Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ জুন, ২০২৪ ০৪:১৯ অপরাহ্ণ

বিজ্ঞান_সমাচার #উদ্ভিদ_পরিচিতি

#বিজ্ঞান_সমাচার 

#উদ্ভিদ_পরিচিতি 


 #কেওড়া_গাছ


অসংখ্য বৃক্ষরাজির মধ্যে ‘কেওড়া’ একটি অন্যতম নাম। ম্যানগ্রোভ বা লবণাক্ত পরিবেশের উদ্ভিদ কেওড়া মূলত সুন্দরবনের প্রধানতম বৃক্ষ। কেওড়া গাছ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে জন্মে সুন্দরবনের নদী মোহনায় এবং এ বনের অন্তরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য খালের কর্দমাক্ত কিনারা ও নব জৈব-বর্জ্য সমৃদ্ধ চরাঞ্চলে। কেওড়া গাছের আদি-উৎপত্তি স্থানও সুন্দরবন। সুন্দরবনের বাইরে এর বিস্তৃতি ঘটেছে বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার এই তিনটি দেশের সমুদ্র উপকূলের লবণাক্ত পরিবেশের বন-বাদাড়ে। 

এছাড়া, চট্টগ্রাম সহ উপকূলীয় এলাকায় প্রচুর পরিমানে কেওড়া গাছ জন্মায়। 


 #কেওড়া_গাছের বৈজ্ঞানিক নাম #sonneratia_apetala

 কেওড়া গাছের গোড়া ও এর চারপাশে খাড়া-খাড়া অজস্র শ্বাসমূল দেখা যায়, যা বায়ু সঞ্চালনে সহায়তা করে। যথাযথ পরিবেশে উদ্ভিদটি খুব দ্রুত বড়ো গাছে পরিণত হয়। কেওড়া গাছের উচ্চতা ২০ মিটারের মতো ও প্রায় ২.৫ মিটার চওড়া হয়ে থাকে।


এ গাছের সবুজপত্রসমূহ সরু ও লম্বাটে, যা দেখতে অনেকটা তেজপাতার সদৃশ। মন-মাতানো চিরসবুজের হাতছানি কেওড়া গাছে ঋতুরাজ বসন্তে হলুদ রঙের ছোটো ছোটো কেওড়া ফুল ফোটে। এসব পুষ্পেরা উভয়লিঙ্গের হয়ে থাকে। ফুলগুলো দেখতে নারীর ঝুমকো কানের দুলের ন্যায়। 


?ফাল্গুনে ফুল ধরার পর ফুল থেকে ধীরে-ধীরে চৈত্র-বৈশাখে কেওড়া ফল তৈরি হয়। পরিপক্ব কেওড়া ফল বৃষ্টিভেজা আষাঢ়-শ্রাবণ পেরিয়ে আশ্বিন মাস পর্যন্ত পাওয়া এবং খাওয়া যায়। গোলগাল ডুমুর আকৃতির সবুজাভ কেওড়া ফলের ব্যাস বড়োজোর ২ থেকে ৩ মিলিমিটার। একটি কেওড়া ফলে বীজের সংখ্যা ২৫ থেকে প্রায় ১২৫টির মতো। ভেতরের বড়ো বিচি বাদে ওপরের সবুজ বর্ণের মাংসল অংশ টক স্বাদে ভরপুর।


? সুন্দরবনের হরিণ ও বানরের কাছে কেওড়ার পাতা ও ফল ভীষণ রকমের প্রিয় খাবার। তাই  উপকূলীয় জনপদ-সমূহের লোকজনের সুদীর্ঘ প্রাচীনকাল হতে কেওড়া ফল কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি সঙ্গে ডিমওয়ালা গোদা চিংড়ি মাছ ও মসুর ডালের খাট্টা রান্না করে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। স্বল্প-পরিসরে গৃহিণীদের কেউ কেউ কেওড়া ফল থেকে আচার ও চাটনি তৈরি করে থাকে।


?কেওড়া ফলে সমপরিমাণ আপেল ও কমলা ফলের তুলনায় অনেক বেশি পলিফেনল ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পলিফেনল শরীরে ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, অ্যালার্জি, চোখের ছানি, বিভিন্ন ধরনের প্রদাহসহ রোগ সৃষ্টিতে বাধা প্রদান করে।

?ভিটামিন সি এবং এর ডেরিভেটিভগুলোয় পূর্ণ কেওড়া ফলে আমলকী, আপেল ও কমলা ফলের তুলনায় বেশি পরিমাণ পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম ও জিংকের উৎস। কেওড়া ফল পলিফেনল, ফ্লাভানয়েড, অ্যান্থোসায়ানিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আনস্যাচুরেটেড ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড বিশেষ করে লিনোলেয়িক অ্যাসিড সমৃদ্ধ। আর এজন্য মনে করা হয়, ফলটি শরীর ও মনকে সতেজ রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী। প্রতিটি কেওড়া ফলে প্রায় ১২% শর্করা, ৪% আমিষ, ১.৫% ফ্যাট দৃশ্যমান। 


?এ ফলের রয়েছে ডায়রিয়া ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধী এবং ব্যথানাশক গুণাবলি। ফলটি ডায়রিয়া, আমাশয় ও পেটের পীড়ার জন্য দায়ী ব্যাক্টেরিয়াকে কার্যকরভাবে দমন করতে পারে। 

?এ কেওড়া ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পালমিটিক অ্যাসিড, অ্যাস্করবাইল পালমিটেট ও স্টিয়ারিক অ্যাসিড; যে উপাদানগুলো বর্তমানে বিদেশ থেকে এনে খাদ্যশিল্পে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে এবং তৈরি খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।


 ?উপকূলীয় এলাকার অনাবাদি লবণাক্ত জমিতে ফলটি ব্যাপকভাবে চাষাবাদ করা গেলে অর্থনৈতিক উৎস সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে এবং এসব অঞ্চলের পরিবেশের গুণগত মানের উন্নয়ন ঘটবে। 


কেওড়া সুন্দরবনের বৃক্ষ হওয়ায় কাঠের সঙ্গে এর ফলও ক্রয়-বিক্রয় বাংলাদেশের বন আইনে নিষিদ্ধ। তাই কেওড়া ফলের উপকারী উপাদান দেশময় ছড়িয়ে দিতে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিতে হবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে।

মন্তব্য করুন