সহকারী শিক্ষক
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
জেনে নিই অ্যাঁইট্টা-কলা/বিচি-কলা/দয়া কলার উপকারিতা
অ্যাঁইট্টা-কলা/বিচি-কলা বা দয়া কলা।
বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতের কলা বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। তারমধ্যে আনাজিকলা ও বিচিকলা সীমিত আকারে উৎপাদন হয়। বিভিন্ন কলার মধ্যে অন্যতম স্বাদের ফল বিচিকলা। এটি কাঁচা ও পাকা দুভাবে খাওয়া যায়। ছোট মাছ দিয়ে কাঁচা বিচিকলা রান্না বেশ স্বাদের আর পাকা বিচিকলা দিয়ে তৈরী পিঠা দারুণ মজার। একসময় সকালের নাস্তায় আটিয়া কলা দই, চিড়া-মুড়ি কিংবা ছাতুর সঙ্গে আটিয়া কলা ভীষণ জনপ্রিয় ছিলো।
বিচিকলা ব্যতিক্রমধর্মী এক ধরনের কলা, সাধারণত কলা বীজবিহীন ফল হলেও এতে প্রচুর বীজ থাকে। বিচি কলার গাছ বেশ উঁচু, লম্বা ও শক্ত হবার ফলে ঝড়, তুফানে তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়না। সাধারণ কলা একবছরের মধ্যে ফল আহরণ করা গেলেও, বিচি কলা পরিপক্ব হতে সময় লাগে দেড়বছর।
বছরের যে কোনো সময়েই বিচি কলা রোপণ করা যায়। অতিমাত্রায় বর্ষা ও অতিরিক্ত শীতের সময় চারা না লাগানোই উত্তম। বিশেষ কোনো যত্ন ছাড়াই বিচিকলা উৎপন্ন হয়। পাকা ফল হলুদ রঙের এবং সুমিষ্ট। দেশের স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে বিচিকলা অত্যন্ত জনপ্রিয়।
উপকারিতা:
পাকা বিচি কলায় প্রচুর পরিমাণে শর্করা বিদ্যমান, যা শক্তির অন্যতম উৎস। বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন এ, বি-৬, সি এবং ডি এর একটি অসাধারণ উৎস। এটি পটাশিয়ামের একটি অনন্য উৎস, যেখানে একজন মানুষের দৈনিক প্রয়োজনের ২৩% পটাশিয়াম একটি কলা থেকেই পাওয়া যায় যা আমাদের পেশি ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় বি-৬ ও লৌহ বিচিকলায় বিদ্যমান। এর অনেক ঔষধি গুণ আছে। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস থাকে, যা শরীরে স্বাস্থ্যকর টিস্যু গঠনে কাজ করে। বিচি কলা পাকস্থলীর সমস্যা বিশেষত আলসার নিরাময়ের জন্য ভালো কাজ করে। গ্যাস্ট্রিক জনিত অম্লত্ব প্রশমন সহ কলা কোষ্টকাঠিন্য দূরীকরণে সাহায্য করে ও কৃমিজনিত সমস্যাও দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, শুধুমাত্র ২টি কলা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে তিন ঘন্টা কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়।
০
০ মন্তব্য