প্রভাষক
২৬ আগস্ট, ২০২৪ ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
শিক্ষায় উপকরণের ব্যবহার।
শিক্ষায় উপকরণ
শিক্ষা উপকরণঃ
সাধারণত শিখন শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত দ্রব্য সামগ্রীকেই শিক্ষা উপকরণ বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, যেসব বস্তু বা দ্রব্য-সামগ্রী উত্তমরূপে ব্যবহার করে বিষয়বস্তুকে সহজ, আাকর্ষণীয় ও প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করা যায়, পাঠের প্রতি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায় এবং শিক্ষাদান কার্যকর ও স্থায়ী করা সম্ভব হয় তাদেরকে শিক্ষা উপকরণ বলা হয়।
শিক্ষা উপকরণের শ্রেণীবিভাগ
শিক্ষার স্তর ও শ্রেণীভেদে পাঠদানের বিষয়বস্তুর চাহিদার আলোকে ভিন্ন ভিন্ন উপকরণ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। শিক্ষাবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষা উপকরণকে শ্রেণীবিভাগ করেছেন।
সংগ্রহের উৎস হিসেবে উপকরণ দু’ধরনের।
যথা:
১. বাণিজ্যিক উপকরণ (শিল্প কারখানায় তৈরি এবং দোকান থেকে কেনা)
২. সহজলভ্য উপকরণ (পরিবেশ থেকে সংগৃহীত, শিক্ষক/শিক্ষার্থৗ কর্তৃক অল্প খরচে স্থানীয়ভাবে তৈরি)
কার্যকারিতার ধরন অনুযায়ী শিক্ষা উপকরণ দু’ধরনের।
যথা:
১. প্রক্ষেপক উপকরণ (যার সাহায্যে দেয়াল বা পর্দায় ছবি, লেখা, স্লাইড ইত্যাদি প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করা যায়)
২. প্রক্ষেপহীন উপকরণ (যেসব উপকরণ দ্বারা কোন প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করা যায় না)
শিক্ষার্থীদের বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী শিক্ষা উপকরণ তিন প্রকার।
যথা:
১. বক্তিগত/একক শিক্ষার্থীর জন্য উপকরণ
২. দলগত/শ্রেণী শিক্ষার জন্য উপকরণ
৩. সমষ্টিগত/গণশিক্ষার জন্য উপকরণ
মানব শিশুর শিক্ষালাভের উৎস সমূহের ধরন অনুযায়ী শিক্ষা উপকরণ তিন ধরনের হতে পারে।
যথা:
১. সরাসরি ইন্দ্রিয় সংযোজক বস্তু।
২. ঘটনার প্রতিনিধিত্বকারী চিত্র বা অনুরূপ দ্রব্য।
৩. মৌখিক বা মুদ্রিত শব্দাব।
উপরে বিভিন্ন দিক থেকে শিক্ষা উপকরণের শ্রেণীকরণ করা হয়েছে। এবার আমরা গুণভেদে শিক্ষা উপকরণের শ্রেণীকরণ করব এবং এই শ্রণীকরণই হবে আমাদের মূল আলোচ্য বিষয়।
গুণভেদে থেকে শিক্ষা উপকরণকে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যথা:
ü ১. শ্রবণভিত্তিক উপকরণ
ü ২. দর্শনভিত্তিক উপকরণ
ü ৩. শ্রবণ-দর্শনভিত্তিক উপকরণ
ü ৪. অনুসন্ধানমূলক উপকরণ
ü ৫. কর্ম সম্পাদনমূলক উপকরণ
১. শ্রবণভিত্তিক উপকরণঃ
শিখন শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয় তন্মধ্যে শ্রবণভিত্তিক উপকরণ অন্যতম। যেসব উপকরণ শিক্ষার্থীদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়কে সক্রিয় করে বিষয়বস্তুকে সহজে বোধগম্য করে তোলে সেসব উপকরণকে শ্রবণভিত্তিক উপকরণ বলা হয়। শ্রেণীকক্ষে শ্রবণভিত্তিক উপকরণ ব্যবহার করার ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণে কেবল শ্রবণ ইন্দ্রিয় ব্যবহারের সুযোগ পায় এবং তাদের শোনার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
শ্রবণভিত্তিক উপকরণগুলো নিম্নরূপ:
v রেডিও
v টেপ রেকর্ডার
v মাইক্রোফোন ইত্যাদি।
২. দর্শনভিত্তিক উপকরণঃ
শ্রেণী পাঠদানে যেসব উপকরণ ব্যবহার করার ফলে শিক্ষার্থীরা কেবল তাদের দর্শন ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে পঠন-পাঠনে সক্রিয় হয় সেসব উপকরণকে দর্শনভিত্তিক উপকরণ বলে। দর্শনভিত্তিক উপকরণ শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যে কোন স্তরের শ্রেণী পাঠদান কার্যক্রমে দর্শনভিত্তিক উপকরণ ব্যবহার অপরিহার্য। দর্শনভিত্তিক উপকরণ শিক্ষার্থীদের লেখা ও দেখার দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি উপস্থাপন কৌশল বিকাশের সুযোগ করে দেয়।
নিচে কতিপয় দর্শনভিত্তিক উপকরণের একটি তালিকা দেওয়া হলো:
v পাঠ্যপুস্তুক
v বিভিন্ন রেফারেন্স বই
v চকবোর্ড ও চক
v হোয়াইট বোর্ড
v হোয়াইট বোর্ড মার্কার
v পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, জার্নাল
v পাঠ সংশ্লিষ্ট বস্তু বা দ্রব্য
v বিভিন্ন মডেল, চার্ট
v ফ্লিপ চার্ট
v বুলেটিন বোর্ড
v ওভারহেড প্রজেক্টর
v স্লাইড প্রজেক্টর
v ম্যাপ
v বিভিন্ন ছবি
v গ্লোব
v পোস্টার পেপার ইত্যাদি।
৩. শ্রবণ-দর্শন উপকরণঃ
যেসব উপকরণ শিক্ষার্থীর একই সাথে শ্রবণ ও দর্শন ইন্দ্রিয়কে সক্রিয় করে বিষয়বস্তু অনুধাবনে সাহায্য করে সেসব উপকরণকে শ্রবণ-দর্শন উপকরণ বলা হয়। শ্রেণীকক্ষে শ্রবণ-দর্শন উপকরণ ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীরা শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের পাশাপাশি দর্শন ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে পাঠে সক্রিয় হয়। এ ধরনের উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠের মূল বক্তব্য, বিষয়বস্তুর প্রধান অংশের শিরোনাম, পর্ব শিরোনাম ইত্যাদি শ্রেণীতে উপস্থাপন করা যায়।
শ্রবণ-দর্শনভিত্তিক উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
v টেলিভিশন
v ডিভিডি প্লেয়ার
v মনিটর
v কম্পিউটার
v চলচ্চিত্র।
৪. অনুসন্ধানমূলক উপকরণঃ
অনুসন্ধানমূলক উপকরণ বলতে শ্রেণী পাঠদানে ব্যবহৃত এমন কতিপয় উপকরণকে বোঝায় যেগুলো ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীরা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পাদন ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। অনুসন্ধানমূলক উপকরণ সাধারণত বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এসব উপকরণ ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অনুসন্ধানমূলক কর্মতৎপরতা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার বিকাশ ঘটে।
অনুসন্ধানমূলক উপকরণগুলো নিম্নরূপ:
v পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য-সামগ্রী
v পরিমাপক যন্ত্রাদি
v বিভিন্ন পরীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদি।
৫. কর্ম সম্পাদনমূলক উপকরণঃ
শ্রেণীকক্ষের শিখন-শেখানে কার্যক্রমকে বাস্তবভিত্তিক ও যথার্থ করার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে কাজ করার মাধ্যমে এমন কিছু উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া যায় যেগুলোকে কর্ম সম্পাদনমূলক উপকরণ হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে। এসব উপকরণ ব্যবহার করার ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষের বাইরে বাস্তব পরিবেশে ‘হাতে-কলমে কাজ করার সুযোগ পায়। ফলে পাঠের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাদের ধারণা যথার্থ হয়।
কর্ম সম্পাদনমূলক উপকরণগুলো নিম্নরূপঃ
v খামার
v দর্শনীয় বস্তু
v দর্শনীয় স্থান
v মিউজিয়াম
v পরিবেশ-প্রকৃতি ইত্যাদি।
১৮
২৯ মন্তব্য