Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ জুন, ২০২৪ ১০:২০ পূর্বাহ্ণ

ইসলামে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হওয়ার শর্ত

বর্তমান সময়ে অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে মানুষের সময় সাশ্রয় হচ্ছে এবং সে একই সময়ে বহু পণ্য পেয়ে যাচ্ছে, যা অফলাইনে কষ্টসাধ্য। ফলে মানুষ ভোজ্য পণ্য থেকে শুরু করে প্রসাধনী, পোশাক-আশাক, এমনকি পশুপাখিও অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয় করছে। অনেকের জিজ্ঞাসা—অনলাইনের ক্রয়-বিক্রয় শরিয়া মোতাবেক শুদ্ধ হবে কি না? এ প্রশ্নের জবাব জানতে হলে প্রথমেই আমাদের জানতে হবে শরিয়ায় ক্রয়-বিক্রয়ের মৌলিক শর্ত কী কী?

ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হওয়ার মৌলিক শর্ত

এক. ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের সন্তুষ্টি ও সম্মতি।তেমনি যদি ক্রয়-বিক্রয়ের পদ্ধতিটি এমন হয়, যাতে সন্তুষ্টি ও সম্মতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি, তাহলে ওই পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় ইসলামে নাজায়েজ হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা তোমাদের পরস্পরের সম্পদ অন্যায় ভাবে ভক্ষণ কোরো না। তবে যদি তা হয় কোনো ব্যবসা তোমাদের উভয় পক্ষের সন্তুষ্টিক্রমে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ২৯)

দুই. ক্রেতা-বিক্রেতা জ্ঞানসম্পন্ন (আকেল) এবং লেনদেন ও পণ্যের ভালো-মন্দ বোঝে—এমন বয়সের (মুতামাইয়িজ) হওয়া।সুতরাং অবুঝ শিশু ও পাগল হলে ক্রয়-বিক্রয় জায়েজ হবে না।

পূর্ববর্তী আয়াত এর দলিল। সেখানে উভয় পক্ষের সন্তুষ্টি পরস্পর লেনদেনের শর্ত হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে। পাগল ও ভালো-মন্দ বিবেচনা করার বোধ-বুদ্ধি নেই এমন ছোট মানুষের সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি বিবেচ্য নয়।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিনজনের কাছ থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে : ‘শিশু থেকে সাবালক হওয়া পর্যন্ত, ঘুমন্ত ব্যক্তি থেকে, জেগে ওঠা পর্যন্ত এবং পাগল থেকে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৪০৩; তিরমিজি, হাদিস : ১৪২৩)

তিন. পণ্য মূল্যবান (মুতাকাভভিম) বস্তু হওয়া। সুতরাং এমন বস্তু বেচাকেনা করা যাবে না, যা শরিয়তে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত নয়। যেমন—মদ, শূকরের গোশত ও মৃত প্রাণীর গোস্ত। এজাতীয় বস্তু ক্রয়-বিক্রয় জায়েজ হবে না।আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয় হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৭৫)

আর ক্রয়-বিক্রয় মানে সম্পদের আদান-প্রদান। যে বস্তু ইসলামের দৃষ্টিতে মূল্যবান নয় তা ক্রয়-বিক্রয় করলে সম্পদের বিনিময়ে সম্পদ পাওয়া যায় না, বরং এক পক্ষ থেকে সম্পদ অপর পক্ষ থেকে অসম্পদের বিনিময় হয়। তাই তা কোরআনে বর্ণিত হালাল ক্রয়-বিক্রয়ের আওতায় পড়ে না।

চার. ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার সময় পণ্য বিক্রেতার মালিকানাধীন থাকতে হবে কিংবা তার জন্য মালিকের পক্ষ থেকে বিক্রির অনুমতি থাকতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমার কাছে যা বিদ্যমান নেই তা বিক্রি কোরো না।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৪৬১৩; আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫০৩)

পাঁচ. চোখে দেখার মাধ্যমে কিংবা বিবরণের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়কারীর কাছে পণ্যের বিবরণ, গুণাবলি ও পরিমাণ সুস্পষ্ট থাকা। পণ্যের পরিমাণ ও গুণাবলি অস্পষ্ট থাকলে বেচাকেনায় সন্তুষ্টি ও সম্মতি পাওয়া যাবে না। কারণ সন্তুষ্টি নির্ভর করে পণ্যের পরিমাণ ও গুণাবলির ওপর। তা ছাড়া পরিমাণ ও গুণাবলি নির্ধারণ করা ছাড়া মূল্য নির্ধারণ করাও সম্ভব নয়। অনুমান করে মূল্য নির্ধারণ করলে ধোঁকার আশঙ্কা বেশি থাকে।

ছয়. হস্তান্তর করা সম্ভব, এমন বস্তু হতে হবে। সুতরাং সমুদ্রের মাছ বিক্রি কিংবা শূন্যে উড়ন্ত পাখি বিক্রি শরিয়াসম্মত বা জায়েজ নয়। পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, হস্তগত নয় এমন বস্তু বিক্রি করতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করেছেন।

সাত. পণ্যের মূল্য স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হতে হবে। পূর্বের প্রতিটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে যেন মুসলিমের ক্রয়-বিক্রয় ধোঁকা, জুলুম ও সুদ থেকে মুক্ত থাকে।

পূর্বের আলোচনার আলোকে অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয়ে যে কয়টি বিষয় খেয়াল রাখলে ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হবে, তা নিম্নে দেওয়া হলো—

(ক) পণ্যের সঠিক বিবরণ পণ্যের সঙ্গে উল্লেখ থাকতে হবে। যেমন—কাঁচামাল, গুণাগুণ, পরিমাণ, উৎপাদক প্রতিষ্ঠান, উৎপাদন তারিখ মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখসহ যাবতীয় যা উল্লেখ থাকলে একজন ক্রেতা পণ্য সম্পর্কে পরিপূর্ণ একটি জ্ঞান লাভ করতে পারে। এসব বিবরণে কোনো মিথ্যা তথ্য যদি থাকে তাহলে ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হবে না।

(খ) অনলাইনে যাঁরা বিক্রি করবেন তাঁদের উচিত পণ্য তাঁদের মালিকানাধীন ও হস্তগত থাকা। পণ্য যদি বিক্রেতার মালিকানাধীন না থাকে, তাহলে সে কোনো বিক্রেতা বা উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের প্রতিনিধি হয়ে বিক্রয়ের যথোপযুক্ত চুক্তি করে নেবে।

(গ) ইসলামী শরিয়ায় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না—এমন পণ্য না হওয়া। যেমন—মদ, শূকরের গোশত, আল্লাহ নামে জবেহ করা হয়নি এমন পশুর গোশত, পুরুষের জন্য তৈরি খাঁটি সিল্কের পোশাক ইত্যাদি।

(ঘ) বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ে অন্তত মুতামাইয়িজ অর্থাৎ পণ্যের গুণাগুণ, ভালো-মন্দ ও বেচাকেনার প্রয়োজন-অপ্রয়োজন বোঝে এমন বয়স্ক হতে হবে—ঠিক তেমনি ক্রেতাও। ক্রেতা-বিক্রেতার কেউ পাগল বা মানসিক রোগী না হওয়া। এর জন্য বিপণন সাইডগুলো যেন বাচ্চারা ব্রাউজ করতে না পারে সে ব্যবস্থা থাকা উচিত।

(ঙ) দেখার পর পণ্য বর্জনের এখতিয়ার (খিয়ারুর রুয়া) থাকতে হবে। বর্জন করলে ক্রেতার ওপর কোনো খরচ চাপিয়ে না দেওয়া।

মোটকথা, অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থেকে মুক্ত থাকা আবশ্যক— প্রতারণা (গারার), ঠকানো (দারার), পণ্যে ভেজাল (গিশ) ও অনৈতিক ফায়দা লোটা (ইসতিগলাল)। (আল হিদায়াহ, বুয়ু অধ্যায় ও দারুল ইফতা মিসর এর ওয়েব সাইট)।

 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

সাপ মারার আগে মহানবী (সা.)-এর বিশেষ নির্দেশনা

 ইসলামী জীবন ডেস্ক
বুধবার, ২৬ জুন, ২০২৪ ১৮:২৯শেয়ার
সাপ মারার আগে মহানবী (সা.)-এর বিশেষ নির্দেশনা

সাপ সরীসৃপ প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত লম্বা বেলনাকার পাবিহীন এক মেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের দেহ আঁশ দ্বারা আবৃত। মানুষের আবাসস্থল বাড়ি, গভীর জঙ্গলের মাটি ও মাটির নিচে গর্তে বা সুড়ঙ্গে, গাছে ও পানিতে সাপের বসবাস। সাপ বছরে কয়েকবার খোলস বদলায়।

সাপের কান ও চোখের পাতা নেই।

আরও পড়ুন
সাপ-বিচ্ছু প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) যা বলেছেন

সাপ-বিচ্ছু প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) যা বলেছেন

 

সবার একটা নিন্দনীয় স্বভাব হলো, সাপ দেখলেই তা মেরে ফেলা। এ কথা সত্য যে সাপ একটি প্রাণসংহারী প্রাণী। পৃথিবীতে এমন সাপও আছে, যার এক ফোঁটা বিষ এক মিনিটের মধ্যে একাধিক মানুষের প্রাণনাশে সক্ষম।

তবে সব সাপ বিষধর নয়। তা ছাড়া বেশির ভাগ সাপ কেউ উত্ত্যক্ত না করলে সহসা কামড় বসায় না। তার পরও সাপের দ্বারা ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে তা মারতে বাধা নেই। 

আরও পড়ুন
বিষাক্ত প্রাণী থেকে সুরক্ষায় যে দোয়া পড়া সুন্নত

বিষাক্ত প্রাণী থেকে সুরক্ষায় যে দোয়া পড়া সুন্নত

 

সাপ মারার আগে মহানীর নির্দেশনা 

সাপ মারার আগে আমাদের করণীয় হলো ওই সাপ আমাদের ক্ষতি করবে কি না সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া।

এ ব্যাপারে হাদিসেও খুব সুন্দর নিয়ম উল্লেখ রয়েছে। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো সাপ মারার আগে তিনবার তাকে সাবধান করবে। এর পরও যদি সে (গর্ত থেকে) বের হয়, তখন তাকে মেরে ফেলবে। কেননা সে শয়তান।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১৬৮)

আরও পড়ুন
কাবাঘর কখন ধোয়া হয়, কারা অংশ নেন

কাবাঘর কখন ধোয়া হয়, কারা অংশ নেন

 

ঘরে বসবাসকারী সাপ মারতে বারণ 

সালিম (রহ.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেই সাপ মারবে, যার পিঠে দুটি সাদা রেখা আছে এবং যার লেজ নেই।

কেননা এরা বিষধর হওয়ার কারণে দর্শনশক্তি বিনষ্ট করে দেয় এবং গর্ভস্থিত সন্তান ধ্বংস করে দেয়।’ বর্ণনাকারী বলেন, এর পর থেকে আবদুল্লাহ (রা.) যেকোনো সাপ দেখতে পেলে তা মেরে ফেলতেন। একবার আবু লুবাবা (রা.) অথবা জায়েদ ইবনে খাওয়াব (রা.) তাঁকে একটি সাপ মারতে উদ্যত দেখে বললেন, নবী করিম (সা.) ঘরে বসবাসকারী সাপ মারতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১৬২)

আরও পড়ুন
আমলময় যৌবন আল্লাহর নিয়ামত

আমলময় যৌবন আল্লাহর নিয়ামত

 

সাপের রূপ ধারণ করে জিন 

অনেক সময় সাপের রূপ ধারণ করে নেককার জিনরা বিচরণ করে থাকে। যেমনটি হাদিস থেকেও জানা যায়। ইয়াজিদ ইবনে মাওহাব (রহ.) আবু সাইদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন—একদা আমি আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-এর কাছে এসে বসি। এ সময় আমি তাঁর চৌকির নিচে কিছুর আওয়াজ শুনতে পাই। আমি তাকিয়ে দেখি যে একটি সাপ। তখন আমি দাঁড়ালে আবু সাইদ (রা.) জিজ্ঞাসা করেন, তোমার কী হয়েছে? তখন আমি বললাম, এখানে একটা সাপ আছে। তিনি বলেন, তুমি কী করতে চাও? তখন আমি বললাম, আমি তাকে মেরে ফেলব। তখন তিনি তাঁর বাড়ির একটি ঘরের দিকে ইশারা করে বলেন, এখানে আমার চাচাতো ভাই থাকত। খন্দকের যুদ্ধের সময় সে রাসুল (সা.)-এর কাছে ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুমতি চায়। কেননা সে তখন নতুন বিয়ে করেছিল। তখন রাসুল (সা.) তাকে অনুমতি দেন এবং বলেন, তুমি তোমার হাতিয়ার নিয়ে যাও। সে নিজ ঘরে ফিরে তার স্ত্রীকে ঘরের দরজার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে তার (স্ত্রীর) প্রতি কলম দিয়ে ইশারা করে। তখন তার স্ত্রী বলল, তাড়াহুড়ো কোরো না। এসে দেখো কী যেন আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। তখন সে ঘরে ঢুকে একটি কুৎসিত সাপ দেখতে পায়। সে তাকে বল্লম দিয়ে হত্যা করে এবং বল্লমে তার দেহ ফুঁড়ে বাইরে নিয়ে আসে।

বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানি না, এরপর কে আগে মারা গিয়েছিল—লোকটি, না সাপটি। তখন তার জাতির লোকেরা রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে বলেছে, আপনি দোয়া করুন, যাতে আমাদের সঙ্গী বেঁচে যায়। তখন নবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা তার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করো।’ এরপর তিনি বলেন, ‘মদিনার একদল জিন ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাই তোমরা যখন তাদের (সাপ) কাউকে দেখবে, তখন তাকে তিনবার ভীতি প্রদর্শন করবে যে আর বের হবে না, অন্যথায় মারা পড়বে। এরপর যদি সে (গর্ত থেকে) বের হয়, তখন তাকে মেরে ফেলবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১৬৭)

তাই সাপ দেখামাত্রই না মেরে নবীজির এই হাদিসের অনুসরণ করা উচিত। অযথা এদের উত্ত্যক্ত করা উচিত নয়। সাপকে সাপের মতোই বেড়ে উঠতে দেওয়া সবার কর্তব্য। কারণ তারাও জীববৈচিত্র্যের অন্যতম অংশীদার। পরিবেশ রক্ষায় এদের ভূমিকাও অনস্বীকার্য।
 

মন্তব্য

জীবনের কঠিন সময়ে মুমিনের ৫ আমল

 সাআদ তাশফিন
বুধবার, ২৬ জুন, ২০২৪ ১৬:৩৬শেয়ার
জীবনের কঠিন সময়ে মুমিনের ৫ আমলসংগৃহীত ছবি

মহান আল্লাহ কখনো কখনো তাঁর বান্দাদের বিপদ-আপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, তখন যারা মহান আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা রেখে তাঁর কাছে সাহায্য চায় এবং ধৈর্যের সঙ্গে বিপদ থেকে উত্তরণের চেষ্টা করে, তারা সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে। নিম্নে বিপদের সময় মুমিনের কিছু করণীয় তুলে ধরা হলো—

১. অগাধ বিশ্বাস : মুমিন সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর আস্থা রাখে। আল্লাহর সব সিদ্ধান্তই মুমিন তার জন্য কল্যাণকর বলে বিবেচনা করে। তাই মুমিনের উচিত বিপদে বিচলিত না হয়ে মহান আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখা।

এতে মহান আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়।  পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাব। এরাই তারা, যাদের প্রতি তাদের রবের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষিত হয়, আর তারাই সৎপথে পরিচালিত।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৫৬-১৫৭)

২. ধৈর্য ধারণ করা  : বিপদে ধৈর্য না হারিয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ঠাণ্ডা মাথায় তা থেকে উত্তরণের পথ বের করতে হবে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সফলকাম বলেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আজ আমি তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমন প্রতিদান দিয়েছি যে তারাই সফল।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১১১)

৩. তাওবা-ইস্তিগফার : অনেক সময় তাওবা-ইস্তিগফারের কারণে মহান আল্লাহ বিপদ তুলে নেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহ এমন নন যে আপনি তাদের মধ্যে থাকবেন অথচ তিনি তাদের স্বস্তি দেবেন এবং আল্লাহ এমনও নন যে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন।

’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৩৩)

অর্থাৎ কোনো জাতির মধ্যে তাদের নবী উপস্থিত থাকলে যেমন মহান আল্লাহ আজাব দেন না, তেমনি কোনো জাতি যখন তাওবায় লিপ্ত হয়ে যায় তখন মহান আল্লাহ তাদের শাস্তি দেন না।

৪. তাকওয়া অবলম্বন করা : তাকওয়া মানুষকে যেকোনো পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ তৈরি করে দেন।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ২)

৫. নিয়মিত দোয়া করা : যেকোনো বিপদে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। তিনি তাঁর বান্দার ডাকে সাড়া দেন।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, (তখন বলে দিন যে) নিশ্চয়ই আমি অতি কাছে। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই। কাজেই তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার প্রতি ঈমান আনুক, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৬)

মহান আল্লাহ সবাইকে দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা দান করুন। আমিন।

 

মন্তব্য

কিয়ামতের দিন যারা ‘হায় হায়’ করবে

 মাইমুনা আক্তার
বুধবার, ২৬ জুন, ২০২৪ ১৪:২১শেয়ার
কিয়ামতের দিন যারা ‘হায় হায়’ করবে

জীবন মহান আল্লাহর দেওয়া অমূল্য উপহার, তবে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে মহাপরীক্ষাও বটে। কেননা প্রত্যেক মানুষকে তার জীবনের হিসাব দিতে হবে। কিয়ামতের ময়দানে প্রত্যেকের আমলের চুলচেরা হিসাব-নিকাশ নেওয়া হবে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) একদিন এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন, সেদিন পৃথিবী তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে।

তারপর তিনি বলেন, তোমরা কি জানো পৃথিবীর বৃত্তান্ত কী? সাহাবিরা বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভালো জানেন! তিনি বলেন, এ বৃত্তান্ত হলো প্রত্যেক বান্দা নারী ও পুরুষ তার ওপর যে কাজ করবে তারই সে সাক্ষ্য দেবে। বলবে, অমুক দিন সে অমুক কাজ করেছে, তমুক কাজ করেছে। এ হলো পৃথিবীর বৃত্তান্ত বর্ণনা। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৫৩)

কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষের আমলনামা তার সামনে এসে যাবে এবং সে তা স্বচক্ষে দেখতে পাবে।

সে দুনিয়াতে যা যা করেছিল, তার পরিপূর্ণ হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখতে পাবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর (কিয়ামতের দিন) আমলনামা হাজির করা হবে, তখন তুমি অপরাধীদের ভীত দেখতে পাবে, তাতে যা লেখা রয়েছে তার কারণে। আর তারা বলবে, হায় ধ্বংস আমাদের! কী হলো এই কিতাবের, তা ছোট-বড় কিছুই ছাড়ে না, শুধু সংরক্ষণ করে এবং তারা যা করেছে, তা হাজির পাবে। আর তোমার রব কারো প্রতি জুলুম করেন না।
’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৪৯)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে যে সে কী অগ্রে পাঠিয়েছে ও কী পশ্চাতে রেখে গেছে।’ (সুরা : কিয়ামাহ, আয়াত : ১৩)

সেদিনের সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে অবিশ্বাসীরা আফসোস করবে, হায় যদি এই কঠিন দিন আমাদের সামনে না আসত, অথবা যদি আমরাও অন্যান্য প্রাণীর মতো মাটি হয়ে যেতাম, তাহলে তো আমাদের শাস্তির সম্মুখীন হতে হতো না। কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, সেদিন মানুষ তার কৃতকর্ম প্রত্যক্ষ করবে এবং অবিশ্বাসীরা বলতে থাকবে, হায়! আমি যদি মাটি হতাম (তাহলে আমাকে আজকের এই আজাবের সম্মুখীন হতে হতো না)। (সুরা : নাবা, আয়াত : ৪০)

আবদুল্লাহ ইবনে আমর, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, কিয়ামতের দিন সমগ্র ভূপৃষ্ঠ এক সমতল ভূমি হয়ে যাবে। এতে মানব, জিন, গৃহপালিত জন্তু ও বন্য জন্তু সবাইকে একত্র করা হবে।

জন্তুদের মধ্য কেউ দুনিয়ায় অন্য জন্তুর ওপর জুলুম করে থাকলে তার কাছ থেকে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এমনকি কোনো শিংবিশিষ্ট ছাগল কোনো শিংবিহীন ছাগলকে মেরে থাকলে সেদিন তার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এই কর্ম সমাপ্ত হলে সব জন্তুকে আদেশ করা হবে—মাটি হয়ে যাও। তখন সব মাটি হয়ে যাবে। এই দৃশ্য দেখে কাফিররা আকাঙ্ক্ষা করবে—হায়! আমরাও যদি মাটি হয়ে যেতাম। এরূপ হলে আমরা হিসাব-নিকাশ ও জাহান্নামের আজাব থেকে বেঁচে যেতাম। (মুস্তাদরাকে হাকিম : ২/৩৪৫ ৪/৫৭৫; সিলসিলা সহিহা, হাদিস : ১৯৬৬)

তখন অবিশ্বাসীদের আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। কেউ তখন নিজের আমল শুধরানোর জন্য আবার দুনিয়াতে ফিরে আসারও সুযোগ পাবে না।

তাই সময় থাকতে আমাদের উচিত ঈমানকে মজবুত করা, ইসলামকে আঁকড়ে ধরা, স্বীয় কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার চেষ্টা করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে কিয়ামতের ভয়াবহ দিনেও তাঁর রহমতের ছায়ায় আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ করে দিন। আমিন।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

১১০তম ব্যক্তি হিসেবে পবিত্র কাবাঘরের চাবি পেলেন যিনি

 ইসলামী জীবন ডেস্ক
বুধবার, ২৬ জুন, ২০২৪ ১৩:৫৫শেয়ার
১১০তম ব্যক্তি হিসেবে পবিত্র কাবাঘরের চাবি পেলেন যিনি

মক্কায় পবিত্র কাবাঘরের চাবি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। কাবাঘরের সদ্য প্রয়াত চাবিরক্ষক শায়খ সালেহের মৃত্যুর তিনদিন পর ১১০তম দায়িত্বশীল হিসেবে এ চাবি গ্রহণ করেছেন শায়খ আবদুল ওয়াহাব বিন জয়নুল আবেদিন আল-শায়বি। শায়বি পরিবারের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি হিসেবে তাঁর কাছে এ চাবি হস্তান্তর করা হয়। 

গত ২৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কাছে পবিত্র কাবাঘর ও মাকামে ইবরাহিমের চাবি হস্তান্তর করেন সদ্য প্রয়াত শায়খ ড. সালেহের ছেলে আবদুর রহমান।

সৌদি আরবের সরকারি টিভি চ্যানেল আল-ইখবারিয়া সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

আরও পড়ুন
পবিত্র কাবাঘরের ১০৯তম চাবিরক্ষকের ইন্তেকাল

পবিত্র কাবাঘরের ১০৯তম চাবিরক্ষকের ইন্তেকাল

 

শায়খ আবদুল ওয়াহাব আল-শায়বির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে, পবত্রি কাবাঘরের দরজা খোলা ও বন্ধ করা, ধৌত ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা, কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়া) পরিবর্তন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করাসহ মসজিদে আগত অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানো। 

এর আগে গত ২১ জুন পবিত্র কাবাঘরের সর্বশেষ চাবিরক্ষক শায়খ ড. সালেহ বিন জয়নুল আবেদিন আল-শায়বি মক্কায় ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা বিজয়কাল থেকে ৭৭তম এবং তাঁর পূর্বপুরুষ কুসাই বিন কিলাব-এর যুগ থেকে ১০৯ তম চাবিরক্ষক।

 

আরও পড়ুন
কাবাঘর কখন ধোয়া হয়, কারা অংশ নেন

কাবাঘর কখন ধোয়া হয়, কারা অংশ নেন

 

পবিত্র কাবাঘরের চাবি গ্রহণ করে শায়খ আবদুল ওয়াহাব বলেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন তিনি আমাকে এ গুরু দায়িত্ব পালনের তাওফিক দেন। বিশেষত সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।’ 

এদিকে আল-শায়বি পরিবারের সদস্য শায়খ নাজার আল-শায়বি বলেন, ‘প্রাচীনকাল থেকে পবিত্র কাবাঘরের চাবি আল-শায়বি বংশের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের রীতি চলে আসছে। সেই হিসেবে শায়খ আবদুল ওয়াহাবের কাছে এ চাবি দেওয়া হয়েছে।

এখন আমরা অপেক্ষায় থাকব যেন আগামী হিজরি নববর্ষের প্রথম রাতে তিনি পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ পরিবর্তনসহ সংশ্লিষ্ট সব কাজের তত্ত্বাবধান করতে পারেন।’

আরও পড়ুন
ইসলাম হজ ব্যবস্থাপনায় যে পরিবর্তন এনেছে

ইসলাম হজ ব্যবস্থাপনায় যে পরিবর্তন এনেছে

 

মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা বিজয়কাল থেকে ৭৮তম এবং তাঁর পূর্বপুরুষ কুসাই বিন কিলাব-এর যুগ থেকে ১১০ তম চাবিরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শায়খ আবদুল ওয়াহাব। তিনি বিখ্যাত সাহাবি উসমান ইবনে তালহা (রা.)-এর বংশধর ছিলেন। যাঁর ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছিলেন, ‘হে তালহার বংশধর, তোমরা এ চাবি গ্রহণ কোরো। তোমাদের কাছে তা থাকবে।

অত্যাচারি ছাড়া কেউ তা ছিনিয়ে নেবে না।’ 

আরও পড়ুন
মক্কার পথে পৃথিবীর যাত্রা

মক্কার পথে পৃথিবীর যাত্রা

 

মূলত ইসলাম-পূর্ব যুগ থেকেই কাবাঘরের চাবি আল-শায়বি গোত্রের কাছে থাকত। অষ্টম হিজরি তথা ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই ওই গোত্রের উসমান ইবনে তালহার (রা.) কাছে চাবি হস্তান্তর করে তাকে সম্মানিত করেন। এরপর থেকে তাঁর বংশধরেরা ওই চাবি সংরক্ষণ করছেন। বর্তমান সময়ে তাদের কাছ থেকে চাবি নিয়েই বিভিন্ন সময় সৌদি আরবের বাদশাহ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ পবিত্র কাবা ঘরে প্রবেশ করে থাকেন। 

সূত্র: গালফ নিউজ


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ

মন্তব্য করুন