Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ আগস্ট, ২০২৪ ০৮:০১ অপরাহ্ণ

তাওয়াক্কুল ঈমানের পরিপূর্ণতা

তাওয়াক্কুল অর্থ হচ্ছে আল্লাহর ওপর ভরসা করা। আল্লাহর পথনির্দেশনার ওপর ব্যক্তির পূর্ণ আস্থা রাখা। সে মনে করবে আল্লাহ প্রকৃত সত্য সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত। তিনি নৈতিক চরিত্রের যে নীতিমালা, হালাল ও হারামের যে সীমারেখা এবং পৃথিবীতে জীবনযাপনের জন্য যেসব নিয়মকানুন ও বিধিবিধান দিয়েছেন, তাই সত্য ও সঠিক এবং সেসব মেনে চলার মধ্যেই মানুষের কল্যাণ নিহিত। দ্বিতীয়ত, মানুষের নির্ভরতা তার নিজের শক্তি, যোগ্যতা, মাধ্যম ও উপায়-উপকরণ ব্যবস্থাপনা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যদের সাহায্য সহযোগিতার ওপর হবে না। তাকে এ কথা পুরোপুরি মনে রাখতে হবে যে, দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতিটি ব্যাপারে তার সাফল্য প্রকৃতপক্ষে নির্ভর করে আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্যের ওপর। আর সে আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্যের উপযুক্ত কেবল তখনই হতে পারে, যখন সে তার সন্তুষ্টিকে লক্ষ্য বানিয়ে এবং তার নির্ধারিত সীমারেখাগুলো মেনে কাজ করবে। তৃতীয়ত, ঈমান ও নেক কাজের পথ অবলম্বনকারী এবং বাতিলের পরিবর্তে ন্যায় ও সত্যের জন্য তৎপর। আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল হয়ে সে সেসব লাভ, উপকার ও আনন্দকে পদাঘাত করবে, যা বাতিলের পথ অনুসরণ করলে সহজেই লাভ করা যায়। তাওয়াক্কুলকারী ন্যায় ও সত্যের ওপর দৃঢ়পদ থাকায় ক্ষতি, দুঃখকষ্ট ও বঞ্চনা ভাগ্যে নেমে আসবে জেনেও ধৈর্যের সাথে তা সহ্য করবে।
ঈমানের সাথে তাওয়াক্কুলের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। একটি ছাড়া অন্যটি পূর্ণতা পায় না। তাওয়াক্কুল ছাড়া যে ঈমান তা সাদামাটা স্বীকৃতি ও ঘোষণা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। এ ধরনের ঈমানদার থেকে ইসলামের গৌরবময় ফলাফল অর্জিত হতে পারে না। প্রকৃত ঈমানদার সার্বক্ষণিক আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হবে। কারণ তাওয়াক্কুল গভীর ঈমান থেকেই সৃষ্টি হয়। এই ঈমান তাকে এ প্রেরণা জোগায় যে, তোমার সব অবস্থা মহান আল্লাহ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। মুহূর্তের জন্যও তিনি তোমাকে তাঁর পর্যবেক্ষণ থেকে দূরে রাখেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘যা-ই তোমাদের দেয়া হয়েছে তা কেবল দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের উপকরণ মাত্র। আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা যেমন উত্তম তেমনি চিরস্থায়ী। তা সেসব লোকের জন্য যারা ঈমান এনেছে এবং তাঁর ওপর নির্ভর করে।’ (সূরা শূরা-৩৬) এখানে আল্লাহর প্রতি ভরসাকে ঈমানের অনিবার্য দাবি এবং আখিরাতের সফলতার জন্য একটি জরুরি বৈশিষ্ট্য বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
তাওয়াক্কুল কিভাবে করতে হয় তা শিক্ষা লাভের জন্য আমরা মহীয়সী নারী, হজরত ইবরাহিম আ:-এর প্রিয়তমা স্ত্রী, হজরত ইসমাইল আ: স্নেহময়ী মাতা, আল্লাহর একজন বিশেষ বান্দি হজরত হাজেরা আ:-এর কাছে যেতে পারি। তার অগাধ তাওয়াক্কুল বা নির্ভরশীলতা ও ধৈর্যশীলতাকে এতটাই ভালোবাসেন যে, সারা পৃথিবীর মুসলমানদের জন্য সাফা-মারওয়ার সাঈকে হজের একটি গুরুত্বপূর্ণ হুকুমে পরিণত করে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা বাকারা-১৫৮) একজন নিঃসঙ্গ নারী জনমানবহীন এ মরুভূমিতে কিভাবে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করেছিলেন, কিভাবে তিনি নিজেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করে দিয়েছিলেন, কিভাবে তিনি শুষ্ক ধূলি-ধূসর মরুভূমি ও পাথরসমৃদ্ধ দুটো পাহাড়ে ছোটাছুটি করে আল্লাহর অনুগ্রহের তালাশ করেছিলেন। হজরত ইবরাহিম আ: তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র ইসমাইল আ: ও প্রিয়তমা স্ত্রী হাজেরাকে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে এ নির্জন স্থানে রেখে যান। তবে এটিও মনে করার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই যে স্ত্রী-সন্তানের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল না। এটিও তাঁর প্রতি কতকগুলো পরীক্ষার একটি। তিনি তাঁর সন্তান ও স্ত্রীকে কতটুকু ভালোবাসতেন তা তাঁর দোয়া থেকে আমরা বুঝতে পারি। তিনি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের দৃষ্টিসীমার বাইরে পাহাড়ের আড়ালে গিয়ে মহারবের কাছে আবেদন করলেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমি তৃণলতাহীন উপত্যকায় নিজের বংশধরের একটি অংশকে আপনার ঘরের কাছে অভিবাসিত করলাম। এ জন্য যে, তাঁরা যেন নামাজ কায়েম করে। তুমি মানুষের অন্তরকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দাও এবং ফলমূল দিয়ে তাদের রিজিকের ব্যবস্থা করে দাও; যাতে তারা তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।’ (সূরা ইবরাহিম-৩৭)

মন্তব্য করুন