সহকারী শিক্ষক
২৬ আগস্ট, ২০২৪ ০৩:০২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
| কাপ্তাই বাঁধ | |
|---|---|
২০২০ সালে কাপ্তাই বাঁধ | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| অবস্থান | কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি জেলা |
| স্থানাঙ্ক | ২২°২৯′৪০.১১″ উত্তর ৯২°১৩′৩১.৫৩″ পূর্ব |
| উদ্দেশ্য | বিদ্যুৎ উৎপাদন |
| অবস্থা | ক্রিয়াকলাপ |
| নির্মাণ শুরু | ১৯৫৭ |
| উদ্বোধনের তারিখ | ১৯৬২ |
| বাঁধ এবং অতিরিক্ত জলনির্গমপথ | |
| বাঁধের ধরন | বাঁধ |
| আবদ্ধতা | কর্ণফুলী নদী |
| উচ্চতা | ৪৫.৭ মিটার (১৫০ ফুট) |
| দৈর্ঘ্য | ৬৭০.৬ মিটার (২,২০০ ফুট) |
| প্রস্থ (চূড়ায়) | ৭.৬ মিটার (২৫ ফুট) |
| প্রস্থ (ভিত্তিতে) | ৪৫.৭ মিটার (১৫০ ফুট) |
| বাঁধের আয়তন | ১৯,৭৭,০০০ ঘনমিটার (৬,৯৮,০০,০০০ ঘনফুট) |
| অতিরিক্ত জলনির্গমপথের ধরন | নিয়ন্ত্রিত, ১৬টি গেট |
| অতিরিক্ত জলনির্গমপথের ধারণক্ষমতা | ১৬,০০০ ঘনমিটার প্রতি সেকেন্ড (৫,৭০,০০০ ঘনফুট/সেকেন্ড) |
| জলাধার | |
| তৈরি | কাপ্তাই হ্রদ |
| মোট ধারণক্ষমতা | ৬,৪৭,৭০,০০,০০০ ঘনমিটার (৫২,৫১,০০০ acre feet) |
| অববাহিকার আয়তন | ১১,০০০ বর্গকিলোমিটার (৪,২০০ বর্গমাইল) |
| পৃষ্ঠতলের আয়তন | ৭৭৭ বর্গকিলোমিটার (৩০০ বর্গমাইল) |
| সাধারণ উচ্চতা | ৩৩ মিটার (১০৮ ফুট) |
| পাওয়ার স্টেশন | |
| সম্পাদনের তারিখ | ১৯৬২, ১৯৮২, ১৯৮৮ |
| ঘূর্ণযন্ত্র | ২ x ৪০ মেগাওয়াট (৫৪,০০০ অশ্বশক্তি), ৩ x ৫০ মেগাওয়াট (৬৭,০০০ অশ্বশক্তি) কাপলান-টাইপ |
| স্থাপিত ক্ষমতা | ২৩০ মেগাওয়াট (৩,১০,০০০ অশ্বশক্তি) |
কাপ্তাই বাঁধ বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত ও চট্টগ্রাম থেকে ৬৫ কিলোমিটার (৪০ মাইল) উজানে কর্ণফুলি নদীর উপর নির্মিত একটি বাঁধ। কাপ্তাই হ্রদ নামে পরিচিত এটির একটি কৃত্রিম জলাধার রয়েছে যার পানি ধারণক্ষমতা ৫২,৫১,০০০ একর (২১,২৫,০০০ হেক্টর)। বাঁধ ও হ্রদটি নির্মাণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। ১৯৬২ সালে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।[১] বাঁধের সঞ্চিত পানি ব্যবহার করে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ১৯৬২ ও ১৯৮৮ সালের মধ্যে এখানে সর্বমোট ২৩০ মেগাওয়াট (৩,১০,০০০ অশ্বশক্তি) বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর বসানো হয়। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম বাঁধ ও একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।[২]
এছাড়া এখানে ‘কাপ্তাই ৭.৪ মেগাওয়াট সোলার পিডি গ্রিড কানেকটেড বিদ্যুৎকেন্দ্র' নামে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়। পানিবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে বাঁধের পাশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান।[৩]
১৯০৬ সালে কর্ণফুলি জলবিদুৎ প্রকল্প সম্পর্কে প্রথম চিন্তাভাবনা করা হয় এবং সে সময়ে এ লক্ষ্যে একটি সংক্ষিপ্ত প্রাথমিক সমীক্ষা চালানো হয়। ১৯২৩ সালে এ ধরনের আরেকটি সমীক্ষা চালানো হয়। ১৯৪৬ সালে, ই.এ. মুর কর্তৃক পেশকৃত প্রতিবেদনে বর্তমান বাঁধের অবস্থান থেকে ৬৫ কিমি উজানে বরকলে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। ১৯৫০ সালে, প্রকৌশল পরামর্শক সংস্থা মার্জ রেনডাল ভ্যাটেন কাপ্তাই থেকে ৪৮ কিলোমিটার (৩০ মাইল) উজানে চিলারডাকে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব করে।
১৯৫১ সালে, সরকারি প্রকৌশলীগণ কাপ্তাই থেকে ১১ কিলোমিটার (৬.৮ মাইল) ভাটিতে চিতমোরামে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব করে। ১৯৫১ সালে, সেচ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খাজা আজিমুদ্দিনের তত্ত্বাবধানে বাঁধ নির্মাণের স্থান হিসেবে কাপ্তাইকে নির্বাচিত করা হয়। ১৯৫৭ সালের অক্টোবরে বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের আমলে ১৯৫৭ সালে কাপ্তাই বাঁধের নির্মাণ কার্য শুরু হয় ও ১৯৬২ সালে এর নির্মাণ সমাপ্ত হয়।[৪] ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি এবং ইউতাহ ইন্টারন্যাশনাল ইনকর্পোরেট এ বাঁধটি নির্মাণ করে। সে সময় বাঁধে, পানি নির্গমন পথ, জলকপাট এবং দুটি ৪০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কাপলান টারবাইন জেনারেটর নির্মিত হয়। প্রকল্পের জন্য তখন প্রায় ২৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হলেও পরে তা ৪৮ কোটি ছাড়িয়ে যায়। এই প্রকল্পটির অর্থায়ন করে পূর্ব পাকিস্তান সরকার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিদেশী অর্থনৈতিক সহযোগিতা তহবিল।
১৯৮২ সালের আগস্টে, এখানে একটি ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর স্থাপন করা হয়। ১৯৮৮ সালের অক্টোবরে, চতুর্থ এবং পঞ্চম উৎপাদক ইউনিটে ৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কাপলান ধরনের টারবাইন স্থাপন করা হয়; যার ফলে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়।[৫]
মাটি ভরাটের মাধ্যমে এই বাঁধটি নির্মিত হয়েছে। বাঁধটির দৈর্ঘ্য ৬৭০ মিটার (২,২০০ ফুট) ও প্রশস্ত ৪৫.৭ মিটার (১৫০ ফুট)। এর ভিত্তিস্তর এবং উপরিতলের প্রশস্ততা যথাক্রমে ৪৫৭ মিটার এবং ৭.৬ মিটার। বাঁধটি সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা থেকে ৩৬ মিটার উপরে অবস্থিত। পানি নির্গমনের জন্য বাঁধের বাঁদিকে ২২৭ মিটার দীর্ঘ আলাদা নির্গমপথ রয়েছে, যা দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ১৬,০০০ ঘন মিটার পানি নির্গত হতে পারে। নির্গমপথে ১৬টি পরপর আলাদা দরজা যুক্ত রয়েছে, যার প্রতিটির মাপ ১২.২ মিটার × ১১.৫ মিটার।
বাঁধটি নির্মাণের ফলে ৬৫৫ বর্গকিলোমিটার (২৫৩ বর্গমাইল) অঞ্চল পানিতে নিমজ্জিত হয়। কাপ্তাই এলাকার স্থায়ী আদিবাসীরা এই বাঁধ নির্মাণের ফলে তারা তাদের বাড়ী-ঘর এবং চাষাবাদযোগ্য জমি হারিয়েছেন। প্রায় ১৮,০০০টি পরিবার এবং ১,০০,০০০ জন উপজাতি বাস্তুচ্যুত হতে হয়। চল্লিশ হাজারেরও অধিক চাকমা সম্প্রদায় প্রতিবেশী দেশ ভারতে স্থানান্তরিত হয়। জমি অধিগ্রহণের ফলে ঐ এলাকায় সৃষ্ট সংঘর্ষের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।[৬] এছাড়াও, এ বাঁধ নির্মাণজনিত কারণে জীববৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। বন্যপ্রাণী এবং তাদের বসবাস উপযোগী আবাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৬
১২ মন্তব্য