Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ আগস্ট, ২০২৪ ০৮:০০ পূর্বাহ্ণ

আসুন বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াই

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। নদ-নদীর পানি হঠাৎ যেন ফুঁসে উঠেছে। এসব নদীর পানিতে ১০ জেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, নোয়াখালীর ৮ উপজেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও কসবা, রাঙ্গামাটির সাজেক, কুমিল্লা, ফেনী, মৌলভীবাজারের দুটি উপজেলা, চট্টগ্রামের মিরসরাই, চাঁদপুর, সিলেট ও হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যায় গতকাল সকাল পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বন্যায় ৩ দিনে দেশের ৬ জেলার ৪৩টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্যায় কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজারের ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৬৩টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৪৮ জন। পানিবন্দি হয়ে আছেন এসব জেলার লাখ লাখ মানুষ। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী নদীবেষ্টিত মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা, মনু, ধলাই ও জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। অভিযোগ উঠেছে, ভারতীয় বাঁধ থেকে পানি ছাড়ার কারণে বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে ভারতের দাবি, বাঁধের পানি ছাড়ার কারণে বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর বলছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশ-সংলগ্ন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যে। ফলে গোমতী ও ফেনী নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে বাংলাদেশে দেখা দিয়েছে বন্যা। এছাড়া সিকিমে পাহাড়ধসে ভেঙে গেছে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি বাঁধ। এতেই তিস্তার পানি নিয়ে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে উত্তরাঞ্চলের জেলায় জেলায়। বন্যা প্রতি বছর হয় না, কয়েক বছর পরপর হঠাৎ হয়। মূলত আমাদের দেশে বন্যা হয় প্রতিবেশী দেশের পাহাড়ি পানির ঢল থেকে। বর্ষায় যে পরিমাণ জমি ডুবে যায়, বন্যায় তার থেকে বহুগুণ বেশি জমি, ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। কয়েক দশক ধরে বন্যা হচ্ছে ঘনঘন। চলতি বছর এ নিয়ে ৫ দফা বন্যার কবলে পড়েছে দেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে বেশকিছু কারণ। অপরিকল্পিত বাঁধ, নদীর নাব্য সংকট, খাল হারিয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে বন্যা হয়। নদী-খাল যে পরিমাণ পানি বহন করতে পারত, সে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে ভারি বৃষ্টি হলেই বন্যার কবলে পড়ছে মানুষ। এমন দুর্যোগ শেষ দেখা গেছে ১৯৯৮ সালে। বন্যা, বৃষ্টিপাত কোনো কিছুই আটকানো যাবে না। তবে সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা দুর্ভোগ অনেকটাই কমাতে পারে। এ নিয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। কোথায় নেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ? কমবেশি সব দেশেই আছে। বিপদের সময় বানভাসি মানুষের সেবায় এগিয়ে এসে প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। বিপদগ্রস্তরা সাহায্যের অর্থ, ত্রাণসামগ্রী, খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ, খাওয়ার স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে খুবই উপকৃত হয়। বন্যার কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা উদ্ধার কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণসহায়তা কীভাবে বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার। দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

মন্তব্য করুন

ব্লগ