Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ আগস্ট, ২০২৪ ০৪:৩৯ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্র ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় গুম বন্ধের পাশাপাশি এই অপরাধের জন্য দায়মুক্তি বন্ধ করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর গুম হওয়া সকল ব্যক্তির জন্য আন্তর্জাতিক সনদ হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance সম্মেলনে যে আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর হয়, সেই সনদে প্রতিবছর ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস (International Day of the Victims of Enforced Disappearances) হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বরে Declaration on the Protection of All Persons from Enforced Disappearance  সম্মেলনে যে আন্তর্জাতিক সনদ ( রেজুলেশন-৬৫/২০৯) কার্যকর হয়, তাতে ৩০ আগস্টকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের বিশেষ গোয়েন্দাবাহিনীর সহায়তায় বিগত সরকার কর্তৃক প্রায় একহাজারের মানুষ গুম হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দেড়শতাধিক মানুষের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি। গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাপক সমালোচনায় পড়ে। জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের অনুরোধের পরও বিগত সরকার গুমবিরোধী সনদে সই করেনি। অবশেষে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস  ২৯ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে সই করেন। বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক নয়টি সনদের আটটিতে সই করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার সমুন্নত রাখার পাশাপাশি গুমের অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে চায়। এ লক্ষ্যে সরকার গুমবিরোধী সনদে স্বাক্ষর করে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

 

দিবসটি উপলক্ষ্যে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাকসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। মায়ের ডাক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আলাদা বিবৃতিতে সব নাগরিককে গুম থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা, গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের যথাযথ পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, গুমের শিকার সব নিখোঁজ ব্যক্তিকে অনতিবিলম্বে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রভৃতি দাবি জানিয়েছে। এছাড়া, গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের এ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়েরের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

 

মন্তব্য করুন