Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ আগস্ট, ২০২৪ ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

চাঁদপুরে বন্যা নয়, সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা



চাঁদপুর সেচ প্রকল্প অভ্যন্তরে এখনো জলাবদ্ধতা দূর হয়নি। ফলে বিশাল এই সেচ প্রকল্পের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শতাধিক গ্রামের নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে আছে। একই পরিস্থিতি চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ, হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি এবং কচুয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো। তবে শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দিনভর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এসব এলাকা থেকে পানি সরতে শুরু করেছে।চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের কারণে বন্যামুক্ত হওয়ায় ফরিদগঞ্জের প্রায় ছোট-বড় ৫ হাজার পুকুরে ৫০টি বিল ও ঝিলে মাছের খামার রয়েছে। টানা ভারি বৃষ্টির কারণে এসব খামার থেকে মাছ ভেসে গেছে।


ফরিদগঞ্জ পৌরসভার কেরোয়া গ্রামের খামারি কামাল হোসেন মিজি জানান, তাদের কয়েকজনের খামার থেকেই প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের নানা প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। তবে মাছের খামার এবং ধানের জমির কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে- তা এখনো চূড়ান্তভাবে তালিকা করা হয়নি।

জানালেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌলি মন্ডল। খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এমন পরিবারকে খুঁজে নৌ পুলিশ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শুকনো খাবার বিতরণ শুরু করেছে। জেলা বিভিন্ন স্থানের নিচু এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট সেতু এবং কালভার্ট নির্মাণ করায় ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে এমন জলাবদ্ধতা। সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।আর দুর্ভোগে পড়া এসব এলাকার অনেক পরিবারই নিজস্ব বসতবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যান। 


চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, জেলা শহরের বড়স্টেশন পয়েন্টে মেঘনায় পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চাঁদপুর সেচপ্রকল্প, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প-এ ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তা নিরসনে দিনরাত চালু হয়েছে স্লুইচ গেটগুলো। নতুন করে বৃষ্টিপাত না হলে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে এই দুটি সেচ প্রকল্প থেকে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে।


চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান জানান, এরইমধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ৭০০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১০ লাখ টাকা এবং ১ হাজার পরিবারের জন্য শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তার মধ্যে বেশকিছু এলাকা নিহিৃত করে চাহিদা মোতাবেক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ