Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ মে, ২০২৪ ০২:০২ অপরাহ্ণ

অসিয়ত বা উইল। কোন মৃত ব্যক্তি কর্তৃক মৃত্যুর আগে তার সম্পত্তি বিলি ব্যবস্থা করার জন্য যে ইচ্ছা ব্যক্ত করেন তা উইল।

অসিয়ত বা উইল।                                                        কোন মৃত ব্যক্তি কর্তৃক মৃত্যুর আগে তার সম্পত্তি বিলি ব্যবস্থা করার জন্য যে ইচ্ছা ব্যক্ত করেন তা উইল। কোন মুসলমান ইসলামি আইন অনুযায়ী এরূপ কোন ইচ্ছাপত্র দিলে তাকে অছিয়ত বলে। উইল এবং অসিয়ত একমাত্র দলিল যা রেজিষ্ট্রি করার দরকার হয় না।


মৃত্যু শয্যায় কোন ব্যক্তি উইল করার পর বেঁচে উঠলে তার খাওয়া-পরার যাতে কোন অসুবিধা না হয় সে জন্য উইলকারী কর্তৃক উইল বাতিল করার বিধান আছে। দান বা হেবা সম্পন্ন হলে হেবা বা দানকারীর হেবা বা দান বাতিল করার কোন অধিকার থাকে না। একই সম্পত্তি একাধিক ব্যক্তিকে উইলকারী তার জীবদ্দশায় উইল করতে পরেন। সর্বশেষ যার নামে উইল করা হয় উইলকারীর মৃত্যুর পর সেই উইলকৃত সম্পত্তির মালিক হয়। হেবা বা দানের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যার নামে হেবা বা দান করা হবে সেই সম্পত্তির মলিক হবে। হেবার ক্ষেত্রে হেবাকৃত সম্পত্তির দখল হস্তান্তর না হলে হেবা সম্পন্ন হয় না। কিন্তু উইলের ক্ষেত্রে দখল হস্তান্তর না করলেও উইল বৈধ।


উইল বা অসিয়ত রেজিষ্ট্রি করার প্রয়োজন পড়ে না, রেজিস্ট্রেশন আইনের ১৮ ধারামতে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তবে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস আবেদন করলে উইল সম্পর্কিত রেজিষ্ট্রার অন্তর্ভূক্তি করানো যায়।

কোন হিন্দু ব্যক্তি তার সমূদয় সম্পত্তি যে কোন ব্যক্তিকে উইল করতে পারেন।


হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে জেলা জজ আদালত হতে উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল প্রবেট করতে হয়। প্রবেট ‘জুডিশিয়াল কনফারমেশন’। মুসলমানদের অসিয়ত প্রবেট করার দরকার হয় না।


একজন মুসলমান তার সমূদয় সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগের বেশি উত্তরাধিকার নয় এমন কাউকে উইল করতে পারে না। তবে উত্তরাধিকারদের মধ্যে মোট সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগের বেশি উইল করতে পারে। ১৯৯৬ সালের হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ মোতাবেক আইনত বৈধ।


উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা গেল যে, অছিয়ত হলো আরবী শব্দ। যার অর্থ ভবিষ্যৎ দান৷ কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি কেমন করে বন্টন করা হবে তা তার মৃত্যুর পূর্বে লিখিত বা মৌখিকভাবে নির্ধারন করে যাওয়ার আইন সম্মত ঘোষনাই হলো অছিয়ত ৷


 


অছিয়ত এর বৈশিষ্ট :

১। অছিয়ত নামা অছিয়ত কারীর মৃত্যুর পর কার্যকারী হয়৷

২। মুসলীম শরীয়ত মতে এক-তৃতীয়াংশের বেশি সম্পত্তি অছিয়ত করা যায় না ৷

৩। উইলকে মুসলীম শরীয়তে অছিয়ত নামা বলে৷

৪। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির যথাযথ বন্টন করার পদক্ষেপ নেন।

৫। অমুসলীমগন অছিয়ত এর যায়গায় উইল লিখে এর নমুনা ব্যবহার করতে পারেন ৷

৬। অছিয়ত নামা রেজিষ্ট্রি করার প্রয়োজন নেই। তবে অছিয়তকারীর মৃত্যুর পর সংশ্লিষ্ট জেলা জজ আদালতে দাখিল করে প্রবেট করাতে হবে ৷


 


অছিয়তের শর্তঃ

১। অছিয়তকারী তার সকল সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের বেশি অছিয়ত করতে পারবেন না ৷

২। অছিয়ত, অছিয়ত দাতার মৃত্যুর পর কার্যকারী হয়৷

৩। সুস্থ মস্তিস্ক সম্পন্ন যে কোন সাবালক ব্যক্তি উইল করতে পারেন ৷

৪। অছিয়তকারীর ইচ্ছা সুস্পষ্ট ও সঠিকভাবে নির্ণয়যোগ্য হতে হবে ৷

৫। অছিয়ত যে কেউ গ্রহন করতে পারেন ৷


যাদের উদ্দেশ্য অছিয়ত করা যায়ঃ

১। ব্যক্তির উদ্দেশ্যে

২। ধর্মীয় উদ্দেশ্যে

ব্যক্তির উদ্দেশ্যে উইল আবার দুই প্রকার :

১। ওয়ারিশের বরাবরে উইল ৷

২। ওয়ারিশ নয় এমন ব্যক্তির বরাবরে উইল ৷


উইলের ফরম:

উইলের জন্য ইসলামী আইনে নিদিষ্ট কোন ফরম নেই। মুসলিমের উইল লিখিত না হলেও চলে, মৌখিক উইলও আইনগতভাবে সিদ্ধ। তবে সংগত কারণে প্রায় সবক্ষেত্রে উইল লিখিত হয়ে থাকে। লিখিত না হলে অসুবিধা অনেক। মুখের কথার উপর সত্য প্রতিষ্ঠা করা খুবই কঠিন। উইল লিখিত হলে যে স্বাক্ষরিত হতে হবে এমন কোন কথা নেই। স্বাক্ষরিত হলে প্রত্যায়িত হওয়া আবশ্যক নয়। উইলকারীর অভিপ্রায় বুঝতে পারা গেলেই যথেষ্ঠ। মৃত্যুকালে একটি চিঠি লিখে সম্পত্তির বিন্যাস সম্পর্কে নিদেশ দিয়ে গেলে সেই চিঠি উইলরুপে গন্য হতে পারে।


লেখা সম্ভব না হলেও, শুধুমাত্র ইশারা বা ভঙ্গীর মাধ্যমে উইল সৃষ্টি করা যায়। নজির রয়েছে, মৃত্যুর সময় এক ব্যক্তি কথা বলতে অক্ষম হয়ে পড়ে। মৃত্যুর পরে তার সম্পত্তির কি ব্যবস্থা হবে তা সে অংগভংগি দ্বারা বুঝিয়ে দেয়। সে কি বলতে চায় তা সকলে বুঝতে পারে। এখানে আইনসংগত উইল সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিমের উইল প্রত্যায়িত হওয়া অনাবশ্যক। কারণ কুরআন শরীফে সাক্ষ্য সম্পর্কে যে কথা আছে তা নির্দেশমূলক নয়, উপদেশমূলক। উইলের জন্য স্বাক্ষরের দরকার নেই, এমন কি সত্যায়িতও নয়। মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশগণ উইল অস্বীকার করলে তা প্রমাণের জন্য দুজন স্বাক্ষী পেশ করতে হবে।


বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে উইল সম্পকিত বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।


উদাহরণ-১। কালাম সাহেবের এর পুত্র ও কন্যা আছে। তিনি উইল করে ২৫,০০০ টাকা তার কনিষ্ঠ পুত্রকে এবং আরও ২৫,০০০ টাকা রহিম নামে একজন  অনাত্মীয়কে দান করেন। তিনি ৭৫,০০০.০০ টাকার নীট সম্পত্তি রেখে মারা যান। কালাম সাহেবের মৃত্যুর পর তার জ্যেষ্ঠপুত্র ও কন্যা উইল কাযকরী করতে অস্বীকার করল।


সমাধান: কনিষ্ঠ পুত্রের অনুকূলে ২৫,০০০ টাকার সম্পত্তি উইলের মাধ্যমে দান বৈধ হবে। যদি অবশিষ্ট উত্তরাধিকারীগন তা উইলদাতার মৃত্যুর পর অনুমোদন করে। প্রশ্নমতে, জ্যেষ্ঠপুত্র ও কন্যা উইলটি অনুমোদন করতে অস্বীকার করেছিল। সুতরাং কনিষ্ঠ পুত্রের অনুকূলে উইলটি বাতিল হবে


একজন  অনাত্মীয় রহিম উইলের মাধ্যমে ২৫,০০০ টাকা পেয়েছে। তার প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ উইলদাতার কাছে সম্পত্তির ৭৫,০০০ টাকার এক তৃতীয়াংশের অধিক নয়। সুতরাং উইলটির দান বৈধ হবে ।


উদাহরণ-২। জমির মিয়া মৃত্যর আগে তার স্ত্রীর অনুকূলে ২০০০ টাকার একটি উইল করে যান। মৃত্যর পর তার দুই পুত্র উক্ত উইলে তাদের সন্মতি দেয় কিন্তু তার দুই মেয়ে এতে সন্মতি দেয় নাই। জমির মিয়া তার স্ত্রী, দুই পুত্র এবং দুই কন্যা ৩,০০০ টাকার  মূল্যের সম্পত্তি রেখে মারা যান ।


সমাধান: এ উইলটির কোন আইনগত মূল্য নাই। কারন, জমির মিয়া তার সব ওয়ারিশদের সন্মতি ছাড়াই এক তৃতীয়াংশের অধিক সম্পত্তি তার স্ত্রীর সপক্ষে উইল করেছে। জমির মিয়ার সম্পত্তি ৩,০০০.০০ টাকার মধ্যে তার স্ত্রীর অনুকূলে ২,০০০ একটি উইল করেছেন, যাতে তার পুত্র সন্মতি দিলে ও দুই কন্যা সন্মতি প্রদান করেন নাই । 

মন্তব্য করুন