১৯৩১সালে কলকাতা থেকে নয়া দিল্লিতে ভারতবর্ষের রাজধানী স্থানান্তরিত হয়।
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
১৯১১ সালে বাঙালির জীবনে দু’টি রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে গিয়েছিল৷ একটা হল স্বদেশি আন্দোলনের তীব্রতায় ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ আইন রদ করতে বাধ্য হয়েছিল এবং দ্বিতীয়টি ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। অবশ্য আরও একটি স্মরণীয় ঘটনা ঘটেছিল। ব্রিটিশ দর্প চূর্ণ করে মোহনবাগানের আইএফএ শিল্ড জয়।
সেই সময়ের রাজধানী কলকাতায় বাঙালিদের
একরোখা জাতীয়তাবাদী মনোভাব দেখে লর্ড কার্জন তার প্রতিরোধে রাজনৈতিক ভাবে বাঙালিকে দুর্বল করতে ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগকেই মোক্ষম জবাব হবে বলে মনে করেন। আসল উদ্দেশ্য ছিল বাংলায় হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্য বিভেদ সৃষ্টি করে বাংলা ভাগের মধ্যে দিয়ে একটি মুসলিম প্রধান রাজ্য সৃষ্টি করা। কিন্তু কার্জনের পরিকল্পনা বানচাল করতে বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনের উত্তাল হলো বাঙালি৷ এরপরই ১৯১১ সালের ১২ই ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানাস্থরিত করা সহ বাংলা ভাগ রদ করার ঘোষণা করেছিলেন সম্রাট পঞ্চম জর্জ। এই রাজধানী স্থানান্তরের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল আর্থ -সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে কলকাতা তথা বাংলাকে দুর্বল করে দেওয়া। এরপর শুরু হলো কলকাতার এসপ্লানেড- ডালহৌসি অঞ্চল থেকে অধিকাংশ সরকারি দফতর ও পরিষেবা দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা।
অবিভক্ত ভারতবর্ষের নতুন রাজধানী হিসেবে ১৯৩১ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লির যাত্রা শুরু হয়। তার আগে রাজা পঞ্চম জর্জের মাধ্যমে দিল্লি দরবার নামক এক রাজকীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১৯১১ সালের ১২ই ডিসেম্বর নতুন রাজধানী হিসেবে নয়া দিল্লির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল। এর ২০ বছর পর ১৯৩১ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় লর্ড আরউইন নতুন রাজধানী হিসেবে নয়া দিল্লির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ব্রিটিশদের ধারণা হয়েছিল দিল্লি থেকেই সারা ভারতবর্ষ শাসন করা তাদের জন্য সুবিধাজনক। এরপর রাজধানীর জন্য তৎকালীন অবিভক্ত পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে পৃথক অঞ্চল নির্দিষ্ট করে ১৯২৭ সালে এর নামকরণ করা হয় “নতুন দিল্লি”।
এই নতুন রাজধানী নির্মানে চার বছর সময় নির্দিষ্ট করা হলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও তার কারণে অর্থনেতিক সমস্যায় জর্জরিত সাম্রাজ্যবাদী শক্তির শেষ পর্যন্ত সময় লাগে কুড়ি বছর। প্রথমে সিভিল লাইনসে সরকারের একটি অস্থায়ী বাড়ি স্থাপন করে ব্রিটিশরা। এরপর ১৯১২ সালে সরকারি কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং নির্মানের পর ক্রমে ধীরে ধীরে রাইসিনা হিলে পূর্ণাঙ্গ রূপে উত্তর ও দক্ষিণের ব্লকগুলো আত্মপ্রকাশ করতে থাকে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী ১৯৩১ সালে নতুন দিল্লীর এই রাজধানী শহরের জন্য সেই সময় ব্রিটিশদের খরচ হয়েছিল চার মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড।
৭১
১৪৫ মন্তব্য