Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ মার্চ, ২০২৪ ০৭:২৯ পূর্বাহ্ণ

তেল জাতীয় ফসল "তিল" চাষ পদ্ধতি।

তেল জাতীয় ফসল তিল চাষ পদ্ধতি।


তিল খুবই জনপ্রিয় এক তেলবীজ | খাবারের তেল হিসাবে সরিষার তেলের থেকেও তিলের তেল কিন্তু বেশ স্বাস্থ্য উপকারী।

তিলের ইংরেজি নাম হলো Sesame এবং তিলের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Sesamum indicum. তিল অন্যান্য ফসলের থেকেও তিল চাষ খুবই সহজ। যেকোন পরিত্যক্ত জমিতে তিলের চাষ করা যায় এবং তিল চাষের তেমন খরচও হয় না।


তিলের জাত:


বর্তমানে উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ পাওয়া যায়।

অধিক ফলন পেতে উন্নত জাত যেমন- বিনা তিল-৩, বিনা তিল-৪, বারি তিল-৩ এবং বারি তিল-৪ খুবই উপযোগী।


জমি ও মাটি:


বেলে দো-আঁশ বা দো-আঁশ মাটি তিল চাষের জন্য উপযুক্ত তবে পানি নিস্কাশনের সুবিধাযুক্ত অন্যান্য মাটিতেও তিল চাষ করা যেতে পারে।


জমি তৈরিঃ


জমির প্রকারভেদে ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে জমি প্রস্তুত করতে হবে।


বপনের সময়: 


তিল খরিফ ও রবি (১৬ অক্টোবর-১৫ মার্চ বা কার্তিক-ফাল্গুন) উভয় মৌসুমে চাষ করা যায়। খরিফ-১ মৌসুমে অর্থাৎ ফাল্গুন-চৈত্র মাসে (মধ্য-ফেব্রুয়ারি হতে মধ্য-এপ্রিল), খরিফ-২ মৌসুমে অর্থাৎ ভাদ্র মাসে (মধ্য-আগস্ট হতে মধ্য-সেপ্টেম্বর) তিলের বীজ বপনের উত্তম সময়।


বীজের হার ও বপন পদ্ধতি:


ছিটিয়ে বপনের ক্ষেত্রে হেক্টর প্রতি ৭.৫-৮.০ কেজি এবং সারিতে বপন করার জন্য হেক্টর প্রতি  ৬.০-৭.০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। সারিতে বপনের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ১২ ইঞ্চি এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১.৫-২.০ ইঞ্চি রাখতে হবে।


সার ও প্রয়োগ পদ্ধতি:


প্রতি একরে ৪০-৫০ কেজি ইউরিয়া,  

৫২-৬০ কেজি টিএসপি,  

১৬-২০ কেজি এমওপি এবং 

৪০-৪৫ জিপসাম সার 

শেষ চাষের পূর্বে প্রয়োগ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। জমি প্রস্তুতের শেষ চাষের পূর্বে অর্ধেক ইউরিয়া ও অন্যান্য সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পর গাছে ফুল আসার সময় ফসলে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া জমিতে জিংক ও বোরন ঘাটতি এলাকায় একর প্রতি যথাক্রমে ৪ কেজি হারে জিংক সালফেট ও ৩ কেজি হারে বরিক এসিড প্রয়োগ করতে হবে।


সেচ ও নিস্কাশন:


সাধারণত খরিপ-১ মৌসুমে তিল বোনার সময় প্রায়ই রসের অভাব পরিলক্ষিত হয়। মাটিতে পর্যাপ্ত রস বা আদ্রতা না থাকলে বীজ গজানোর বিষয়টি নিশ্চত করতে বপনের পূর্বে জমিতে অবশ্যই একটি সেচ দিতে হবে এবং মাটিতে জোঁ আসার পর চাষ দিয়ে বীজ বপন করতে হবে। তিল ফসল খরা সহনশীল হলেও ফুল আসার সময় জমিতে রসের অভাব হলে (সাধারণত বীজ বোনার ২৫-৩০ দিন পর) ফুল আসার পূর্বে এক বার সেচের প্রয়োজন হয়। জমিতে রস না থাকলে ৫৫-৬০ দিন পর ফল ধরার সময় আর একবার সেচ দিতে হবে। উল্লেখ্য যে, তিল ফসল দীর্ঘ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তাই জমির মধ্যে মাঝে মাঝে নালা কেটে বৃষ্টি বা সেচের অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে ফসলকে রক্ষা করতে হবে।


আগাছা দমন এবং মালচিং:


অধিক ফলন পেতে হলে জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে। চারা অবস্থায় প্রায় ২০ দিন পর্যন্ত গাছের বৃদ্ধি ধীর গতিতে হতে থাকে। ফলে এ সময় জমির আগাছা দ্রুত বেড়ে তিল গাছ ঢেকে ফেলতে পারে। তাই এ সময় একটি নিড়ানী দিতে হবে। তাছাড়া বীজ বপনের পূর্বেই জমি থেকে ভালভাবে আগাছা পরিস্কার করে নিতে হবে।


বালাই ব্যবস্থাপনা:


কান্ড পঁচা রোগ, বিছা পোকা ও হক মথ তিল ফসলের বেশ ক্ষতি করে।


কান্ড পঁচা রোগ: এ রোগের আক্রমন কমানোর জন্য বীজ বপনের পূর্বে ২-৩ গ্রাম ভিটাভেক্স-২০০ ছত্রাকনাশক প্রতি কেজি বীজের সাথে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।  জমিতে কান্ডপঁচা রোগ দেখা দিলে সাথে সাথে বাজারে প্রচলিত ছত্রাকনাশক পাওয়া যায় যেমন বেভিষ্টিন বা ডাইথেন এম-৪৫ দুই গ্রাম হারে বা রোভরাল এক গ্রাম হারে প্রতি লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ৮-১০ দিন পর পর ২-৩ বার ফসলে স্প্রে করে রোগটি দমন করা যেতে পারে।


বিছাপোকা: এ পোকা ডিম পাড়ার সাথে সাথে ডিমসহ পাতা ছিড়ে কেরোসিন মিশ্রিত পানিতে বা ডিজেলে ডুবিয়ে মেরে ফেলা যেতে পারে। পোকার আক্রমন বেশি হলে নাইট্রো ৫০৫ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ২ মি.লি. মিশিয়ে স্প্রে করেও বয়স্ক কীড়া দমন করা যেতে পারে।


জলাবদ্ধতা বা অতিরিক্ত আর্দ্রতা তিল গাছের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এক্ষেত্রে দ্রুত গোড়া পঁচা রোগ হয়ে তিলগাছ মরে যায়। এ জন্য তিল চাষের জমি প্রস্ত্ততের সময় পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।


ফসল সংগ্রহ ও ফলন:


তিল ফসল সংগ্রহ করতে সাধারণত জাত ভেদে ৮৫-৯০ দিন সময় লাগে। তিলের জাতীয় গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৫০০-৬০০ কেজি। উন্নত জাতের ব্যবহার, সঠিক সময়ে সেচ ও পানি ব্যবস্থা এবং উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে তিলের ফলন প্রতি হেক্টরে ১২০০-১৫০০ কেজি পাওয়া সম্ভব।

মন্তব্য করুন

ব্লগ