সর্বজনীন মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে এক গুচ্ছ প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ। একই সঙ্গে নতুন শিক্ষাক্রমের কিছু পরিবর্তনসহ প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যা সমাধানে কিছু প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
চিঠিতে বলা হয়, বিজ্ঞানমনস্ক, অসাম্প্রদায়িক ও বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলা জরুরি। আনন্দের সঙ্গে শিখন-শেখানো কার্যক্রম নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের অনুকূল পরিবেশ, শিক্ষাক্রম ও শিখন প্রক্রিয়াকে সহজতর ও উন্নত করতে হবে।
তাদের প্রস্তাবগুলো হলো-১. প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ও ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন/সুবিধাদি দিতে হবে। ২. শিক্ষক শিক্ষার্থী অনুপাত ১:২০ করতে হবে।
৩. প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ভৌত সুবিধা সৃষ্টি করতে হবে। ৪. মিড-ডে মিল (যে স্কুলগুলোতে আগে থেকেই চলমান আছে) ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে হবে।
৫. প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় যথাযথ মানের শিক্ষালাভ ও শিক্ষাদানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও সুসমন্বিত সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৬. চরাঞ্চল, হাওর, পাহাড়ী প্রভৃতি দূর্গম অঞ্চলের জনগোষ্টী এবং বস্তি, অবহেলিত, সামাজিকভাবে উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীর সব ধরনের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
৭. সকল ধরনের প্রভাবমুক্ত শিক্ষক নিয়োগের জন্য শিক্ষক নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।
৮. কওমি মাদরাসার শিক্ষাবব্যস্থাকে মূলধারার কাছাকাছি আনার জন্য সুনির্দিষ্ট বব্যস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাদরাসা বোর্ডের নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে, ক্রমান্বয়ে সব কওমি মাদরাসাকে আনার জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সুনির্দিষ্ট আইনের মাধ্যমে এইসব মাদরাসার নিবন্ধন থাকতে হবে।
১৮
২৮ মন্তব্য