সহকারী শিক্ষক
০৫ জুন, ২০২৪ ০৮:২৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং এর ইতিহাস বেশ প্রাসঙ্গিক এবং প্রগতিশীল। ফ্রিল্যান্সিং খাতটি বিগত দশকে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এটার প্রারম্ভিক যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এর কিছু প্রধান ধাপ ও বিবর্তনের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে:
শুরুর সময়
বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং এর ইতিহাস শুরু হয় ২০০০ সালের গোড়ার দিকে। ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রচলন এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতার ফলে তরুণ প্রজন্ম অনলাইন জগতে কাজের সুযোগ খুঁজতে শুরু করে। ২০০৮-২০১০ সালের মধ্যে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেমন Upwork (আগের নাম ছিল oDesk এবং Elance), Freelancer, এবং Fiverr বাংলাদেশে জনপ্রিয় হতে থাকে।
প্রথম ধাপ
২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০১০ সালের দিকে, কিছু অগ্রণী ব্যক্তি ফ্রিল্যান্সিং কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করেন। তারা প্রধানত ডেটা এন্ট্রি, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন, এবং কন্টেন্ট রাইটিং এর মতো কাজগুলো করতেন। এই সময়ে বাংলাদেশে কিছু ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি গড়ে উঠতে শুরু করে।
দ্বিতীয় ধাপ
২০১০ সালের পরে, ফ্রিল্যান্সিং এর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম আর্থিক স্বাবলম্বী হতে থাকে। সরকারও এই খাতকে উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যেমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান।
তৃতীয় ধাপ
২০১৫ সাল থেকে ফ্রিল্যান্সিং খাতটি বিস্তৃত হতে থাকে। অনেক তরুণ এবং তরুণী ফ্রিল্যান্সিং কে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে গুলো সহজলভ্য করে দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করা আরও সহজ হয়ে যায়।
বর্তমান
বর্তমানে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং খাতে বিশ্বের অন্যতম প্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। হাজার হাজার বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সার বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সফলভাবে কাজ করছেন। ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছে যারা আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করছেন। বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং আয়ের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ ৫ দেশের মধ্যে অন্যতম।
ভবিষ্যত
ফ্রিল্যান্সিং খাতের ভবিষ্যত বাংলাদেশে উজ্জ্বল। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং এর প্রতি আগ্রহ ও প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সরকারের সহযোগিতা আরও বেশি ফ্রিল্যান্সার তৈরি করতে সহায়ক হবে। এছাড়াও, বিভিন্ন অনলাইন কোর্স এবং প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে আরও বেশি মানুষ এই খাতে যুক্ত হতে পারবে।
ফ্রিল্যান্সিং এর উন্নয়নে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও প্রতিভার জন্য দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম অর্জন করছে।
৪
৫ মন্তব্য