ইন্ট্রোভার্ট কিংবা অন্তর্মুখী মানুষ হচ্ছে তারা, যারা নিজেদের মতো থাকতে ভালোবাসেন। ভিড় এবং আড্ডার আসরে তাদের খুব একটা পাওয়া যায় না। এরা নিরিবিলি নিজেদের সময় দিতেই ভালোবাসেন। আর তাদের এই আচরণের জন্য অনেকেই তাদের অসামাজিক বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন। বিদ্যালয়, চাকরিক্ষেত্রে কিংবা যেকোনো সামাজিক জীবনে অসামাজিক তকমাটি নিয়েই তাদের পথ চলতে হয়। কিন্তু আপনার কী মনে হয়, ইন্ট্রোভার্টরা কি আসলেই অসামাজিক?
বিদ্যালয়ে সবাই যখন হৈ-হুল্লোড় করছে তখন লাস্ট বেঞ্চের এককোণে বসে থাকা একটি ছেলে, মুখরিত আড্ডায় চুপটি করে বসে থাকা কোনো বন্ধু কিংবা অফিসের ডেস্কে একমনে নিজের মতো কাজ করতে থাকা কোনো সহকর্মী। এভাবেই বৃত্তের বাইরে বাস করা এই মানুষকেই বলা হয় ইন্ট্রোভার্ট। এরা নিজেদের মতো নিজেদের তৈরি জগৎ নিয়ে থাকতেই ভালোবাসে। খুব কাছের কেউ ছাড়া তার সেই নিরাপত্তা বলয়ে আবদ্ধ জগতে সহজে কারো অনুপ্রবেশের অধিকার নেই।
কিন্তু এক্সট্রোভার্ট দুনিয়ার মানুষের কাছে এটি একটি উটকো ঝামেলা। তারা অনেকেই ইন্ট্রোভার্ট মানুষকে অসামাজিক, অহংকারী কিংবা বেমানান বলে আখ্যা দেন। তাদের এই মিশতে না পারার সীমাবদ্ধতাটিকে তারা সহজভাবে নিতে পারে না। ফলে অন্তর্মুখী মানুষ নিজেকে আরও গুটিয়ে ফেলে নিজের মধ্যে।
অথচ অন্তর্মুখী মানুষদের কমফোর্ট জোন নিশ্চিত করে তাদের সঙ্গে মিশতে পারলে তারাও হয়ে উঠতে পারে খুব ভালো একজন বন্ধু।
কিন্তু কি করে চেনা যায় এসব অন্তর্মুখী মানুষের?
১। এরা সহজে কারো সঙ্গে মিশতে পারে না।
২। এরা কম কথা বলে এবং বাক্যলাপে অপটু হয়।
৩। সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগ্রহ দেখায় না।
৪। আড্ডায় সহজে এদের দেখা যায় না।
৫। এরা ভালো শ্রোতা কিন্তু কথা বলতে গেলে ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়।
৬। পছন্দের কোনো বন্ধুর সঙ্গে পছন্দের কোনো বিষয় নিয়ে এরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতে পারে।
৭। মানুষ এদেরকে ভুল বুঝলেও নিজেকে প্রমাণ করতে আগ্রহ পায় না।
শঙ্কার কথা হচ্ছে, আমাদের সমাজে কেউ এক্সট্রোভার্ট হলে তাকে সহজলভ্য এবং সস্তা ভাবা হয়। অন্যদিকে ইন্ট্রোভার্টদের ভাবা হয় অহংকারী আর অসামাজিক হিসেবে। অথচ এই দুই ধরনের মানুষই স্বাভাবিক। ব্যক্তিত্ব আর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আপনি কী ইন্ট্রোভার্ট, মিলিয়ে নিতে পারেন বৈশিষ্ট্য দিয়ে।
৭১
১৪৫ মন্তব্য