Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১০:০৩ অপরাহ্ণ

শেষ জামানায় আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ অনুযাযী চলা উচিত

শেষ জামানার মুক্তির পথ



কিয়ামতের বড় বড় আলামত এখনও পরিদৃষ্ট না হলেও ছোট ছোট আলামতগুলো এমনভাবে সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে- যা রোধ করার ক্ষমতা কারও নেই। কিয়ামত কবে হবে- এ প্রশ্নের উত্তর অজানা হলেও এটা স্পষ্ট যে, আমরা এখন অতিবাহিত করছি সৃষ্টিজগতের শেষ সময়টা।

যে সময় প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, কিয়ামতের পূর্বে ঈমান নিয়ে বেঁচে থাকা এতটাই কঠিন, যতটা কঠিন তলোয়ারের সূক্ষ্ম ডগার ওপর খালি পায়ে হাঁটা। তবু আমাদের চলতে হবে ঈমান বাঁচিয়ে, ইসলামকে ধারণ করে।  কিন্তু কি করে পাড়ি দেব এ কণ্টকাকীর্ণ পথ হাতে আলোর মশাল নিয়ে? কি করে এগিয়ে যাবো- ইসলামের ঝান্ডা হাতে?

মহামহিম আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর মমতা অপার। তাই তো তিনি রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন নবী-রাসূলদের। যারা মানুষকে জীবনপথের প্রতিটি মোড় চিনিয়ে দিয়েছেন স্নেহ ও মায়া-মমতার সঙ্গে। তারা দিয়ে গেছেন এ বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার নির্দেশনাও। বিশেষ করে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

তিরমিজি শরিফের (ফিতান অধ্যায়) হাদিসে বলা হয়েছে, হজরত উম্মে মালিক আল বাহযিয়্যাহ (রা.)  থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) একবার ফিতনার আলোচনা করছিলেন। আমি জানতে চাইলাম, তখন উত্তম ব্যক্তি কে হবে? তিনি উত্তর দিলেন- ওই ব্যক্তি, যে নিজের পালিত পশুর হক আদায় করে ও তার রব্বের ইবাদত করে এবং ওই ব্যক্তি; যে তার ঘোড়া আঁকড়ে থেকে শত্রুকে ভয় দেখায় আর শত্রুরাও তাকে ভয় দেখায়।

এ হাদিসে দুটি পথের কথা বলা হয়েছে-

১. লোকসঙ্গ বর্জন করে একাকি নিজের মতো ঈমান নিয়ে বেঁচে থাকা। নিজ প্রয়োজন সেরে কেবলমাত্র স্বীয় রব অভিমুখি হওয়া। অন্যের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা।

২. আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে রাখার পাশাপাশি যারা আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্যতা করবে, তাদের প্রতি আঙুল তোলার স্পর্ধা দেখাবে, তাদের শক্তভাবে প্রতিহত করা। ইসলামের ঝান্ডা হাতে বিজয়ের মশাল জ্বেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। বাতিলকে গুঁড়িয়ে দিয়ে হকের স্লোগান জবানে রাখা।

সুতরাং, ব্যক্তি শুধু নিজের ঈমান বাঁচুক ও ঈমান বাঁচিয়ে ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে যাক- এই দুটিকেই মুক্তির পথ বলা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় হলো- এ দুইয়ের মাঝে উত্তম পথ কোনটি?

এ জন্য দেখা করা যেতে পারে কোরআনে কারিমের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসের বর্ণনা। যেমন, কোরআনে বিধান এসেছে সৎকাজে আদেশের ও অসৎকাজ থেকে নিষেধের। রয়েছে কিয়ামত অবধি কল্যাণ ও সৎকাজের প্রতি মানুষকে আহ্বানের আদেশ।  

এক হাদিসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْه بِيَدِه فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِه، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِه، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ»

যে ব্যক্তি কোনো গর্হিত কাজ দেখবে, সে যেন তা নিজ হাতে প্রতিহত করে। যদি না পারে, তবে যেন জবান দ্বারা প্রতিবাদ করে। তাও যদি না পারে, তবে যেন অন্তর দ্বারা ঘৃণা করে। (জেনে রেখ) তা হলো ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর। ’ –তিরমিজি

বর্ণিত এসব আয়াত ও হাদিসের আলোকে বলা যায়, এ জামানায়ও ওই ব্যক্তিই সবচেয়ে উত্তম হবে; যে হকের পথে অবিচল থাকার পাশাপাশি বাতিলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে। তা হোক অস্ত্রের মাধ্যমে, কলমের মাধ্যমে কিংবা আন্দোলনে।  

ঈমান মুসলমানের সর্বোত্তম সম্পদ। ঈমান না থাকলে কোনো নেক আমলের মূল্য নেই। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘সময়ের কসম! নিশ্চয়ই সব মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। শুধু তারা ব্যতিত; যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে।’ (সুরা আসর: ১-২)

শেষ জামানার একটি নিদর্শন হলোরিদ্দা বা দীন থেকে বের হয়ে যাওয়া মহামারি আকার ধারণ করবে। হাদিস অনুযায়ী, মানুষ জানতেও পারবে না যে, সে আর মুসলিম নেই। অথচ সে নিজেকে মুসলিম দাবি করবে। আমাদের চারপাশেই এরা ঘুরবে, ফিরবে। একই টেবিলে বসে খাবে। আমাদের মেয়ে বোনদের সঙ্গে তাদের বিয়ে হবে। অথচ তারা মুসলিম নয়। মহান আল্লাহ বলেন,

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِآيَاتِ رَبِّهِ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهَا إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنْتَقِمُونَ

 ‘ওই ব্যক্তির চেয়ে আর বড় জালিম আর কে হতে পারে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দিয়ে উপদেশ দেওয়া হয় অথচ সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? অবশ্যই আমি (আল্লাহ) অপরাধীদের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী।’ (সুরা আস-সাজদাহ: ২২)

বিভিন্ন কারণে মানুষ ঈমানহারা হয়। যেমন আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, রাসুলুল্লাহ (স.)-এর আনিত বিধানকে অপছন্দ করা, দীনের কোনো বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা, জাদু করা,  মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফের-মুশরিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা ইত্যাদি কারণে মানুষ দীন থেকে বেরিয়ে যায়।

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا

wbðq Avjøvn Zuvi mv‡_ kixK Kiv‡K ¶gv K‡ib bv| wZwb ¶gv K‡ib G Qvov Ab¨vb¨ cvc, hvi Rb¨ wZwb Pvb| Avi †h Avjøvni mv‡_ kixK K‡i †m Aek¨B gnvcvc iPbv K‡i| সুরা নিসা: ৪৮

وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ

Avi †h Avjøvn I Zuvi ivm~‡ji bvdigvbx K‡i Ges Zuvi mxgv‡iLv j•Nb K‡i Avjøvn Zv‡K Av¸‡b cÖ‡ek Kiv‡eb| †mLv‡b †m ¯’vqx n‡e| Avi Zvi Rb¨B i‡q‡Q AcgvbRbK Avhve| সুরা নিসা: ১৪

(দেখুন- সুরা তওবা: ৬৫-৬৬; সুরা বাকারা: ১০২; সুরা তাওবা: ২৩;; সুরা নিসা: ৬০; সুরা মায়েদা: ৫১)

عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ الله ، قَالَ: «بَادِرُوا بِالْأَعْمَالِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا، وَيُمْسِي مُؤْمِنًا، وَيُصْبِحُ كَافِرًا، يَبِيعُ دِينَهُ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا»

হজরত আবু মুসা আশয়ারি (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের পরবর্তী যুগে ফেতনা হবে গভীর অন্ধকার রাতের মতো। সে সময় মানুষ সকালে মুমিন থাকবে, সন্ধ্যায় কাফের হয়ে যাবে। সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে, সকালে কাফের হয়ে যাবে।  নিজের দ্বীনকে দুনিয়ার সম্পদের বিনিময়ে বিক্রয় করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ১৩/৩৮৫; জুহদ লি ইমাম আহমদ: ১৯৯)

এজন্য প্রিয়নবী (স.) সবসময় এই দোয়া করতেন-

«يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ»

 অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর অটল রাখো।’ (তিরমিজি: ৩৫২২)

মোঃ শাহজাহান আলী

সহকারী অধ্যাপক

বাঁশগ্রাম কামিল (এম.এ) মাদ্রাসা

কুমারখালী, কুষ্টিয়া।

মন্তব্য করুন