সহকারী প্রধান শিক্ষক
২৭ আগস্ট, ২০২৪ ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
কলকাতায় প্রায় দেড় বছর বস্তির ঘরে জীবন কাটিয়েছেন। খেতেন পাইস হোটেলে, কিন্তু তাঁর নির্দিষ্ট কোনও ঠিকানা ছিল না। খিদের সময় পথের ধারে যেটি চোখে পড়ত সেখানেই বসতেন৷ হাতে তিনটি টাকা থাকলে লাভপুর যেতেন৷ কিছু লিখে দশটা টাকা জোগাড় হলেই কলকাতায় ফিরে আসতেন৷ বিভিন্ন-পত্রিকা সম্পাদকের কাছে নিজের লেখা গল্পগুলো দিয়ে করুণ আবেদন, যেন ওই গল্পগুলো প্রতিমাসে প্রকাশিত হয় তাহলে তিনি কিছু টাকা পাবেন,কারণ চুড়ান্ত আর্থিক অনটন..??
১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছ'মাস জেল খেটে কথা সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেছিলেন 'সাহিত্যে সেবার পথেই দেশের সেবা'৷ নিজের প্রথম উপন্যাস 'চৈতালী ঘূর্ণি' নিজের খরচে ছাপিয়েছিলেন শুধু তাই নয়,বইগুলি বিক্রির জন্য যে দোকানে রেখেছিলেন সেই দোকানের কর্মচারী বলেছিলেন 'বইগুলো নিয়ে যান আপনি৷ঝাঁকামুটে ডেকে আনুন,বিক্রি হয় না৷ ও দিয়ে জায়গা জুড়ে রাখতে পারব না আমরা'৷ সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে তারাশঙ্কর কে সহ্য করতে হয়েছে অনেক অবহেলা,অবজ্ঞা,এই ঘটনা তার এক উদাহরণ।
একদিন হঠাৎ দেখা হয়েছিল শিল্পী যামিনী রায়ের সঙ্গে,তিনি তারাশঙ্কর কে অনুপ্রাণিত করে বলেছিলেন কেন দেশে? কলকাতায় চলে আসুন৷ তারাশঙ্কর কলকাতায় এসে আত্মীয়ের বাড়ি উঠেছিলেন,তবে সেখানে আত্মসম্মান নিয়ে বেশিদিন কী করে থাকা যায়! অশ্বিনী দত্ত রোড,মহানির্বাণ রোড ও মনোহরপুকুর রোডের সংযোগস্থলে একটি টিনের ঘর ভাড়া করলেন৷ গাঁয়ের জমিদার সেদিন হয়েছিলেন মহানগরীর একটি টিনে ছাওয়া বাড়ির পাঁচ টাকার ভাড়াটে৷
কলকাতায় তখন এক পেয়ালা চায়ের দাম মাত্র দু'পয়সা আর সেই আমলে কথা সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এক মাসে শুধু চা খেয়ে ফেলেছিলেন অনেকটা টাকার৷ সারাদিন ধরে শুধু লিখেই চলেছেন,খিদে পেলে কেবল চা খেয়ে নেন,খাওয়া-দাওয়ার দিকে নজর দেওয়ার ফুরসৎ নেই৷ লেখার ঝোঁকে দুরারোগ্য কোলাইটিস-গ্যাসট্রিকের শিকার হয়েছেন৷
বস্তি আর বউবাজারে থাকার সময় শরীরের উপর সাংঘাতিক অত্যাচার করেছেন, জেলজীবনে শরীরে বাসা বেঁধেছিল অর্শ সহ নানা আন্ত্রিক ব্যাধি৷ তারাশঙ্কর সেসব কিছু ধর্তব্যের মধ্যে আনতেন না,চোখে তখন কেবল স্বপ্ন প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক হবেন,আর্থিক অনটন কাটিয়ে উঠবেন৷
কৈশোর বেলায় রাজনীতি দোলা দেয়, তিনি যখন নবম শ্রেণীর পড়ুয়া৷ রামপুরহাট থেকে গ্রেফতার হলেন বিপ্লবী দু'কড়িবালা দেবী, শুনেছিলেন সেই মহিয়সী নারী #বন্দেমাতরম ধ্বনি দিয়ে পুলিশের গাড়িতে উঠেছেন,তাঁকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ মনের আবেগে তাঁকে দেখতে গেলেন। তাঁর সঙ্গে দেখা না হলেও দেখা পেয়েছিলেন আরেক বিপ্লবী নলিনী বাগচীর সাথে,যিনি পুলিশের সাথে মুখোমুখি লড়াইয়ে আত্মহুতি দিয়েছিলেন৷ বিপ্লবীদের সঙ্গে তারাশঙ্করের যোগাযোগ ব্রিটিশ গোয়েন্দা পুলিশের চোখ এড়ায়নি। ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছ'মাস জেল খেটে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেছিলেন 'সাহিত্যে সেবার পথেই দেশের সেবা'৷
মেজভাই কে সঙ্গে নিয়ে বোলপুরে একটি প্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভেবে রেখেছিলেন ওই প্রেস থেকে তিনি একটি দেশপ্রেম প্রচার পত্রিকা প্রকাশ করবেন৷ প্রশাসন ওই প্রেসে খানাতল্লাস করেছিল৷ দাবি করা হয়েছিল দু'হাজার টাকার জামানত, নেতাজি সুভাষচন্দ্র তারাশঙ্কর কে পরামর্শ দিলেন জামানত না দিয়ে বন্ধ করে দিন প্রেস..?
তারাশঙ্করের বউবাজারের মেস ছিল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মেস৷ এই মেস প্রবাসে বিচিত্র সব মানুষের সঙ্গে পরিচয় কিংবদন্তি কথা সাহিত্যিকের শিল্পিমানসকে বিপুল সমৃদ্ধ করেছে৷ ১৩৪৪সালে বসন্ত কালে বউবাজারের বিচিত্র অভিজ্ঞতার মেস থেকে চলে এলেন হ্যারিসন রোডের 'শান্তিভবন'বোডিংয়ে৷ ততদিনে তাঁর মুদ্রিত গল্পের সংখ্যা পঁচাত্তর, প্রকাশিত গ্রন্থ সাত, সাহিত্য সাধনার জন্য পুরস্কার পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথের কাছে৷
পল্লী-কর্মী সন্মেলনে তাঁকে দেখে রবীন্দ্রনাথ চিনতে পেরেছেন অভিভূত হয়েছিলেন। তারাশঙ্কর, কথাপ্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ তারাশঙ্কর কে বলেছিলেন, “তোমার মত গাঁয়ের মানুষের কথা আমি আগে পড়িনি...।”??
সংকলনে ✍? অরুণাভ সেন
♦️তথ্যসূত্রঃ তারাশঙ্করের শিল্পী মানস (ড.নিতাই বসু)
© এক যে ছিলো নেতা
| #এক_যে_ছিলো_নেতা |
? Facebook এর পাশাপাশি আমরা পথচলা শুরু করেছি YouTube এও.. আমাদের কাজ ভালো লাগলে আমাদের channel টি Subscribe করে পাশে থাকবেন..
১৮
২৯ মন্তব্য