকর্ষণ। নব প্রতিষ্ঠিত পাটনা আর্ট স্কুলের নাচ ও জহরের ক্যারিকেচার ভীষণ জনপ্রিয় হয় আরা থেকে বখতিয়ার পুর দানাপুর থেকে ভাগলপুর। জহর তখন 'গানেওয়ালা লাল্টু ছাড়াও জগদ্বিখ্যাত চার্লি চ্যাপলিনের 'দ্য গ্রেট ডিক্টেটর' ছবিতে হিটলারের ভূমিকার ক্যারিকেচার।

এভাবেই জহরের দিনগুলো ভালই কেটেছে। 

© ধ্রুবতারাদের খোঁজে 


একদিন সাগর দত্ত লেনে এসে দেখা করলেন সাহিত্যিক,চিত্র নাট্যকার নবেন্দু ঘোষের সাথে।

নবেন্দু বাবু জিজ্ঞেস করলেন কবে এলে?

জহর বললেন " ভাগ্য পরীক্ষা করতে কলকাতায় এসেছি"।

ভাগ্যপরীক্ষা! তার মানে?

জহর খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন " কলকাতায় ভাঁড়ামি করে রোজগার করা যায় কি না সেই খোঁজে"।

তখন নবেন্দু ঘোষ তাঁকে বললেন তাঁর বাবা সতুদা কি সম্মতি দিয়েছেন "?

জহর হেসে বলল" না দিয়ে উপায় কি? আই এ ফেল করার পর ( যদিও বেশিরভাগ লেখক লিখেছেন পাটনার বি এন কলেজ থেকে আই.এ পাশ। শুরু করেছিলেন স্নাতক স্তরের পড়াশোনাও। কিন্তু শেষ করেননি। কিছুটা অভিনয়ের নেশায়) বাবা বুঝলেন যে তাঁর সবচেয়ে বড় গুণের উত্তরাধিকারী হওয়ার চেষ্টা করাই আমার পক্ষে একমাত্র পথ,তাই সম্মতি দিয়েছেন। এখন কলকাতাতেই ক্যারিকেচার দেখানোর চেষ্টা করব "।


© ধ্রুবতারাদের খোঁজে 


পরবর্তী কালে জহর বাংলা চলচ্চিত্রের কমেডিতে বিশেষ স্থান অধিকার করেছেন সেই ইতিহাস সবার জানা। পর্দায় তাঁকে দেখলেই এখনও হেসে ফেলে দর্শক।

জহর রায় গর্ব করে বলতেন তাঁর অভিনয় গুরু চার্লি চ্যাপলিন,তিনি একলব্য৷ সত্যজিৎ প্রথমে ‘পরশপাথর’ ছবিতে ছোট্ট রোল দিয়েছিলেন, পরেশ দত্তের চাকর ভজহরি। দশ বছর পরে হাল্লার মন্ত্রী। ঋত্বিক ঘটকও তাই। প্রথমে ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ ছবিতে কনস্টেবলের এক চিলতে রোল। সাত বছর বাদে ‘সুবর্ণ-রেখা’র অনেকখানি জুড়ে ফাউন্ড্রি ওয়র্কশপের ফোরম্যান মুখুজ্জে।  তিনশোর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন।


১৯৭৭-র ১১ অগস্ট, মেডিকেল কলেজ থেকে একটা শোকমিছিল এগোচ্ছিল বিধান সরণি ধরে। বেথুন কলেজের সামনে এসে থেমে গেল মিছিলটা। একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটা গাড়ি থেকে নামলেন সুচিত্রা সেন। ধীর পায়ে লরিতে উঠলেন। সেখানে তখন নিথর শুয়ে জহর রায়। সুচিত্রা কিছু ক্ষণ তাকিয়ে রইলেন প্রিয় সতীর্থের দিকে। অস্ফুটে বললেন : ‘‘তুমি চলে গেলে চার্লি!’’

সংকলনে ✍? অরুণাভ সেন।।

© ধ্রুবতারাদের খোঁজে 


#JahorRoy

#Actor

#SatyajitRay 

#SuchitraSen 

#dhrubotaraderkhonje 


পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার,একা নৌকার যাত্রী,নবেন্দু ঘোষ

মন্তব্য করুন

ব্লগ