সহকারী শিক্ষক
১৩ জুন, ২০২৪ ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
?হারাম শরীফে অসহায়ত্বঃ
১.উভয় হারামে আসরের নামাজ হানাফী মাজহাব অনুসারে সময়ের আগেই পড়ে ফেলে,তাই নামাজটা আদায়'ই হয়না। কারন ওয়াক্ত হওয়া নামাজের ১৩ ফরজের একটি।
★কি করবে হানাফী হাজীরা?
হ্যাঁ তারা একান্তই ওদের সাথে জামাত আদায় করলেও তা নফল হবে।
অবশ্যই এক দেড়ঘন্টা পরে তারা আসরের নামাজ পুনরায় আদায় করে দিবে।
২.মিনা মুজদালিফায় তাবুতে অনেকে কসর পড়ে থাকেন।অথচ তারা মক্কায় ১৫দিন বা তার বেশী সময় ধরে অবস্থান করছেন। তাই তারা কসর করার কোন সুযোগ নেই।
#রাসুলে_আকরম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় জিলহজ্বের ৪ তারিখ এসেছিলেন এবং ১৩ তারিখ চলে গিয়েছিলেন। তাই তিনি মুসাফির হিসেবে কসর পড়েছিলেন।
আপনারা তো ১৫ বা তার বেশীদিন মক্কায় থাকছেন,আপনারা মুসাফির নন। তাই আপনাদের নামাজ অবশ্যই পুর্ণ করতে হবে, কসর পড়লে আদায় হবেনা।
৩.হারাম শরীফে শুধু তাওয়াফকারীরাই কোন নামাজীর সামনে হাঁটার অনুমতি আছে।
কিন্তু দেখা যায় সকলে নামাজীর সামনে হাঁটাহাঁটি করে যা মারাত্মক গোনাহ্। আর হারাম শরীফে একটি গোনাহ লক্ষ গোনাহের সমান!
৪.অনেক হাজীকে দেখা যায় তাওয়াফ শেষে তাওয়াফে’র নামাজেও এজ্তেবা করে রাখে।অথচ এজতেবা শুধু তাওয়াফের ৭ চক্করেই করতে হয়।নামাযের সময় অবশ্যই উভয় কাঁধ ঢেকে রাখতে হবে।
৫.জেদ্দায় গেলে আসার সময় আবার এহরাম করতে হবে কিনা ২টি মত আছে।তাই সতর্কতা হলো আসার সময় আবার এহরাম করে নতুন আরেকটি ওমরাহ করা।এভাবে তায়েফ গেলেও তাকে হুদূদে হেরেমের বাইরে যাবার কারনে আসার সময় নতুনভাবে এহরাম করে ওমরাহ করতে হবে।
৬.হারামের বাইরে থেকে হারামে ইহরাম ছাড়া ঢুকা নিষেধ। যারা ঢুকবে তাদেরকে একটি দমও দিতে হবে এবং নিকটস্থ কোন মীকাতে গিয়ে আবার এহরাম পরে নতুনভাবে ওমরাহ করতেই হবে।হজ কাফেলার দায়িত্বশীল মুয়াল্লিম ও মুনাজ্জিমগন বিষয়টি খেয়াল রাখুন।
৭.আট তারিখ মিনা যাবার সময় এহরাম পরে কেউ একটি নফল তাওয়াফ করে সাফা-মারওয়া সাঈ সেরে ফেললে তাকে ১০ তারিখ ফরজ তাওয়াফের সাথে আর সাঈ করা লাগবেনা।
৮. দশ তারিখ ফরজ তাওয়াফের সময় যদি এহরামের কাপড় পরিধান অবস্থায় থাকে তাহলেই রমল ইজতেবা করা যায়।আর যদি তাওয়াফের আগে মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে যায় তাহলে স্বাভাবিক পোষাকে কোন এজতেবা নাই বা সুযোগও নেই।
৯.সাবধান! ১০তারিখের দিন ১ম কাজ পাথর মারা,
এর পরে কোরবানী বা দম দেয়া,
এরপর ৩য় কাজ মাথা মুন্ডানো,
এ তিনটি কাজে অবশ্যই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ওয়াজিব।আগেপরে হয়ে গেলে দম দিতে হবে।
১০.তাওয়াফে জিয়ারাহ তথা ১০তারিখের তাওয়াফটা ১১/১২তারিখের সুর্যাস্তের পুর্ব পর্যন্ত করা যায়। তবে ১২তারিখ জোহরের আগে না করলে রিস্কি হয়ে যায়।কারন দুর্ঘটনাবশত যদি তাওয়াফে জেয়ারত মিস হয় তাহলে অবশ্যই হজ্ব নষ্ট হয়ে যাবে।আগামী বছর আবার কাযা করতে হবে।
১২.দশ,এগারো জিলহজ্জ রাতদ্বয় মিনাতে রাত যাপন ওয়াজিব। কেউ সুন্নতে মুয়াক্কাদা বলেছেন। ১ম'টার পক্ষে মতামত বেশী।
১৩-তেরো তারিখও তিন জমরায় ২১টি পাথর নিক্ষেপ সুন্নত।আমাদের রাসুলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১৩ তারিখ পাথর মেরেই বিদায়ী তাওয়াফ করে শেষ বিকেলে মদিনা শরীফের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।
১৪.দুইজন হাজী মাথা মুন্ডাতে চাইলে উভয়ের দম/কোরবানি শেষ হয়েছে নিশ্চিত হলে একে অপরকে মাথা মুন্ডিয়ে দিতে পারবে।এভাবে মহিলা হাজীগন নিজের চুলের আগা ১ইঞ্চির বেশী নিজেই কেটে দিয়ে হালাল হয়ে যেতে পারবেন।
১৫.সাবধান! অনেকে মুজদালিফায় ফজরের টাইম হবার আগেই ফজরের নামাজ পড়ে ফেলে এবং মিনার দিকে রওনা হয়ে যায়।এটা মারাত্মক ভুল।ওয়াজিব তরক হয়ে যায় এবং দম দিতে হবে এমন জিনায়াত হয়ে যায়।
ফজরের টাইম হলেই ফজরের নামাজ পড়ুন,আগে নয়।ফজরের পরে কিছুক্ষণ ওকূফ করা ওয়াজিব।
১৬. হাজীদের জন্য ঈদুল আজহার নামাজ নাই।
৫৩
৯১ মন্তব্য