সহকারী শিক্ষক
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০৬:৪১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
টিউমার শব্দটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। বলা যায়, টিউমার একটি আতঙ্কের নাম। কেননা এই শব্দটি শোনার সাথে সাথে আমাদের মাথায় ক্যান্সারের কথা ভেসে আসে। কিন্তু অনেকেই এটা জানেন না, টিউমার এবং ক্যান্সার সম্পূর্ণই আলাদা দুইটি শারীরিক সমস্যা তৈরি করে, এই দুইটি কখনোই শরীরে এক রকম প্রতিক্রিয়া বা সমস্যার সৃষ্টি করে না। তাই যে বা যারা টিউমার ও ক্যান্সারের পার্থক্য জানেনা তারা গুলিয়ে ফেলেন। এজন্য আমরা চেনার উপায় সম্পর্কে জানবো।
কেননা আজকের এই আর্টিকেলে আমরা, শুধুমাত্র টিউমার সম্পর্কে আপনাদেরকে এ টু জেড জানাবো। আশা করছি, যে বা যারা এতদিন যাবত টিউমারকে ক্যান্সার ভেবে এসেছেন তারা তাদের ভ্রান্ত ধারণা মুছে ফেলতে সক্ষম হবো।
টিউমার কি?
কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিই হলো টিউমার। আরেকটু বিস্তারিত বললে বলা যায়–শরীরের যেকোনো স্থানের কোষ সমূহ ধীরে ধীরে বা দ্রুততার সাথে অসামঞ্জস্য ভাবে বেড়ে ওঠাই টিউমার। এটি মূলত অস্বাভাবিক টিস্যুর সমাবেশ, যেখানে কোষগুলো লাগাম ছাড়া অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং সৃষ্টি করে একটি গোল্লা আকৃতির উঁচু ঢিপি।
আমাদের শরীরে বিলিয়ন নয়, বরং ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কোষ রয়েছে। ধরা হয়, একজন প্রাপ্তবয়স্কের দেহে গড়ে ৩০ট্রিলিয়নের মত কোষ থাকে। জন্মের সময় এই সংখ্যা চার শতাংশের এক শতাংশ হয়ে থাকে। এরপর কোষের ভেতর কিছু নিয়মে পুরনো কোষ মরে যায় নতুন কোষ জন্ম নেয়।
আবার কিছু কোষ সাইজে বৃদ্ধি পায় আবার কিছু কোষ সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। কিন্তু কোন কোষ কতটুকু বৃদ্ধি পাবে আবার কতটুকু ছোট হবে, আবার শরীরের কতটুকু কোষ মরে যাবে এবং কতটুকু নতুন ভাবে আবার জন্ম নিবে– এটা মূলত কোষের ভেতরের কিছু নির্দেশনা বা নিয়মের উপর ভিত্তি করে প্রবাহমান। কিন্তু যখনই এর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় অর্থাৎ এই নিয়ম ভঙ্গ হয় তখনই মূলত কোন একটি জায়গায় অস্বাভাবিক টিস্যুর সমাবেশ ঘটে, ফলে সৃষ্টি হয় টিউমার।
টিউমার চেনতে হলে টিউমারের বৈশিষ্ট্য সমূহ সম্পর্কে জানতে হবে। তাই এ পর্যায়ে আমরা বিনাইন টিউমারের বৈশিষ্ট্য এবং ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের বৈশিষ্ট্য সমূহ সম্পর্কে অবগত করবো আপনাদেরকে।
বিনাইন টিউমারের বৈশিষ্টঃ
১. একটি মাত্র আবরণ দ্বারা এ টিউমারটি আবৃত থাকে।
২.তবে এটি শরীরের অন্য কোনো স্থানে ছড়ায় না।
৩.এটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
৪.অপারেশন করালে ঠিক হয়ে যায় সাধারণত আর বাড়ে না।
ম্যালিগনেন্ট টিউমার বা ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্যঃ
১. এই টিউমার গুলো কোন আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে না। যার ফলে তা অনিয়ন্ত্রিত ও অগোছালো ভাবে বৃদ্ধি পায়।
২. এটি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং বড় হয়ে যায়
৩. অগোছালোভাবে বৃদ্ধি হওয়ার কারণে শরীরে বিভিন্ন জায়গায় সংক্রমণ ঘটায়।
৪.শরীরের অন্যান্য স্থানে রক্তের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
৫. এই ধরনের টিউমার গুলো মূলত প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করলে ভালো হয়ে যায়। তবে পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েই যায়।তাই দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা নিতে হয়।
এটা নিরেট বা শক্ত হয়। এটা খুব দ্রুত বড় হয়। এতে আবরণ থাকে। এটার উপরের চর্ম আলাদা পৃথক মনে হয় না। এ টিউমার সংলগ্ন গ্রন্থিসমূহ আক্রান্ত হয়। চাপ দিলে এতে যন্ত্রণা অনুভূত হয়। এতে আঘাত করলে বা অস্ত্রোপচার করলে ক্ষতি হয়। অস্ত্রোপচার করলে পরে প্রায়ই ক্যান্সার হতে দেখা যায়।
ম্যালিগমেন্ট টিউমার গুলো স্বভাবতই কোন আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে না। আর তাই এটা অনিয়ন্ত্রিত ও অগোছালোভাবে বৃদ্ধি পায়।
ম্যালিগমেন্ট টিউমার এর বৃদ্ধি পাওয়ার গতি অত্যন্ত বেশি। ম্যালিগমেন্ট টিউমার এই ধরনের টিউমার ক্যান্সারের সৃষ্টি করে।
শরীরের অন্যান্য স্থানে রক্তের মাধ্যমেও ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ছড়িয়ে পড়ে। বেশিরভাগ ক্যান্সার বা ম্যালিগন্যান্ট টিউমার প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করালে ভালো হয়ে যায়। তবে পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে যায় এই টিউমার এর ক্ষেত্রে। পাশাপাশি ম্যালিগমেন্ট টিউমার নিরাময়ের জন্য দীর্ঘ চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।
৫৩
৯১ মন্তব্য