Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ জুলাই, ২০২৪ ০৯:২১ অপরাহ্ণ

প্রতিবেশীর হক কি কি? ??????????? ইসলামে প্রতিবেশীর প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া

*প্রতিবেশীর হক কি কি?

???????????

ইসলামে প্রতিবেশীর প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ মর্মে কুরআন-সুন্নায় তাদের প্রতি করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে অনেক কথা বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের কতিপয় হক উল্লেখ করা হল:

? ১) তাকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা।

? ২) সে কষ্ট দিলে যথাসম্ভব ধৈর্য ধারণ করা

? ৩) তার প্রতি দয়া ও বন্ধুত্ব সূলভ আচরণ করা

? ৪) তাকে সম্মান করা

? ৬) বিপদাপদে সাহায্য করা।

? ৭)তার সাথে যথাসম্ভব বিবাদে লিপ্ত না হওয়া

? ৮) রোগ-ব্যাধিতে দেখতে যাওয়া বা প্রয়োজনীয় সেবা করা

? ৯) দেখা হলে হাসি মুখে কথা বলা

? ১০) সালাম লেনদেন করা

? ১১) মারা গেলে কাফন-দাফন ও জানাযায় অংশ গ্রহণ করা।

? ১২) কেউ তার ক্ষতি করতে চাইলে যথাসম্ভব প্রতিহত করা

? ১৩) তার সাথে ভালবাসা পূর্ণ সম্পর্ক রাখা

? ১৪) ক্ষতিকর কিছু ঘটলে যথাসাধ্য সাহায্য করা ও সমবেদনা জানানো।

? ১৫) তার খুশিতে শরীক হওয়া।

? ১৬) মাঝে-মধ্য তাকে তার বাড়িতে উপহার পাঠানো

? ১৭) তার মাঝে শরীয়া বিরোধী কিছু দেখলে আন্তরিকভাবে নসিহত করা।

? ১৮) দীনী বিষয়ে না জানলে জ্ঞানদান করা।

? ১৯) কাফির হলে দ্বীনের দাওয়াত দেয়া।

? ২০) তার মধ্যে হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখলে তা লোক সম্মুখে প্রকাশ না করা এবং যথাসাধ্য গোপনে সংশোধন করার চেষ্টা করা ইত্যাদি।

~শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী


প্রতিবেশীর হক.....................

হাদিসে প্রতিবেশীর হক বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান

এক- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

عَنْ عَبْدِ اللهِ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا زَالَ جِبْرِيلُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوصِينِي بِالْجَارِ، حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ - أَوْ قَالَ: خَشِيتُ أَنْ يُوَرِّثَهُ - »

“জিবরীল আলাইহিস সালাম আমাকে প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে এত বেশি তাকিদ করেছেন যে, আমার কাছে মনে হয়েছে প্রতিবেশীকে মিরাসেরঅংশীদার বানিয়ে দেওয়া হবে”।[4]

হাদিসে প্রতিবেশীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজকাল এ বিষয়ে আমাদের মাঝে চরম অবহেলা পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে শহরেরমানুষের মাঝে। বছরের পর বছর পার হয় পাশের বাড়ির কারো সাথে কোনও কথা হয় না, খোঁজ খবর নেওয়া হয় না, একজন লোক মারা গেলে পাশের ফ্লাটের লোকের কোনো খবর নাই। বরং বিভিন্নভাবে প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া হয়। অথচ প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ ও তাকে কষ্ট নাদেওয়াকে ঈমানের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।

দুই- প্রতিবেশীকে কষ্ট দিতে আল্লাহর রাসূল নিষেধ করেন এবং তার সাথে ভালো ব্যবহার করার নির্দেশ দেন। হাদিস-

وعن أبي شريح ـ رضي الله تعالي عنه ـ قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: «من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلايؤذ جاره »

আবু শুরাই রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেনপ্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়”।[5] 

তিন. আরেক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 

«فليحسن إلى جاره» 

“সে যেন প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করে”।[6]

চার- প্রতিবেশীরা হকের ক্ষেত্রে সবাই সমান নয়। যারা সম্পর্কের দিক দিয়ে যত বেশি নিকটে তাদের অধিকার বা হক বেশি। আর যদি প্রতিবেশী সম্পর্কের দিক দিয়ে সমান হয় এবং একজন কাছে এবং অপর জন দূরে হয় তবে কাছের প্রতিবেশীর অধিকার বা হক বেশি দূরের প্রতিবেশীর তুলনা। এ বিষয়ে হাদিস-

روى الإمام أحمد عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّهَا سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: إِنَّ لِي جَارَيْنِ فَإِلَى أَيِّهِمَا أُهْدِي؟ قَالَ: «إِلَى أَقْرَبِهِمَا مِنْكَ بَابًا» وَرَوَاهُ الْبُخَارِيُّ مِنْ حَدِيثِ شُعْبَةَ بِهِ.

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমার দুই জন প্রতিবেশী আছে, তাদের কাকে আমি হাদিয়া দেব? রাসূল বললেন, যে তোমার দরজার কাছের প্রতিবেশী তাকে তুমি হাদিয়া দেবে”।[7]

পাঁচ- তোমাদের মধ্যে সে উত্তম প্রতিবেশী বা সে উত্তম সাথী যে তার প্রতিবেশী ও সাথীদের নিকট উত্তম। যেমন হাদিস-

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «خَيْرُ الْأَصْحَابِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ وخير الجيران عند الله خيرهم لجاره» (رواه أحمد والترمذي)

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে স্বীয় সাথীর নিকট উত্তম সেই আল্লাহর নিকট সর্ব উত্তম সাথী এবং যে স্বীয় প্রতিবেশীর দৃষ্টিতে ভালো প্রতিবেশী, সেই আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী”।[8]

ছয়- অপর এক বর্ণনায় এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ لِي أَنْ أَعْلَمَ إِذَا أَحْسَنْتُ وَإِذَا أَسَأْتُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم «إِذَا سَمِعْتَ جِيرَانَكَ يَقُولُونَ قَدْ أَحْسَنْتَ فَقَدْ أَحْسَنْتَ وَإِذَا سَمِعْتَهُمْ يَقُولُونَ قَدْ أَسَأْتَ فَقَدْ أَسَأْتَ ،»

“আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন, আমি ভালো করলাম না খারাপ করলাম এ বিষয়টি নিশ্চিতভাবে আমার নিজের সম্পর্কে কীভাবে জানতে পারব? উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যখন শোন, তোমার প্রতিবেশী তোমাকে বলে, তুমি ভালো করছ, তাহলে তুমি ভালো করছ, আর যখন শোন, তোমার প্রতিবেশী বলে, তুমি খারাপ করছ, তাহলে তুমি খারাপ করছ”।[9]

সাত- প্রতিবেশী কষ্ট না দেওয়া এবং তাদের সাতে ভালো ব্যবহার করা ঈমানের সাথে সম্পর্ক। এ বিষয়ে হাদিস-

عن أبي هريرة رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم: «من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يؤذ جاره، ومن كان يؤمن بالله واليوم الأخر فليكرم ضيفه، ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليقل خيرًا أو ليصمت »

“আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহ

মন্তব্য করুন