Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ মে, ২০২৪ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

পদ্মা সেতু: উন্নয়ন ও সম্ভাবনা রচনা

সূচনা:

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ওপর সগর্ভে দণ্ডায়মান একটি সেতু। এই সেতু সংযােগ ঘটিয়েছে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের । এই সেতুকে কেন্দ্র করেই এখন মনে মনে স্বপ্ন বুনছে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ। সকলের আশা এই পদ্মা সেতু বদলে দেবে দেশের অর্থনীতি; উন্নত হবে মানুষের জীবনযাত্রা। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় এই প্রকল্প খুলে দেবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

ভৌগােলিক গুরুত্ব:

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশের বুক চিরে বয়ে চলেছে অসংখ্য নদনদী। তাই যাতায়াত ব্যবস্থায় আমাদের প্রতিনিয়তই নৌপথের আশ্রয় নিতে হয়। এতে যােগাযােগ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতা ও মন্থর গতি পরিলক্ষিত হয়। এই যাতায়াত ব্যবস্থাকে গতিশীল করার জন্য প্রয়ােজন হয় সেতুর। সেতু থাকলে নদীর দুই দিকের মানুষের যােগাযােগ ব্যবস্থায় যেমন উন্নতি হয়, তেমনি ব্যবসায়-বাণিজ্য ভালাে হওয়ায় মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটে।

পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রেক্ষাপট:

পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন । এজন্য এই অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকারের কাছে তাদের দাবি বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে এসেছে। অবশেষে এই সেতুর সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় এনে ১৯৯৮ সালে প্রথম সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সমীক্ষা যাচাইয়ের পর ২০০১ সালে এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু অর্থের জোগান না হওয়ায় সেতুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে । পরে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এই সেতুতে রেলপথ সংযুক্ত করে।


প্রতিবন্ধকতা ও বাংলাদেশের সক্ষমতা:

পদ্মা সেতু স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় প্রকল্প । বিভিন্ন সময় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখােমুখি হয়েছে এই প্রকল্প। ২০০৯ সালের পর বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের সাথে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয় । কিন্তু ২০১২ সালে ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক; অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে পদ্মা সেতু প্রকল্প । পরবর্তীতে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘােষণা দেয়। ষড়যন্ত্রের বাধা জয় করে এগিয়ে চলে পদ্মা সেতুর কাজ; নিজস্ব অর্থায়নে দৃশ্যমান হতে থাকে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

পদ্মা সেতুর বর্ণনা:

সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থাপনা পদ্মা সেতু। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। সেতুর এক অংশ পদ্মা নদীর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত এবং অপর অংশ নদীর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে যুক্ত। এই সেতুটি দ্বৈত স্তরের;উপরে যানবাহন এবং নীচে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে এ সেতুতে। চার লেন বিশিষ্ট ৭২ ফুট প্রস্থের এ সেতুর নিচতলায় রয়েছে রেল লাইন। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর উভয় পাশে ১২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। মূল সেতুর নির্মাণ কাজ করেছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। সেতু নির্মাণের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বুয়েট এবং কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশন।মূল সেতুতে রয়েছে ৪২টি পিলার থাকবে, যার মধ্যে ৪০টি নদীতে এবং দুইটি তীরে। নদীর মধ্যে, 40টি নদী স্তম্ভের প্রতিটিতে 6টি করে মোট 240টি পাইল থাকবে। এছাড়া সেতুর সংযোগের জন্য উভয় পাশে ১২টি পিলারে আছে ২৪টি পাইল। পিলারের ওপর বসানো হবে একচল্লিশটি স্প্যান। সেতুটি ১০০ বছরের আয়ুষ্কালের কথা মাথায় রেখেই ডিজাইন করা হয়েছে।


মন্তব্য করুন