Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ আগস্ট, ২০২৪ ০১:২৬ অপরাহ্ণ

শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট

শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট

 

 

 

 

 

 

 


শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট (Leucocyte; গ্রিক leucos = বর্ণহীন, kytos = কোষ) : 

মানবদেহের পরিণত শ্বেত কণিকা হিমোগ্লোবিনবিহীন, অনিয়তাকার ও নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় কোষ। এগুলো ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে। মানুষের শ্বেত রক্তকণিকা নির্দিষ্ট আকারবিহীন। প্রয়োজনে আকার পরিবর্তিত হয়। নিউক্লিয়াস প্রথমে গোল বা ডিম্বাকার হয় কিন্তু বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে বৃক্কাকার ও অশ্বক্ষুরাকার ধারণ করে। নিউক্লিয়াস সাইটোপ্লাজমের চাপে একপ্রান্তে অবস্থান নেয়। এগুলো লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে বড়, গড় ব্যাস আকৃতির বিভিন্নতা অনুসারে ৭.৫-২০1m। মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৫-৮ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে সংখ্যা বেড়ে যায়। লোহিত রক্তকণিকা ও শ্বেত রক্তকণিকার অনুপাত ৭০০ : ১।

 

শ্বেত রক্তকণিকা নিউক্লিওপ্রোটিনসমৃদ্ধ এবং লিপিড, কোলেস্টেরল, অ্যাসকরবিক এসিড ও বিভিন্ন প্রোটিওলাইটিক এনজাইম বহন করে। আকৃতি ও গঠনগতভাবে শ্বেত রক্তকণিকাকে প্রধান দুভাগে ভাগ করা যায়,যথা-

ক. অদানাদার বা অ্যাগ্যানুলোসাইট (agranulocytes) এবং
খ. দানাদার বা - গ্র্যানুলোসাইট (granulocytes)।

 

ক. অ্যাগ্র্যানুলোসাইট : এ ধরনের লিউকোসাইট দানাহীন, স্বচ্ছ বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং আকৃতিগতভাবে দুরকম : ১.লিম্ফোসাইট (lymphocyte) ও ২. মনোসাইট (monocyte)। এদের উৎপত্তি লসিকা গ্রন্থি, প্লীহা, থাইমাস ও ক্ষুদ্রান্ত্রের লসিকা টিস্যু থেকে।


১. লিম্ফোসাইট : এগুলো সমসত্ত্ব ও ক্ষারাসক্ত সাইটোপ্লাজমের পাতলা স্তরে আবৃত বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ছোট কণিকা। এগুলো কৈশিক নালি থেকে যোজক টিস্যুতে গমন করতে পারে। এসব কণিকা দুধরনের- বড় লিম্ফোসাইট (ব্যাস প্রায় ১২um) এবং ছোট লিম্ফোসাইট (ব্যাস প্রায় ৭.৫um)


২. মনোসাইট : এগুলো বিপুল পরিমাণ সাইটোপ্লাজম ও একটি অপেক্ষাকৃত ছোট, ডিম্বাকার ও বৃক্কাকার নিউক্লিয়াসবাহী বড় কণিকা।

 

খ. গ্র্যানুলোসাইট : এসব কণিকার সাইটোপ্লাজম সূক্ষ্ম দানাময় এবং ২-৭ খন্ডযুক্ত নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট । এদের ব্যাস ১২-১৫um। দানাগুলো লিশম্যান রঞ্জকে নানাভাবে রঞ্জিত হয়। বর্ণধারণের ক্ষমতার ভিত্তিতে গ্র্যান্যুলোসাইট তিন ধরনের-

১. নিউট্রোফিল (Neutrophil) : সাইটোপ্লাজম বর্ণ-নিরপেক্ষ দানাযুক্ত;

২. ইওসিনোফিল (Eosinophil) : দানাগুলো ইওসিন রঞ্জকে লাল বর্ণ ধারণ করে; এবং

৩. বেসোফিল (Basophil) : দানাগুলো ক্ষারাসক্ত হয়ে নীল বর্ণ ধারণ করে।

 

শ্বেত রক্তকণিকার কাজ :

• মনোসাইট ও নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস (phagocytosis) প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে ধ্বংস করে। এই লিম্ফোসাইটগুলো অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে রোগ প্রতিরোধ করে (এজন্য এদের আণুবীক্ষণিকসৈনিক বলে)।

• বেসোফিল হেপারিন (hepatin) উৎপন্ন করে যা রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্তজমাট রোধ করে।

• দানাদার লিউকোসাইট হিস্টামিন (histamin) সৃষ্টি করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 

•
নিউট্রোফিলের বিষাক্ত দানা জীবাণু ধ্বংস করে।

• ইওসিনোফিল রক্তে প্রবেশকৃত কৃমির লার্ভা এবং অ্যালার্জিক-অ্যান্টিবডি ধ্বংস করে।

 

মন্তব্য করুন