সহকারী শিক্ষক
১৭ আগস্ট, ২০২৪ ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বাংলা সনের সৃষ্টির ইতিহাস মূলত মুঘল সম্রাট আকবরের আমল থেকে শুরু হয়। বাংলা সনের প্রতিষ্ঠা মূলত কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটি একটি হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের জন্য সময় নির্ধারণের কাজ সহজ করার লক্ষ্যে চালু করা হয়।
ইতিহাসের পটভূমি:
বাংলা সন বা বঙ্গাব্দের সূচনা সম্রাট আকবরের শাসনামলে (১৫৫৬-১৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে) ঘটে। এর আগে ভারতের মুঘল সাম্রাজ্যে মূলত হিজরি (ইসলামিক) সন ব্যবহার করা হতো, যা চন্দ্র ক্যালেন্ডারের উপর ভিত্তি করে ছিল। চন্দ্র ক্যালেন্ডারের কারণে ঋতুগুলি বারবার পাল্টাতো, যা কৃষিকাজের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করত। হিজরি ক্যালেন্ডার কৃষি ফসলের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কার্যকর ছিল না কারণ এটি সৌর বছরের চেয়ে প্রায় ১১ দিন কম হতো। ফলে ফসলের কর সংগ্রহ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কৃষি কাজের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিত।
বাংলা সনের প্রবর্তন:
এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সম্রাট আকবর তাঁর সভাসদ আমির ফতেউল্লাহ শিরাজীকে দায়িত্ব দেন। তিনি হিজরি সন এবং হিন্দু সন (বিক্রম সম্বত) উভয়ের সমন্বয়ে একটি নতুন ক্যালেন্ডার তৈরি করেন, যা চন্দ্র এবং সৌর উভয় বছরকে ভিত্তি করে তৈরি হয়। এটি পরে আকবরি সন বা ফসলি সন নামে পরিচিত হয়। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ এই নতুন ক্যালেন্ডারের প্রবর্তন ঘটে, এবং ১৫৫৬ সালে আকবরের সিংহাসনে আরোহণের সময়কে প্রারম্ভিক বছর হিসেবে ধরে বাংলা সনের গণনা শুরু হয়।
বাংলা সনের কার্যকারিতা:
নতুন এই বঙ্গাব্দের উদ্দেশ্য ছিল কৃষিভিত্তিক কর সংগ্রহকে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা, যাতে কৃষকদের জন্য তা সুবিধাজনক হয়। বাংলা সনের প্রথম মাস বৈশাখ, যা ফসল কাটার সময়ের সঙ্গে মিল রেখে নির্ধারিত হয়েছিল। এখনও বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখের দিন উদযাপন করা হয়, যা নতুন অর্থনৈতিক বছরের সূচনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলা সনের প্রভাব:
বাংলা সন প্রধানত বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, ও আসামে প্রচলিত। বাংলার সংস্কৃতি, উৎসব, এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে এই সন ব্যাপকভাবে গৃহীত হয় এবং বর্তমানে বাংলা নববর্ষ উৎসবটি বাংলাদেশের জাতীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়।
বাংলা সনের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক পরিচয়ও তৈরি হয়, যা আজ পর্যন্ত বাংলাভাষী মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
৫৩
৯১ মন্তব্য