সহকারী শিক্ষক
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
স্বনামধন্য বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম এর আজ ৮৬-তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।
জামাল নজরুল ইসলাম (২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯ - ১৬ মার্চ ২০১৩) বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও বিশ্বতত্ত্ববিদ। তিনি মহাবিশ্বের উদ্ভব ও পরিণতি বিষয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত। ১৯৮৩ সালে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস কর্তৃক প্রকাশিত “দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স” তার একটি সুবিখ্যাত গবেষণা গ্রন্থ।
অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন একাধারে একজন পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যাোতির্বিজ্ঞানী, ও বিশ্বতত্ত্ববিদ।
বিজ্ঞানের জগতে জামাল নজরুল ইসলামের অবদান কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী ডঃ আব্দুস সালামের কথায়ই বোঝা যায়। তিনি বলেছিলেন,
এশিয়ার মধ্যে আমার পরে যদি দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি নোবেল পুরস্কার পায়, তবে সে হবে প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম।
কতজন পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল জয়ী নোবেল বক্তব্যে তাঁর কথা স্মরণ করেছে তা কি আমরা জানি? প্রিন্সটন বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রফেসর ফ্রিম্যান ডাইসন লিখেছিলেন, “ আমার ব্যক্তিগত গবেষণার উপর তাঁর লেখা পেপার এবং মহাবিশ্বের ভবিষ্যতের উপর লেখা বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব আছে। বাংলাদেশের প্রতি তাঁর আনুগত্যকে আমি বিশেষ প্রশংসার চোখে দেখি যার কারণে বিশ্বের অনেক লোভনীয় প্রস্তাব উপেক্ষা করে তিনি নিজ জন্ম ভুমিতে ফিরেছেন এবং তাঁর দেশ ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন”
এমন গুণীদের কথা বলে শেষ করতে পারব না।
ড. ইসলাম পঞ্চাশটিরও বেশি গবেষণাপত্র এবং বই লিখে গেছেন যার অধিকাংশই প্রকাশিত হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত জার্নালসমূহে। এরমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কেমব্রিজ প্রেস থেকে প্রকাশিত “দ্য আল্টিমেট ফেইট অব দ্য ইউনিভার্স”। ১৯৮৩ সালে বইটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বিশ্বের বিজ্ঞানী মহলে হৈ চৈ পড়ে যায়। মহাবিশ্বের শেশ পরিণতি কি হতে পাঁড়ে তার ওপর লেখা এই বইটি ফরাসি, ইতালীয়, জার্মান, পর্তুগিজ, সার্বোক্রোয়েট সহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত।দ্বিতীয় বই “রোটেটিং ফিল্ডস ইন জেনারেল রিলেটিভিটি প্রকাশিত হয় কেমব্রিজ প্রেস থেকে ১৯৮৫ সালে। এছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে “অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু ম্যাথমেটিক্যাল কসমোলজি (১৯৯২)” এবং “ক্লাসিকাল জেনারেল রিলেটিভিটি”। তার লেখা বইগুলো কেমব্রিজ, অক্সফোর্ড, প্রিন্সটন, হার্ভার্ডের মতো বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য।
১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ডে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে এছাড়াও তিনি কেমব্রিজের ইনস্টিটিউট অফ থিওরেটিক্যাল অ্যাস্ট্রোনমি-তে (বর্তমানে ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোনমি),ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি,ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় লন্ডনের কিংস কলেজ ইউনিভার্সিটি কলেজ, কার্ডিফ (বর্তমানে কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়) ,সিটি ইউনিভার্সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেন। কিন্তু ১৯৮৪ সালে তিনি যুক্ত্ররাস্ট্র ও যুক্তঅরাজ্যের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ টাকা বেতনের লোভনীয় চাকরি, গবেষণার অফুরন্ত সুযোগ, আর নিশ্চিত নিপাট জীবন সব ছেড়ে ছুড়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিধ্যালয়ে তিন হাজার টাকার প্রফেসর পদে এসে যোগ দিলেন।
দেশে ফিরে এসে জামাল নজরুল ইসলাম গড়ে তুলেছেন রিচার্স সেন্টার ফর ম্যাথমেটিক্যাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্স (আরসিএমপিএস)যার মূল লক্ষ্য হল মৌলিক বিজ্ঞান চর্চার জন্য বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করা।এই সংস্থাটির আয়োজনে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামঅনুষ্টিত হয়েছে , যেখানে বেশ কয়েকজন নোবেলবিজয়ী বিজ্ঞানীসহ বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীরা এসেছেন।
“কেন ফিরে এসেছেন?” এমন প্রশ্নের জবাবে একবার তিনি বলেছিলেন,
আমি আমার দেশকে ভালোবাসি। আমি এখান থেকে নিতে আসিনি, দিতে এসেছি।
অনেক ব্যক্তিকেই এই দেশে রাষ্ট্রীয় ভাবে স্মরণ করা হয়, অধ্যাপক জামাল নজরুলকে স্মরণ করা হয় না কারণ তিনি যে নিরহংকারী ছিলেন।তিনি ছিলেন একজন পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যাোতির্বিজ্ঞানী, ও বিশ্বতত্ত্ববিদ।
(উইকিপিডিয়া)❤️
৭১
১৪৫ মন্তব্য