Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৯:৩১ পূর্বাহ্ণ

(মধ্যযুগীয় বাংলা: ঈশা খাঁ, আনু. ১৫২৯ – সেপ্টেম্বর ১৫৯৯) ছিলেন ১৬ শতকের বাংলার বারো ভূঁইয়া সর্দারদের একজন এবং খিজিরপুর (সোনারগাঁও) অঞ্চলের জমিদার

ঈশা খাঁর সমাধিতে..।

(মধ্যযুগীয় বাংলা: ঈশা খাঁ, আনু. ১৫২৯ – সেপ্টেম্বর ১৫৯৯) ছিলেন ১৬ শতকের বাংলার বারো ভূঁইয়া সর্দারদের একজন এবং খিজিরপুর (সোনারগাঁও) অঞ্চলের জমিদার। তাঁর শাসনামলে তিনি সফলভাবে বাংলার ভূস্বামীদের একত্রিত করেন এবং বাংলায় মুঘল আক্রমণ প্রতিহত করেন। তাঁর মৃত্যুর পরই এই অঞ্চলটি সম্পূর্ণ মুঘলদের অধীনে চলে যায়।

ঈসা খানের জন্ম সুলতানি শাসনভুক্ত ভাটি অঞ্চলের সরাইলে। ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর বাংলা বিজয়ের পর ভাটি অঞ্চলের সুরক্ষার স্বার্থে বাংলা প্রভাবশালী জমিদারদের একত্রিত করে মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, যাঁরা বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত।

তখন সম্রাট আকবরের তাঁর বেশ কয়েকজন সেনাপতিকে পর্যায়ক্রমে ঈসা খানকে পরাজিত করতে পাঠান কিন্তু ঈসা খানের সাথে যুদ্ধে তাঁরা সকলে যুদ্ধে পরাস্ত হন। ঈসা খানের মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় দুই দশকেরও বেশি সময় মুঘলরা শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে নি।

১৫৯৯ সালের ২৯শে জুলাই তাঁর মৃত্যুর দিনে দিল্লীতে আনন্দের ঢেউ বয়ে যায়। আবুল ফজল সেদিন লেখেন-

"..…ভাগ্য হিন্দুস্তানের সম্রাট আকবরের প্রতি প্রসন্ন হয়েছে। ভাটির রাজা আজ বখতিয়ারপুর প্রাসাদে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি কখনো মুঘল বশ্যতা স্বীকার করেননি, না কখনো এসেছেন রাজ দরবারে। কেউ তাকে পরাজিত করতে পারেনি। ভাটির বিদ্রোহীদের পতনের দিন ঘনিয়ে আসছে। হিন্দুস্তানী সাম্রাজ্য এখন নিরাপদ….."

ঈসা খানের বাড়ি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে অবস্থিত। তিনি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার সেইসময়ের জমিদার কুইচ রাজাকে সিংহাসনচ্যুত করে বাড়িটি র্নিমান করেন। ঈসা খানের অনেক নিদর্শন কিশোরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

মধ্যযুগীয় বাংলার একজন প্রভাবশালী স্বাধীনতাকামী হিসেবে ঈসা খান আজও বাংলাদেশে সমাদৃত হন। চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বৃহত্তম ঘাঁটি বানৌজা ঈসা খান তাঁর নাম বহন করে।

১৮ শতকের শেষ দিকের কবি এতিম কাসেম সর্বপ্রথম তাঁর কবিতায় "বঙ্গবীর" শব্দটি যাঁর জন্য ব্যবহার করেছিলেন তিনিই ভাটিরাজ ঈসা খাঁ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ