Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ আগস্ট, ২০২৪ ০১:০৯ অপরাহ্ণ

সত্যজিৎ রায় কি জেমস বন্ড দেখতেন? অবশ্যই দেখতেন। শুধু দেখতেন না দারুণ ভালবাসতেন

সত্যজিৎ রায় কি জেমস বন্ড দেখতেন? 


অবশ্যই দেখতেন। শুধু দেখতেন না দারুণ ভালবাসতেন। সন্দীপ রায় নিজে আমাকে বলেছেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধচলাকালে  সত্যজিৎ ও বিজয়া জেমস বন্ড চলচ্চিত্র ‘ডক্টর নো’ দেখতে গেছিলেন, সে কথাও বলেছিলেন। 


তাই শন কোনারির এই ছবিটা কয়েক বছর আগে যখন ফেবুতে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন বেশ মজা লেগেছিল এটা দেখে যে সেই ছবির মুখটা মানিকবাবুর। ফটোশপ করা। জানি না মানিকবাবু নিজে এসব দেখলে কী বলতেন।


যাই হোক কোনারির কথা বলি বরং। তাঁর তো বন্ড হবার কথাই না। জেমস বন্ডের মত উনিও জাতে স্কটিশ, দুজনেই রয়াল নেভিতে ছিলেন, দুজনের চেহারা, উচ্চতা, ওজন একেবারে এক। কিন্তু বন্ড ফেটেসের মত উচ্চবিত্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা নিয়েছেন, আর ইনি স্কুলের খরচা চালাতে রাস্তায় রাস্তায় খবরের কাগজ বেচতেন...


১৯৫২ সালে লন্ডনে এলেন মিঃ ইউনিভার্স হতে। বদলে হয়ে গেলেন অভিনেতা। প্রথম সিনেমার জন্য মাত্র দুইদিনে শিখেছিলেন টুইস্ট নাচ। সঙ্গে চলছিল ফুটবল খেলা, সেটা এতটাই ভাল যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে মোটা টাকার অফার এল। কিন্তু ততদিনে ঠিক, তিনি অভিনেতা হবেন... লঙ্গেস্ট ডে ছবিতে অভিনয়ে তাঁর অভিনয় সবার চোখ টানল।


অবশেষে ১৯৬১ তে টেরেন্স ইয়ং তাঁকে বন্ড বানানোর কথা ভাবলেন। সব ঠিক ছিল, কিন্তু অসুবিধে একটাই। ভদ্রলোক ঠিক " সেক্সি" নন। দুইবার অডিশন নেওয়া হল। ফেল করলেন। শেষে প্রডিউসার কাবি ব্রকোলি ভুলটা বুঝতে পারলেন। অডিশন টিমে একজনও মহিলা নেই যে!!!

ডেকে আনা হল তাঁর স্ত্রী ডানাকে। ডানা একবার দেখেই বললেন " এই লোককে যদি সেক্সি না বল, তো সেক্সি শব্দের মানেই বদলে দিতে হবে।"

কি ভাগ্য!! ডানার কথা মেনে নিলেন সবাই। শুরু হল ড. নো- সিনেমার কাজ। কোনারির ঘড়ি কেনার টাকা নেই। কাবি ব্রকোলি নিজের হাতের রোলেক্স খুলে তাঁকে পরিয়ে দিলেন।  বাকিটা ইতিহাস। জেমস বন্ড আর রোলেক্স ঘড়ি একে অপরের অল্টার ইগো হয়ে গেল। 


গল্প এখানেই শেষ না। অনেকদিন পরে ১৯৯১ সালে People ম্যাগাজিনে ভোটের নিরিখে Sexiest Man of the Century হলেন এই ভদ্রলোক। ডানা কি তখন মুচকি হেসেছিলেন? কে জানে?


অনেক পরে যখন বেশ বুড়ো হয়ে গেছেন তখনও দ্য রক ছবিতে তিনি সেই অপরাধী, একমাত্র যে জানে দ্বীপের মত সেই কারাগারে ঢোকার গোপন পথ। নেম অফ রোজ ছবিতে তিনিই গোয়েন্দা উইলিয়াম অফ বাস্কারভিল। লিগ অফ এক্সট্রা অরডিনারি জেনটেলমেন-এ অ্যালেন কোয়াটারমেন, আনটাচেবলস এর সেই পুলিশ অফিসার মালোন, আর এন্ট্র্যাপমেন্টে বিখ্যাত চোর রবার্ট ম্যাকডুগাল, মার্নিতে তিনিই আবার দুরন্ত প্রেমিক। 


তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় ইন্ডিয়ানা জোনসের বাবার ভূমিকায় তার অভিনয়। একেবারে ভোলাভালা ছাতাহাতে মানুষটাকে দেখে চেনাই যায় না যেন, যতক্ষণ না... যতক্ষণ না শত্রুর প্লেন সাগর তীরে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে আসে তাদের দিকে ধেয়ে। ইন্ডিয়ানা নিজেও বুঝতে পারেন না কি করবেন। ঠিক এইখানে কোনারি শুধু ছাতার সাহায্য যেভাবে বিমানদের ধ্বংস করেন তা জেমস বন্ড ছাড়া কারও পক্ষে সম্ভব না। এই এক দৃশ্যে কোনারি বুঝিয়ে দেন, বাপ তো বাপ হোতা হ্যায়। 


আজ রূপালী পর্দার প্রথম বন্ডের জন্মদিন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ