Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ জুলাই, ২০২৪ ১২:২৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে হলেও যেসব ফল মূলত এদেশীয় নয়

বাংলাদেশে হলেও যেসব ফল মূলত এদেশীয় নয়

বারো মাসে বারো ফল, না খেলে যায় রসাতল’-এই খনার বচন থেকেই ধারণা করা যায় বাংলাদেশের মানুষদের জন্য ফলের গুরুত্ব কতোটা।


কৃষি তথ্য সার্ভিস অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ১৩০ রকমের ফল জন্মায়। এর মধ্যে প্রচলিত ও অপ্রচলিত প্রায় ৭২টি ফলের চাষাবাদ হয়। দুই দশক আগেও হতো ৫৬ প্রজাতির ফল চাষ।


বাংলাদেশে মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের ফল বেশি পাওয়া যায়।


এই অঞ্চলে দেশি ফল বলতেই প্রথমে যে নামগুলো আসে তা হলো আম, কাঁঠাল, জাম, লিচু, পেঁপে, পেয়ারা, বরই, আমড়া, সফেদা, আনারস, কলা, জাম্বুরা, চালতা, তরমুজ, জামরুল, জলপাই, লটকন ও কামরাঙ্গাসহ আরো নানা ধরনের ফল।


এসব ফল আমরা এতদিন দেশি ফল হিসেবেই জেনে এসেছি। কিন্তু প্রকৃত সত্য হল দেশি ফল হিসেবে জানা এমন অনেক ফলই আছে যাদের প্রকৃত উৎপত্তি বাংলাদেশে বা আশপাশে নয় বরং হাজার মাইল দূরের।

সেক্ষেত্রে প্রকৃত দেশি ফল কোনগুলো সেটা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা তাদের গবেষণাধর্মী মতামত জানিয়েছেন।


দেশি ফল

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো: গোলাম রাব্বানীর মতে, অনাদিকাল ধরে যেসব ফল অনায়াসে এই দেশে বা আশপাশের উপমহাদেশীয় অঞ্চলে জন্মেছে এবং ভালো ফলন দিয়েছে সেসব ফলকে দেশি ফল বলা যেতে পারে।


দেশি ফলের বৈশিষ্ট্য হল তারা ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ুর সাথে খুব ভালোভাবে মানিয়ে যায়।


উপযুক্ত পরিবেশ পাওয়ার কারণে এসব ফল স্বাদে, গন্ধে ও বর্ণে আকর্ষণীয় এবং বৈচিত্র্যময় হয়ে থাকে।


এসব ফলের গাছে তেমন কোনো সার বা সেচ দেয়ার প্রয়োজন হয় না। একরকম বিনা যত্নেই এসব ফল এ দেশের মাটিতে ভালো ফলে।

কেননা এসব গাছের ব্যাপকভাবে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে, যা অনেক বিদেশী ফলের নেই।


দেশি ফলের আর একটা সুবিধা হলো, এসব ফল বা ফল গাছে বিদেশী ফল গাছের মতো অত বেশি রোগ পোকার আক্রমণ হয় না।


বিদেশী ফলের চাইতে দেশী ফলে পুষ্টিগুণও বেশি থাকে বলে পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন।


সে অর্থে বাংলাদেশে প্রচলিত ফলগুলোর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি ফলের উৎপত্তি এই অঞ্চলে হয়েছে।


অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বাংলাদেশে সবচেয়ে প্রচলিত ২৫টি ফলের উৎপত্তির বিষয়ে জানিয়েছেন। এ ফলগুলোর মধ্যে কিছু ফল হলো :


আম

কাঁঠাল

কলা

জাম

বরই / কুল

আখ / গেণ্ডারি

তাল

আমলকী

দেশের তবে দেশি নয়


লিচু

বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে লিচু ব্যাপকভাবে চাষ করা জনপ্রিয় ফল হলেও এই ফলের উৎপত্তি হয়েছে মূলত চীনে। সেইসাথে মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনাম অঞ্চলেও চাষ হতো। তাই একে দেশী ফল বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন গোলাম রাব্বানী।


পরবর্তীতে এই ফলটি ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশ, ভারতীয় উপমহাদেশ, মাদাগাস্কার এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোয় ছড়িয়ে যায়।


বাংলাদেশের রাজশাহী, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও ঈশ্বরদীতে প্রচুর পরিমাণে লিচু চাষ হয়ে থাকে।


লিচুর প্রায় ২০০ জাত রয়েছে, এরমধ্যে বাংলাদেশে বেদানা, গুটি, মাদ্রাজি, বোম্বাই, মঙ্গলবাড়ী, মোজফফরপুরী, চায়না, কদমী বেশি চাষ হয়ে থাকে।


বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট বারি ১, ২, ৩, ৪ এই চার হাতের লিচু উদ্ভাবন করেছে।


জ্যৈষ্ঠের প্রথম সপ্তাহে আসে বারি ১, জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি বারি ৩, জ্যৈষ্ঠের শেষ সপ্তাহে বারি ৪ এবং আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহে বারি ২ জাতের লিচু আসে।

এছাড়া চায়না ৩ নামে উন্নত জাতের লিচু চাঁপাইনবাবগঞ্জে, বোম্বাই জাত যশোর ও কুষ্টিয়ায় চাষ হয়। ভারতের মোজফফরপুর থেকে আসা মোজফফরপুরী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ হয়।


চীন থেকে আসা বেদানা লিচুর ফল পাওয়া যায় জুন জুলাই মাসে।


এছাড়া গুটি, মাদ্রাজি, মঙ্গলবাড়ী জাতের লিচু রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চলে চাষ হয়ে থাকে।


পেয়ারা

পেয়ারা মূলত দক্ষিণ আমেরিকা ও মধ্য আমেরিকার ফল। এছাড়া মেক্সিকো, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে পেয়ারা বেশি জন্মে।


কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে জানা যায়, পেয়ারার প্রায় ১০০টিরও বেশি প্রজাতি আছে। তবে বাংলাদেশে বারি পেয়ারা-১, ২, ৩, বাউ পেয়ারা-১, ২, ৩(লাল শাঁস বিশিষ্ট) ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ উচ্চ ফলনশীল জাত। যা সারাবছর চাষ করা যায়।

সাধারণত বর্ষাকালে গাছে সবচেয়ে বেশি পেয়ারা হয়। তবে সব জাতের পেয়ারার গুণাগুণ শীতকালে বেড়ে যায়।


নারিকেল

নারিকেল হল দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ফল। কৃষি তথ্য সার্ভিসের মতে, বারো মাসের এই ফলের আদিস্থান প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ।


এসব স্থান থেকেই পরবর্তীতে শ্রীলংকা, ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, চীন, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া গিনি, ওশেনিয়া, আফ্রিকা, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ, ঘানাসহ পৃথিবীর প্রায় ৯৩টা দেশে এর বিস্তার ঘটে।


তবে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স এবং ভারত বেশি পরিমাণে নারিকেল উৎপাদন করেছে।


গ্রীষ্মমন্ডলীয় ও উপ গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোতে নারিকেল ভালো জন্মে। এ গাছের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া বেশ উপযোগী। বিশেষ করে যেখানে বছরের বেশিরভাগ সময় ধরে কিছু না কিছু বৃষ্টি ঝরে।


বাংলাদেশ বারী নারিকেল-১ এবং ২ নামে তারা দুটা নারিকেলের জাত অবমুক্ত করেছে। যেগুলো উপকূলীয় এলাকার ভেতরের অংশে দেখা যায়।

মন্তব্য করুন