সহকারী শিক্ষক
২৪ এপ্রিল, ২০২৪ ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
সম্মিলিত দোয়া (মুনাজাত) সর্বাবস্থায় জায়েজ ও সুন্নতে সাহাবা!
(এ হাদীস পাওয়ার পর আমি আমার পূর্বের মত থেকে রুজূ করছি, অর্থাৎ আমি সম্মিলিত মুনাজাতকে ইতিপূর্বে 'বিদয়াত' মনে করতাম, এর বিরোধিতাও করতাম; এমনকি সম্মিলিত মুনাজাতকে বিদয়াত আখ্যা দিয়ে "দু'আ-এ রাসূল" নামে কিতাব-ও রচনা করেছিলাম, আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন!)
হযরত সালমান ফারসী (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন
عَنْ سَلْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:"مَا رَفَعَ قَوْمٌ أَكُفَّهُمْ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يَسْأَلُونَهُ شَيْئًا، إِلا كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَضَعَ فِي أَيْدِيهِمُ الَّذِي سَأَلُوهُ" . (رواه الطبرانی للكبير)
قال الهيثمي في مجمع الزوائد: رواه الطبراني ورجاله رجال الصحيح.
“যখনই কিছু মানুষ আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়ার জন্য তাদের হাতগুলিকে উঠাবে, তখনই আল্লাহর উপর হক্ক বা নির্ধারিত হয়ে যাবে যে তিনি তারা যা চেয়েছে তা তাদের হাতে প্রদান করবেন।”
হাদীসটির সনদে উল্লিখিত সকল রাবী সহীহ বুখারীর- তাহকীক ইমাম হাফিয নূরুদ্দীন আল হাইছামী রাহিমাহুল্লাহ (৭৩৫ হি./১৩৩৫ খ্রি.-৮০৭ হি./১৪০৫ খ্রি.)। দেখুন, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ-হাইছামী ১০/১৬৯।
প্রামাণ্য স্ক্যানকপির জন্য "ইরশাদুল মুহতাদীন" ((إرشاد المهتدين في إيضاح بعض المسائل من فروع الدين مجموعة رسائل فقهية)) কিতাব দ্রষ্টব্য
উল্লেখ্য, শায়খ আলবানীর তাহকীক মতে, এর সনদ জঈফ। কিন্তু আলবানী সাহেবের এ তাহকীক ইমাম হাফিয নূরুদ্দীন আল হাইছামী রাহিমাহুল্লাহ-এর উক্ত তাহকীকের সামনে অগ্রহণযোগ্য। কেননা, সহীহ বুখারীর রাবীদের সূত্রে বর্ণিত হাদীসের সনদকে আলবানী সাহেব জঈফ বলেছেন, যা রীতিমতো অবাককরা বৈ নয়-লিখক।
উপসংহার - সর্বাবস্থায় সম্মিলিত মুনাজাতের বৈধতার পক্ষে রাসূল (সা.) থেকে সহীহ সূত্রে কওলি ও মারফূ হাদীস পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু এতদসংক্রান্ত ফে'লী ও সরীহ কোনো হাদীস অবশ্যই পাওয়া যায় না। তথাপি এ মর্মে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, উল্লিখিত কওলী ও মারফূ হাদীসের আলোকে ফরজ সালাতের পর কিংবা সালাতের বাহিরে, সর্বাবস্থায় সম্মিলিত মুনাজাত আর যাইহোক, খিলাফে শরাহ নয়; বড়জোর জায়েজ বা সুন্নাতে সাহাবা সাব্যস্ত। এতে কোনো দ্বিমত থাকতে পারেনা। আল্লাহু আ'লাম।
৪
৪ মন্তব্য