Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ আগস্ট, ২০২৪ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

শিক্ষক লাঞ্ছনা আর কত!

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

ইদানিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বলপূর্বক অপসারণ একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন। জুতার মালা পরিয়ে, গাছের সাথে বেঁধে চরম অবমাননা ও লাঞ্ছনার শিকার করে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সেই ভিডিও ধারণ করে অধিক ভিউয়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আর এই কাজগুলো  করানো হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারাই। এহেন কর্ম দেখে অনেকেই হর্ষ বা বিষাদ মাখা অভিব্যক্তি প্রকাশ করছেন। প্রতিনিয়ত ঘটে চলা এই সব ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমাকে নিদারুণ আহত করেছে। বিবেকবান মানুষ বলতেই কষ্ট পাবেন এটা স্বাভাবিক। 

আদিকাল থেকেই আমরা জেনে আসছি শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর। এ জন্যই বলা হতো শিক্ষকতা মহান পেশা।

আমার মনে হয় এই লাঞ্ছনার পেছনে মূল কারণ

 ১) দুর্নীতি অথবা

২) রাজনৈতিক পরিচয়।


দুর্নীতির জন্য যদি এমনটা করা হয় তো এর জন্য কমিটি, আরো বিশেষ কিছু সহযোগী শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও এতে জড়িত থাকাই স্বাভাবিক। আর এর জন্য তো প্রশাসন রয়েছে। শিক্ষার্থীরা কেন এ কাজে জড়াবে, সেটাই আমার প্রশ্ন। 


রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য যদি এমন হয় তো প্রশ্ন থেকে যায় শিক্ষকের কি রাজনৈতিক অভিমত থাকতে পারবে না। সমাজের বিবেকবান, ভালো মানুষ যারা আছেন তাঁদের কি রাজনীতির সাথে সম্পর্ক থাকতে পারবে না? তাহলে ব্যাপারটা এমন হলো না যে রাজনীতি খুব নোংরা জিনিস যার সাথে সুশীল সমাজের কোনই সম্বন্ধ থাকতে পারবে না?

আমার শিক্ষকের রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে আমার ১৮০° বৈপরীত্য থাকতেই পারে তাই বলে কি আমাকে আমার শিক্ষক কে লাঞ্ছিত করতে হবে?

রাজনীতি যদি নীতির রাজা হয় তাহলে আমাদের নৈতিকতা আজ কোথায়?

পরিশেষে বলব: আমাদের শিক্ষার্থীরা আজ রাজনীতিবিদদের গিনিপিগ হয়ে অজ্ঞাত সারে তাদের শিক্ষকদের সাথে এমন অমানবিক আচরণ করছে যার জন্য একটা অনাগত অভিশপ্ত জীবন তারা বয়ে বেড়াবে। একদিন তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবে হয়তো কিন্তু ততক্ষণে অনেক বেলা চলে যাবে।

(একজন শিক্ষার্থীর অনুভব থেকে আমার এই লেখা)

।।ছবিটি প্রতিকী।।

মন্তব্য করুন

ব্লগ