Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ আগস্ট, ২০২৪ ০১:২১ পূর্বাহ্ণ

যুগে যুগে আনসার বিদ্রোহ

যুগে যুগে আনসার বিদ্রোহ 

মো: রবিউল ইসলাম 



উনিশেশা চুরানব্বই সালের পয়লা ডিসেম্বর। ঢাকার কাছেই শফিপুর আনসার একাডেমিতে প্যারেডের জন্য জড়ো হয়েছেন আনসার সদস্যরা।

প্যারেড শুরু হবার আগেই একটি ঘটনা ঘটে। আনসারের এক সদস্য তার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তারা সাথে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন।

অভিযোগ ওঠে, বিতণ্ডার এক পর্যায়ে সে কর্মকর্তা আনসার সদস্যকে আঘাত করে। এ সময় তার চিৎকারে অন্য আনসার সদস্যরা ছুটে আসেন।

মুহূর্তেই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আনসার সদস্যরা। তাদের বিক্ষোভ পরিণত হয় বিদ্রোহে। দাবী ওঠে সাত দফার

কেমন ছিল পরিস্থিতি?

সরকারি প্রেসনোটে বলা হয়েছিল, আনসার সদস্যদের দাবি নিয়ে আলোচনা করার জন্য বাহিনীটির মহাপরিচালক আনসার একাডেমিতে সকল আনসারকে দরবারে উপস্থিত হবার নির্দেশ দেন।

কিন্তু মহাপরিচালক উপস্থিত হবার আগেই কিছু উশৃঙ্খল আনসার সদস্য লাঠিসোঁটা নিয়ে উপ-মহাপরিচালকের উপর হামলা চালায়।

তৎকালীন বিভিন্ন খবরের কাগজের তথ্যমতে আনসার সদস্যরা রাস্তায় গাছ ফেলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া আনসার একাডেমির ভেতরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আনসার সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এসময় আনসার সদস্যরা ভেতরে বিভিন্ন ভবনে ভাঙচুর চালায়।

শফিপুরে আনসার একাডেমিতে বিদ্রোহের এই খবর আসে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় অবস্থিত আনসার সদরদপ্তরে।

তখন সেখানেও বিক্ষোভ শুরু হয়। সদর দপ্তরে প্রায় ৬০০'র মতো আনসার সদস্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিম্মি করে।

ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত বিদ্রোহী আনসার সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় খিলগাঁও আনসার সদরদপ্তরে এসে জড়ো হয়।

এই ঘটনা শুরু হবার পর থেকে আনসার সদস্যদের সাথে আলোচনার জন্য বসা হলেও কোন লাভ হয়নি।

শফিপুর আনসার একাডেমিতে তখন সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় চার হাজারের মতো।

ঢাকার বাইরে পার্বত্য চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং খুলনায় আনসার সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। দাবির সমর্থনে তারা মিছিলও বের করে।

চট্টগ্রামের মিরসরাইতে আনসার সদস্যদের সাথে সংঘর্ষে একজন কর্মকর্তা আহত হন।

বিদ্রোহের অবসান

তিনদিন টানা বিদ্রোহ চলার পর চতুর্থ দিনে সরকার বিদ্রোহ দমনের জন্য সচেষ্ট হয়।

সেনাবাহিনী, বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) এবং পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়।

এতে বিদ্রোহী দুইজন আনসার সদস্য নিহত এবং আরো ৮০ জন আহত হয়।

দৈনিক ইনকিলাবের খবরে জানা যায় বিদ্রোহ দমনের অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়।

বিদ্রোহ দমনের জন্য ভোররাতে অভিযান শুরু হয়।

অভিযানের সময় মর্টারশেল, রকেট লঞ্চার এবং লাইট মেশিনগান ব্যবহার করা হয়।

ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় আনসারের সদরদপ্তরে বিদ্রোহী প্রায় ৭শ' জন আনসার সদস্যকে দমন করার জন্য তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তর থেকে বিডিআর সদস্যদের পাঠানো হয়।

ভোররাত তিনটে নাগাদ বিডিআর সদস্যরা আনসার সদরদপ্তরের চারপাশে অবস্থান নেয়।

এসময় বিডিআর-এর তরফ থেকে মাইকিং করে আনসার সদস্যদের আত্মমর্পণের আহবান জানানো হয়।

কিন্তু ভেতরে অবস্থানরত আনসার সদস্যরা পাল্টা জানিয়ে দেয় তাদের দাবি না মানলে আত্মসমর্পণ করবেন না।

এরপর বিডিআর-এর তরফ থেকে মাইকিং করে আবারো আনসার সদস্যদের আত্মসমর্পণের আহবান জানানো হয়। কিন্তু আনসার সদস্যরা আবারো একই জবাব দেয়।

এরপরই বিডিআর সর্বাত্মক অভিযানের জন্য এগিয়ে যায়। অভিযানের সময় কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয় এবং গুলির শব্দ শোনা যায়।

বিডিআর যখন অভিযান শুরু করে তখন আনসার সদস্যদের তরফ থেকে তেমন কোন প্রতিরোধ আসেনি।

এসময় অপ্রত্যাশিত আরেক পরিস্থিতির তৈরি হয়। গুলির শব্দে এবং কাঁদানে গ্যাসের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই ভীত এবং বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার এবং গুলি না করার জন্য কিছু এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

তখন পুলিশের সাথে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ এলাকাবাসীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

বিডিআর সদস্যরা যখন আনসার সদর দপ্তরের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকার জন্য অগ্রসর হয় তখন ভেতর থেকে আনসার সদস্যরা আর্তনাদ শুরু করে।

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়, "এসময় আনসারগণ প্রধান ফটকের তালা খুলিয়া দেয় এবং আর্তনাদ শুরু করে। তাহারা নিজেদেরকে গরীব ও পেটের তাগিদে সংগ্রাম করিতেছে বলিয়া বিডিআরের নিকট কাকুতি-মিনতি জানাইতে থাকে।







"শফিপুরে হেলিকপ্টার নিয়ে সেনাবাহিনী

এদিকে শফিপুরে আনসার একাডেমির নিয়ন্ত্রণ নেবার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায় সাভারে অবস্থিত সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন।

সকাল নাগাদ সেনা সদস্যরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আনসার সদস্যদের তৈরি ব্যারিকেডের কাছে চলে আসে।

এসময় মাইকিং করে আনসার সদস্যদের আত্মসমর্পণের জন্য আহবান জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করেননি। তখন আত্মসমর্পণের জন্য সেনাবাহিনীর তরফ থেকে ৩০ মিনিট সময় বেঁধে দেয়া হয়।

নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হবার পর সেনাবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার আনসার একাডেমির উপরে চলে আসে। একই সাথে সেনাসদস্যরা গুলিবর্ষণ করে অগ্রসর হতে থাকে।

দৈনিক ইনকিলাবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র ৪৫ মিনিটে শফিপুর আনসার একাডেমি সেনা সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

একাডেমির ভেতর থেকে প্রায় ১২৬২ জন আনসার সদস্যকে আটক করে সেনাবাহিনী।

একইসাথে চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোর এবং লালমনিরহাটে বিদ্রোহী আনসার সদস্যদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা করা হয়। ঢাকার বাইরে বিডিআর মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

সরকারের প্রেসনোটে বলা হয় আনসার সদস্যদের অনমনীয় মনোভাবে কারণে দফায়-দফায় আলোচনা ব্যর্থ হয়।

সে কারণে জনজীবনের নিরাপত্তা এবং ব্যাটালিয়ন আনসারদের মধ্যে শৃঙ্খলা আনার জন্য সফিপুরে সেনাবাহিনী এবং অন্য কয়েকটি স্থানে বিডিআর ও পুলিশ তলব করে।


সরকারি ভাষ্যে বলা হয়, বিপথগামী কিছু আনসার সদস্য বাধার সৃষ্টি করে এবং গুলি ছোঁড়ে। সরকারের তরফ থেকে বলা হয় অভিযানের সময় দুইজন আনসার সদস্য নিহত এবং সাতজন আহত হয়।আনসার বিদ্রোহের কারণ

প্রথমে সাত দফা দাবি তুললেও পরবর্তীতে আনসার সদস্যরা এক দফা দাবি তোলেন। সেটি হচ্ছে চাকরি স্থায়ী করা।

তারা হুঁশিয়ারি দেয় যে, ৫ই ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের দাবি মানতে হবে, নইলে আন্দোলন কঠোর আকার ধারণ করবে। তারা যেসব দাবি জানায়:

. ব্যাটালিয়ন আনসারদের স্থায়ী করা হোক

. ব্যাটালিয়ন আনসারদের প্রশাসনিক ব্যবস্থা আলাদা করা

. আন্দোলনরত আনসারদের চাকরীচ্যুত করা যাবে না

. চাকরি শেষে পেনশন

. অন্যান্য বাহিনীর মতো ব্যাটালিয়ন আনসারদের সমমর্যাদা

আনসার সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরেই পুঞ্জিভূত হচ্ছিল। বেতন-ভাতা এবং চাকরি স্থায়ী করার দাবি জানিয়ে আনসাররা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানা যায়।

এ বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছিল। এছাড়া আনসার বাহিনীর মধ্যে কিছু দুর্নীতি সাধারণ আনসার সদস্যদের ক্ষুব্ধ করে তোলে বলে জানা যায়।

এই বিদ্রোহের পর তৎকালীন আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সৈয়দ বদরুজ্জামান এবং উপ-মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ইমতিয়াজ আহমেদকে সরকার বাধ্যতামূলক অবসর দেয়।

আদালতের নির্দেশে চাকরি ফেরৎ

উনিশশো চুরানব্বই সালে আনসার বিদ্রোহের ঘটনায় শাস্তি হিসেবে প্রায় ২৫০০ আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার ও চাকরীচ্যুত করা হয়।

এদের মধ্যে অনেকে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে পরবর্তীতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

আদালতের মাধ্যমে ২০১৮ সালে ওই বিদ্রোহের অভিযোগ থেকে খালাস পান ১ হাজার ৪৪৭ জন। তবে তাদের মধ্যে যাদের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা রয়েছে, তাদেরকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আর যাদের চাকরির বয়স শেষ, তারা চাকরিতে যতদিন ছিলেন তাদেরকে ততদিনের পেনশন সুবিধা দেয়ার জন্যও সরকারকে নির্দেশনা দেয়া হয়

আনসার বাহিনী 1948 সালের পূর্ব পাকিস্তান আনসার আইন দ্বারা "পূর্ব পাকিস্তান আনসার" হিসাবে গঠিত হয়েছিল এবং 12 ফেব্রুয়ারি 1948 তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছিল।  1948 থেকে 1972 সাল পর্যন্ত, এটি ন্যাশনাল সার্ভিস বোর্ডের অধীনে ছিল। 1973 সালে, এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থাপিত হয় এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে একটি আনসার ক্যাডার গঠন করা হয় । এর ভগ্নিসংগঠন গ্রাম প্রতিরক্ষা পার্টির সাথে , এটির রিজার্ভ সহ 4 মিলিয়নেরও বেশি সদস্য রয়েছে। 


আনসার বিদ্রোহ  ২০২৪

২৫ আগস্ট ২০২৪ সকাল হতে সচিবালয়ের বাইরে সাধারন চুক্তি ভিত্তিক আনসার সদস্যরা আন্দোলন করে এবং সচিবালয়ে অবস্থানরন কর্তাদের বািরে বের হতে দেয় না।


রাত 9.00 টার দিকে ( UTC+6 ), ছাত্রদের একটি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে সচিবালয়ের দিকে মিছিল করে তাদের উদ্ধার করতে গেলেও আনসার সদস্যদের ইট-পাথরের বাধার সম্মুখীন হয়, যার ফলে হাসনাত আবদুল্লাহ সহ ৪০ জন আহত হয়। 

শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা ও ঢিল ছুড়ে বিদ্রোহীদের প্রতিহত করে। পরবর্তীতে, ছাত্রদের এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায়,  আনসার সদস্যরা শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয় এবং আত্মসমর্পণ করে।  ভিতরে আটকে থাকা কর্মকর্তাদের 10 ঘন্টা অবরোধের পর ছেড়ে দেওয়া হয়। 


সংঘর্ষের সময় সচিবালয়ে থাকা 100 জনেরও বেশি আনসার সদস্যকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং বেআইনি সমাবেশের অভিযোগে মোট 377 আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। পরবর্তীকালে, আনসারের নয়জন উপ-পরিচালক এবং দশজন পরিচালককে তাদের পদ থেকে বদলি করা হয়। 

এছাড়াও, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বাংলাদেশ সচিবালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন সংলগ্ন সমাবেশ, সভা এবং বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ।


আনসাররা বিদ্রোহ করলে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড

আনসার ব্যাটালিয়নদের অভ্যন্তরীণ অপরাধের বিচার হবে দুটি আদালতে। এর মধ্যে একটি হবে ‘সংক্ষিপ্ত আনসার ব্যাটালিয়ন আদালত’ এবং আরেকটি হবে ‘বিশেষ আনসার ব্যাটালিয়ন আদালত’। এর মধ্যে বিদ্রোহ সংঘটন ও প্ররোচনা দেওয়া ইত্যাদি বড় অপরাধের বিচার হবে বিশেষ আনসার আদালতে। এই ধরনের অপরাধের  জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর সর্বনিম্ন সাজা হবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।এসব বিধান রেখে ‘আনসার ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২২’–এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা






অস্ত্রপাতি:


টাইপ-৫৬ এসল্ট রাইফেল,

টাইপ-৫৬ এস এম জি,

টাইপ-৫৬ লাইট মেশিনগান,

এম-২ ভারি মেশিনগান,

৬০মিঃ মর্টার,

৮০মিঃ মর্টার,

টাইপ-৫৬ কার্বাইন,

মিলস বোম্ব গ্রেনেড,

পাম্প-অ্যাকশন শটগান,

এম-৪ শটগান,

টাইপ-৫৪ পিস্তল,

লি এনফিল্ড রাইফেল (রিটায়ার্ড),

থ্রী নট থ্রী (রিটায়ার্ড)



বাহিনীর আইন

আনসার বাহিনী আইন-১৯৯৫ এবং ব্যাটালিয়ন আনসার আইন ১৯৯৫ অনুসারে বর্তমানে বাহিনীটি পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ আনসার-১৯৯৫ আইন দ্বারা সাধারণ আনসার গঠিত এবং ভিডিপি-১৯৯৫ আইন দ্বারা গ্রাম প্রতিরক্ষা দল গঠিত।

মহান ভাষা আন্দোলন 

১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ন মুহূর্তে আনসার বাহিনী উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। মহান ভাষা আন্দোলনে ময়মনসিংহের আনসার প্লাটুন কমান্ডার আব্দুল জব্বার শহীদ হন।যার আত্নত্যাগ ও অবদানে এ বাহিনী গর্বিত।



ক্রীড়া

ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খেলাধুলার চর্চা ও জাতীয় ক্রীড়া  বিকাশে উল্লেখযোগ্য আবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে এ বাহিনী ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করে। বাহিনীর ক্রীড়াদল পর পর ৫ বার বাংলাদেশ গেমসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। গত বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস-২০২০ ও জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এ বাহিনীর ক্রীড়াদল ১৩৩ টি, স্বর্ণ, ৫৭ টি রৌপ্য ও ৮০ টি ব্রোঞ্জপদক সহ ১০ টি ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্ষেত্রে ০৯টি স্বর্ণ, ০৭টি রৌপ্য, ও ১১টি ব্রোঞ্জপদক অর্জন করে।

স্বাধীনতা পূর্ব

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, আনসারের বেশির ভাগ সদস্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মুক্তিবাহিনীর গেরিলা সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, বাংলাদেশ আইন দ্বারা আনসার বাহিনী আবার পুনর্গঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর সরকার আনসার বাহিনীর ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে আনসার বাহিনীকে জনগণের প্রতিরক্ষা বাহিনী হিসেবে মনোনীত করেন।





পার্বত্য এলাকা

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর সাথে ১৯৭৬ সাল হতে বাহিনীর আনসার ব্যাটালিয়ন দায়িত্বপালন করিতেছে। দায়িত্ব পলন করতে গিয়ে ১৯ জন সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। এছাড়া প্রায় তিনশত সদস্য বিভিন্ন কারনে অকাল মৃত্যুবরন করেন। এছাড়া প্রায় শতাধিক হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্য পার্বত্যাঞ্চলে বিভিন্ন সম্মুখ যুদ্ধে ও সংঘাতে নিহত হন।


রেলপথ ও রেলরক্ষা

অপারেশন রেলরক্ষা ২০১৩/১৪ কার্যক্রমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরিক্ষা বাহিনীর প্রায় ৮,৩২৮ জন সদস্য ৩৬টি জেলার ১,০৪১টি ঝুঁকিপূর্ন পয়েন্টে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে সকলের আস্থা অর্জন করেছে।২০১৫ সালেও সরকারের নির্দেশে এ বাহিনীর ৮,৮৯৬ জন সদস্য ৩৭টি জেলার ১,১১২টি পয়েন্টে রেল নিরাপত্তা রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে। গত বছর বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ০৭ জন সদস্য নিহত হয়। সড়ক ও মহাসড়ক

সড়ক ও মহাসড়ক

রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশ এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনের লক্ষ্যে ২০১৩ হতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সারাদেশের সড়ক ও মহাসড়কের ৯৯৩টি ঝুঁকিপূর্ন পয়েন্টে ১২ জন করে ১১,৯১৬ জন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে। গত বছর দায়িত্বপালনরত অবস্থায় ১১ জন গুরুতরসহ ২৮ জন সদস্য আহত হয়। বিমান ও স্থল বন্দর

বিমান ও স্থল বন্দর

দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ স্থল বন্দরগুলোতে সাধারন ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য-সদস্যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বপালনকালে অসীম সাহসিকতার সাথে সন্ত্রাসী মোকাবেলা করতে গিয়ে সাধারন আনসার সদস্য সোহাগ আলী নিহত হন। অতি সম্প্রতি বেনাপোল স্থল বন্দরে চোরাকারবারীর ছুরিকাঘাতে সাধারন আনসার সদস্য ফিরোজ হোসেন নিহত হন।

প্রকাশনা

বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি একাডেমি থেকে মাসিক, ত্রি-মাসিক, ষান্মাসিক প্রকাশনা বের করে থাকে।

  • প্রতিরোধ শিরোনামে একটি মাসিক প্রতিবেদনমূলক সাময়িকী বা ম্যাগাজিন।



তথ্যসূত্র:

:https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6_%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0

https://www.bbc.com/bengali/news-51397416.amp

https://samakal.com/bangladesh/article/103833/%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%B9-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9A-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%A1

https://ansarvdp.gov.bd




মন্তব্য করুন