সহকারী প্রধান শিক্ষক
২৯ আগস্ট, ২০২৪ ০১:১৩ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
ঠিক ৬৯ বছর আগে ১৯৫৫ সালে এইদিনই ‘বসুশ্রী’ সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছিল ‘পথের পাঁচালী’।
মুক্তির আগের দিন ট্রায়াল শো। হলে হাতেগোনা কয়েকজন লোক আর টাই-পরা সাহেবি চেহারার অপারেটর। ছবি দেখে অপারেটর সাহেব ক্ষুব্ধ। “এটা একটা ছবি! এত খারাপ ছবি আমাদের প্রজেকটরে আর ওঠেনি।” রাতের পর রাত জেগে এই ছবির সম্পাদনার কাজ শেষ করেছিলেন দুলাল দত্ত। এমন সমালোচনা শুনে তিনি দিশাহারা হয়ে পড়েন।
এরপর ২৬ আগস্ট। ছবির মুক্তি। হল ফাঁকা। বাইরে সত্যজিৎ রুমাল কামড়াচ্ছেন টেনশনে। একটু একটু করে ভিড় বাড়তে লাগল। সাতদিন পরে ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-য় রিভিউ লিখলেন পঙ্কজ দত্ত। ‘পথের পাঁচালী’ দেখার মুগ্ধতা সেই রিভিউতে বোনা। ইতিমধ্যেই খবর এল নিউইয়র্কেও ‘পথের পাঁচালী’ অকুণ্ঠ অভিনন্দন পেয়েছে। সাগরময় ঘোষ সেই খবর দিলেন পঙ্কজ দত্তকে। খবর শুনেই কেঁদে ফেললেন তিনি। এরপর খবর পেলেন সত্যজিৎ-ও। এই ছবি যে ইতিহাস সৃষ্টি করবে, তা স্পষ্ট হতে লাগল ক্রমশ। ‘পথের পাঁচালী’ সকলের দেখা উচিত—এই মর্মে নাকি কলকাতায় মিছিল বের করেছিলেন তরুণ মজুমদার সহ অনেকে। সেনেট হলে তরুণ সাহিত্যিকেরা বিপুল সংবর্ধনার আয়োজনও করেছিলেন পরে।
এক ঝটকায় বাংলা চলচ্চিত্রের গোটা পৃথিবীটাকেই বদলে দিয়েছিল ‘পথের পাঁচালী’। ১৯৫৬-৬৬ পর্যন্ত মোট ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছিল এই ছবি। পেয়েছিল রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও। একটা প্রচলিত মিথ আছে, ‘পথের পাঁচালী’ নাকি ব্যবসায়িক সাফল্য পায়নি। কথাটা মিথ শুধু না, মিথ্যেও। এই ছবির প্রযোজনা করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শুধুমাত্র ১৯৫৯ সাল পর্যন্তই এই ছবি লাভ করেছিল ১২ লক্ষ টাকা। যদিও সত্যজিৎ সহ এই ছবির অন্যান্য কলাকুশলীরা এই লাভের কানাকড়িও পাননি। কেবল পেয়েছিলেন অমূল্য খ্যাতি আর সম্মান।
সৌজন্যে---- বঙ্গদর্শন।
ছবিগুলি গুগল থেকে নেওয়া
৬
১০ মন্তব্য