Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ আগস্ট, ২০২৪ ১১:৩২ অপরাহ্ণ

জন্ম তো দেখলাম, পরের জন্মে পুরুষ হ'য়ে দেখব কেমন লাগে*!"অনেকগুলির সন্তানের মধ্যে বেশ কয়েকটি কন্যা সন্তান ছিল।

জন্ম তো দেখলাম, পরের জন্মে পুরুষ হ'য়ে দেখব কেমন লাগে*!"অনেকগুলির সন্তানের মধ্যে বেশ কয়েকটি কন্যা সন্তান ছিল। 

আশাপূর্ণা দেবী জন্মাবার পর তাই ঠাকুমা বললেন, মেয়ের স্বাদ পূর্ণ হয়েছে।

আর মেয়ে নয়।

*তাই নাম রাখা হল," আশাপূর্ণা"*


জন্ম থেকেই এত অবহেলা।

তাই মেয়েদের প্রতি পদে পদে এত অবহেলা একদিন তাঁর সাহিত্যে প্রথম প্রতিশ্রুতি-র  পথ বেয়ে বিদ্রোহিণী সুবর্ণলতা" হ'য়ে  বকুলকথায় এসে  মুক্তির সন্ধান পেল।


ভাইরা পড়ত আর সেই শুনে তিনি শিখলেন বর্ণপরিচয়। 

ভাবা যায়! এরপর তিনি *সাহিত্য রচনা করে পেলেন সাহিত্যে রবীন্দ্র পুরস্কার,  জ্ঞানপীঠ পুরস্কার, পদ্মশ্রী,  বিশ্বভারতীর দেশিকোত্তম,  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিলিট 


এ এক বিরল প্রতিভা!


*কিশোরী  আশাপূর্ণা  একদিন রবীন্দ্রনাথকে হঠাৎ চিঠি লিখে ফেললেন*। 

*কবি সেই চিঠি পড়ে বুঝেছিলেন, আগামীদিনে বাংলাসাহিত্যে  এক সন্ধ্যাতারা ফুটতে চলেছে!* 

চিঠির জবাবে কবি  লিখলেন, 

"আশাপূর্ণা,   তুমি সম্পূর্ণা। "


*চোদ্দবছরে বিয়ে হয়ে গেল*।

*শ্বশুরবাড়িতে ছিল প্রচন্ড রক্ষণশীলতা*। 

সেখানে মেয়েরা নভেল পড়বে, গল্প লিখবে? অকল্পনীয়!  


তাই  প্রথম প্রতিশ্রুতি, বকুলকথা, সুবর্ণলতার মেয়েদের  জীবনযন্ত্রণা যেন তাঁর নিজের জীবনের টুকরো  ছবি।


প্রথম প্রতিশ্রুতি " - তে তিনি যখন লেখেন, 

"নারী জীবন তো দেখলাম, পরের জন্মে পুরুষ হয়ে দেখব কেমন লাগে!

 তখন মন বেদনায় ভরে ওঠে।


তখন মনে হয়, আমাদের দেশের মেয়েদের জীবনে  এখনও কি খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে? 


আশাপূর্ণা দেবীর বড় ভরসা ছিলেন তাঁর স্বামী।

সংসারে সব ঝামেলা মিটিয়ে, ছেলেমেয়েদের খাইয়ে দাইয়ে, ঘুম পাড়িয়ে, রাতে হ্যারিকেনের আলোয় 

লিখতে বসতেনআশাপূর্ণা l


পরবর্তীকালে সেই দু:খের কাহিনি বাংলা সাহিত্যে মুক্তোর মত ফুটে উঠল,   প্রথম প্রতিশ্রুতি,  সুবর্ণলতা, বকুল কথায় ও তাঁর অজস্র লেখায়। 


এরপর এলো সেইদিন!

সাহিত্যের সব থেকেে বড় পুরস্কার "জ্ঞানপীঠ"। 

জ্ঞানপীঠ পাওয়ার পর তাঁর স্বামী বলেছিলেন, আশাপূর্ণা!

আজ আমার ইচ্ছে করছে  সারা কলকাতা মোমবাতির আলো দিয়ে সাজাই।


তবে সেদিন আশাপূর্ণা দেবীর স্বামী  সারা বাড়ি মোম বাতি দিয়ে সাজিয়েছিলেন।

নেমে এসেছিল, " আশাপূর্ণা দীপাবলি।"


আশাপূর্ণা দেবী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কন্ঠে রবীন্দ্রসংগীত শুনতে ভালবাসতেন।

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় একবার তাঁর বাড়িতে এসে আশাপূর্ণা দেবীর  একটি প্রিয় রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে শুনিয়েছিলেন,

"ধায় যেন মোর সকল ভালবাসা

প্রভু,তোমার পানে, তোমার পানে।"


১৩ ই জুলাই আশাপূর্ণা দেবীর চলে যাওয়ার দিন ( ১৯০৯- ১৯৯৫) 

গভীর শ্রদ্ধা রইল। 


*তথ্যসূত্রঃ*

আশাপূর্ণা দেবীর  জীবন ও সাহিত্য নিয়ে  পড়া কিছু বই।

আরো কিছু লেখা।

মন্তব্য করুন