Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ আগস্ট, ২০২৪ ০৪:০৮ অপরাহ্ণ

বছর তেইশ- চব্বিশের তরুণ দৃপ্তকণ্ঠে বলেছিলেন," হ্যাঁ পারবো, নিশ্চয় পারবো"।' সত্যিই তিনি পেরেছিলেন। মিত্র ইন্সটিটিউশনের প্রাক্তনী মোটেও তখন বিখ্যাত সংগীত শিল্পী হয়ে উঠতে পারেন নি

বছর তেইশ- চব্বিশের তরুণ দৃপ্তকণ্ঠে বলেছিলেন," হ্যাঁ পারবো, নিশ্চয় পারবো"।' সত্যিই তিনি পেরেছিলেন। মিত্র ইন্সটিটিউশনের প্রাক্তনী মোটেও তখন বিখ্যাত সংগীত শিল্পী হয়ে উঠতে পারেন নি। সুদর্শন, সুকণ্ঠ বলে কেউ কেউ তাঁকে চেনে। তাঁর নিজের সুরে গাওয়া ' কথা কয়ো নাকো শুধু শোনো' রেকর্ডের বেশ বিক্রি আছে। তরুণ মাঝে মাঝে রেডিয়ো স্টেশনে গান গাইতে আসেন।


কিন্তু সেবার ভয়ানক এক বিপদ বেতার কতৃপক্ষের সামনে। তাদের মাথায় হাত, মতান্তর হওয়ায় পঙ্কজ কুমার মল্লিক সেবার ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠান থেকে সরে গেলেন। রেডিও কর্তৃপক্ষ তাঁর দাবি মানবে না, তিনিও নিজের মনোভাবে অনড়।ইংরেজি ক্যালেণ্ডারে ১৯৪৪ সাল। কিন্তু পঙ্কজ মল্লিক মানে মহালয়া অনুষ্ঠানের এক খুঁটি, গানের সুর,আবহ সংগীত সবই তো তাঁর। তিনি অনুষ্ঠানে নেই মানে রেডিয়োয় মহালয়া বন্ধ ছাড়া বিকল্প কী উপায় আছে! সেই সময় যে সবার ঘরে রেডিয়ো আছে এমন নয়, কিন্তু অনুষ্ঠানটা শুরু থেকেই জনপ্রিয়। মহালয়ার দিন ভোরবেলায় বাঙালি জোরে রেডিয়ো সেট অন করে চালিয়ে দিত। বানীকুমারের লেখা, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের আবৃত্তি স্তোত্র পাঠ,পঙ্কজ মল্লিকের সুরে বাংলার শ্রেষ্ঠ গায়ক গায়িকাদের গান।  সবার মনে অদ্ভুত একটা ভাললাগা সৃষ্টি হত, মনে হত পুজো এসে গেল।


সেই অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে! একবার বন্ধ হলে আর হয়ত কখনও শুরু হবে না! ওইবারে ওটা নাটক বিভাগের সাথে যুক্ত হয়। অভিনেতা বিকাশ রায় তখন রেডিয়োর নাটক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত। তাঁর কাঁধে মহালয়ার বড় দায়িত্ব। সবাই তাঁকে আশ্বস্ত করলেন। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র থেকে বাজিয়েরা সবাই বললেন তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন। শুধু একজন দরকার যিনি গানগুলোর সুর জানেন। পঙ্কজ মল্লিকের অনুপস্থিতিতে পরিচালনা করতে পারবেন। 


এগিয়ে এলেন বাণীকুমার, এগিয়ে এসেছিলেন বিকাশ রায়। সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব নিতে বলা হল  বছর তেইশ চব্বিশের তরুণ সংগীত শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে। তাই হল! সেবছর সংগীত পরিচালনা করলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। 


অভিনেতা বিকাশ রায় সেই ঘটনার স্মৃতিচারণা করেছেন নিজের বই 'মনে পড়ে'তে।

লিখেছেন - " আমার মনে হল আপনি পারবেন! আপনার বয়স তখন কতইবা তেইশ - চব্বিশ! তবু এত বড় একটা অনুষ্ঠান পরিচালনা করার ক্ষমতা আপনারই আছে। কতৃপক্ষ রাজি হয়ে গেলেন। আমার মনে আছে, আপনাকে যখন এ কাজের ভার নিতে বলা হল তখন আপনি এক মুহুর্ত স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন। তারপর দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে বলেছিলেন" হ্যাঁ পারবো নিশ্চয়ই পারবো "।

মনে রাখতে হবে সেই আমলে রেডিয়োয় অনুষ্ঠান রেকর্ড করা হত না,লাইভের যুগ। সেই বয়সেই বোঝা গিয়েছিল হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কত বড় সংগীত পরিচালক কত বড় সংগীত শিল্পী।।


সংকলনে ✍? অরুণাভ সেন।।

© ধ্রুবতারাদের খোঁজে 


পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার মনে পড়ে, বিকাশ রায়

মন্তব্য করুন

ব্লগ