Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ আগস্ট, ২০২৪ ০২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

বিদ্যালয়ে ওয়েবসাইট থাকার প্রয়োজনীয়তা

"""শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট কেন দরকার"""

ঠিক এই সময়ে আর দশটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠাণের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণের ওয়েবসাইট ব্যাপক গুরুত্ব বহন করছে। মফস্বল এলাকার স্কুল- কলেজে একটি ওয়েবসাইট শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নততর করতে পারে অভাবনীয়ভাবে। মেট্রোপলিটন ও শহর নগর এলাকার শিক্ষার্থীরা প্রায় সব দিক থেকেই বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। শহুরে প্রায় প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনায় বিভিন্নভাবে প্রযুক্তির সহযোগিতা নেয়। মফস্বল এলাকার শিক্ষার্থীরা তেমনটি পায় না। অথচ স্বস্ব কর্তৃপক্ষ উদ্যেগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ছোঁয়া দিতে পারে। এই সময়ে আধুনিক প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণ নিজস্ব ওয়েবসাইট করেছে। শ্রদ্ধেয় স্যার, আপনি নিশ্চয়ই একমত হবেন, আজ কাল যখনই হোক আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণকে ওয়েবসাইটসহ অন্যান্য অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসতেই হবে। সময়ের স্রোতকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। সে স্রোতকে যদি আমরা শুভ মনে করি, তাহলে তাতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা হবে আধুনিকতারই মঙ্গল চর্চা। সরকারের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন কাউন্সিল ভিত্তিক ওয়েবপোর্টালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণের সামান্য তথ্য রাখলেও শিক্ষার্থীদের সেসব কাজে আসছে না। শ’ শ’, হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণের নিজস্ব ওয়েবসাইট ডেভেলপ করার বিকল্প নেই। বর্তমানে ‘জ্ঞানই শক্তি’ ধারণার চেয়ে ‘তথ্যই শক্তি’ ধারণাকে শক্তিশালী মনে করা হচ্ছে। শ্রদ্ধেয় শিক্ষাসেবী, আপনার প্রতিষ্ঠাণের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি ওয়েবসাইট কিভাবে সহায়তা করবে, তার কয়েকটি নমুনা আলোচনা করছি।


হোম পেজঃ ওয়েবসাইটের হোম পেজে থাকবে আপনার প্রতিষ্ঠাণের যাবতীয় মেনু। যাতে ক্লিক করলেই বেরিয়ে আসবে তথ্য। থাকতে পারে প্রতিষ্ঠাণের ছবি, সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণের লিংক। ফ্রি বই পড়া ও ডাউনলোডের শ’ শ’ সাইট, থাকতে পারে শ’ শ’ সংবাদপত্র। অনলাইন টিভি, বিবিসি রেডিও। থাকতে পারে প্রতিষ্ঠাণের ভিডিও চিত্র। মানচিত্রসহ ঠিকানা। কিংবা এলাকা ভিত্তিক সময়ের ঘড়ি। ভার্চুয়াল জগতের সব ধরণের সেবাই আমরা দিতে পারি আপনার হোমপেজে। ইচ্ছে আপনার, কিভাবে সাজাবেন অনলাইনের বসতি।

পরিচিতিঃ প্রতিষ্ঠাণের পরিচিতি, উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, ম্যানেজিং কমিটি, প্রতিষ্ঠাতার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আপনি যুগযুগ ধরে রাখতে পারবেন আপনার সাইটে তথা অনলাইনে। নিশ্চয়ই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠার মূল্যায়ণ করবে।

 মোবাইল ফোনে দেখার সুবিধা: সব পেশার মানুষের হাতে হাতে এখন মাল্টিমিডিয়া মোবাইল ফোন। থ্রি-জি ও অন্যান্য ফিচার যুক্ত হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনে ওয়েবসাইটের কর্মকান্ড দেখা এবং তাতে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় ওয়েবসাইটের ভিউয়ার বেড়ে গেছে অভাবনীয়ভাবে। সদুর আর্জেন্টিনা, পাশের দেশ মালয়েশিয়ায় বসে বাবা জানতে পারবে তার ছেলের শিক্ষা প্রগতি সম্পর্কে। কিংবা আপনার এলাকায় বয়ে যাওয়া নদীর ধারে বসে যে কেউ দেখতে পারবে এইসব আয়োজন।

যোগাযোগ: ইন্টারনেট জগত সম্প্রসারিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তণ এসেছে। আমেরিকায় থাকা ছেলের কাছে বার্তা পৌছানো এখন ন্যানো সেকেন্ডের ব্যাপার। গুগল ম্যাপ সংযুক্ত করার ফলে রোড মানচিত্র সহ প্রতিষ্ঠাণের সব ধরণের যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকে ওয়েবসাইটে। তাছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠাণের কথা ভাবুন, যারা বেচাকেনাও করছে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।

ভর্তি প্রক্রিয়া: ছাত্ররা প্রতিষ্ঠাণের ভর্তি প্রক্রিয়া জানাতে পারবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। এমনকি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই ডকুমেন্ট জমা দিয়ে কিংবা রেজিস্ট্রেশন করে ভর্তি হতে পারবে।

 শিক্ষকমন্ডলী: প্রতিষ্ঠানের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের আলাদা প্রোফাইল রাখা যাবে ওয়েবসাইটে। যুগযুগ সংরক্ষিত থাকবে তাদের স্মৃতি।

ফলাফল: প্রতিষ্ঠাণের সব ধরণের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। ছাত্র কোন বিষয়ে কেমন রেজাল্ট করলো, অভিভাবক সেটা জানতে পারবেন এক ক্লিকেই।

 সংগঠন: প্রতিষ্ঠাণে সংগঠন থাকলে তার যাবতীয় কার্যক্রম চালানো যাবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।

ম্যাগাজিনঃ সাধারণত বিখ্যাতদের সুকুমার প্রবৃত্তির উন্মেষ ঘটে ছাত্রজীবনে। কবিতা, গল্প, সায়েন্স ফিকশন লিখতে পারে এমন শিক্ষার্থী আপনার প্রতিষ্ঠাণে খোঁজ করলে অনেক পাবেন। ছাত্র-শিক্ষকদের লেখালেখি নিয়ে আপনার ওয়েবসাইটেই করতে পারবেন অনলাইন ম্যাগাজিন/স্মরণিকা। নিয়মিত সেসব আপডেট করতে পারবেন।

অনলাইন লাইব্রেরীঃ আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে তৈরী করতে পারবেন অনলাইন লাইব্রেরী। স্টুডেন্টের পাঠ্য বই থেকে শুরু করে সেখানে থাকতে পারে বাংলা ইংরেজী বিজ্ঞান সাহিত্য খেলাধুলার উপর হাজারো বই।

 ছবিসহ স্টুডেন্ট তালিকাঃ ছবিসহ প্রতিটি ছাত্রের প্রোফাইল রাখতে পারবেন ওয়েবসাইটে।

 হ্যান্ডনোট/ কনটেন্টঃ বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক হ্যান্ড নোট/ পাওয়ারপয়েন্ট কনটেন্ট/ সাজেশন রাখতে পারবেন ওয়েবসাইটে। যেখান থেকে ছাত্ররা প্রয়োজনমত ডাউনলোড করতে পারবে। এমনকি পড়তে পারবে মোবাইল ফোনে।

 নোটিশ বোর্ডঃ প্রতিষ্ঠাণের প্রতিটি নোটিশ আপডেট দিতে পারবেন নোটিশ বোর্ডে। পিওন দিয়ে ক্লাশে ক্লাশে নোটিশ পড়ে শোনানোর প্রক্রিয়া শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণে এখন আর নেই।

 ছবিঘরঃ পিকনিক, বিশেষ দিন, কালচারাল প্রোগ্রাম- খেলাধুলা, পুরস্কার বিতরণী, অভিভাবক সমাবেশ, বিদায় অনুষ্ঠাণ- যাই হোক প্রতিষ্ঠাণের যাবতীয় ছবি, ভিডিও রাখতে পারবেন ওয়েবসাইটে।

 বিগত দিন: প্রতিষ্ঠাণের বিগত শিক্ষকমন্ডলী, পর্ষদ, কৃতি শিক্ষার্থী, অর্জন, ফলাফল- সবকিছুই ধরে রাখতে পারবেন হাজার বছর ধরে।

লিংক বিল্ডিংঃ ধরি কোন শিক্ষার্থীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য দরকার। এজন্য তাকে ঢাকা যেতে হবে না, ফোন করে কারো থেকে অনিশ্চিত তথ্যরও শিকার হতে হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিংক রাখবেন সাইটে। একটি ক্লিক করেই যে কেউ জানতে পারবেন বিবিএর ভর্তি প্রক্রিয়া, আইইএলটিএস এর স্কোর। জাস্ট একটি ক্লিক করে লিংকের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট থেকে জানতে পারবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স বিভাগে কোন কোন শিক্ষক ক্লাশ নেন। জানতে পারবেন হবিগঞ্জ কিংবা ভোলা জেলার সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে যে কোন লেবেলের প্রশাসনিক কর্মকর্তার ফোন নাম্বার, কোন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নাম কিংবা বাংলাদেশের কোন এলাকার ইউরিয়া সারের ডিলার কে, সেসব তথ্যও।

কোনো অভিভাবক সহজেই জানতে পারবে তার সন্তানের ইউনিক আইডি সহ বিবরণ,  উপবৃত্তির তথ্য, মূল্যায়ন ছকে তার সন্তানের অবস্থান, শিক্ষা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের লিংক এক ক্লিকেই।

একটি ওয়েবসাইট প্রস্তুত থাকে ৩৬৫ দিন চব্বিশ ঘণ্টা পৃথিবী ব্যাপি জীবনযাত্রাকে সহজতর করার কাজে। শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে ইন্টারনেটের সংযোগ কতটা সহায়ক, আধুনিক প্রতিটি মানুষই সে বিষয়ে জেনে থাকবেন। কালের পরিক্রমায় ও প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি ওয়েবসাইটের গর্বিত মালিক হওয়া এখন আর ততটা ব্যয়বহুল নয়। আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণকে আলোঘরে রূপায়ন করতে আমরা নির্মাণ শ্রমিকের ভূমিকায় দাঁড়াতে চাই। আপনার চাহিদাকে পুঁজি করে আমরা নির্মাণ করতে চাই একুশ শতকের আরেকটি আলোঘর। আপনার প্রতিষ্ঠাণের প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে পৌছে দিতে চাই প্রযুক্তি ও সময়ের সুবাতাস।

 ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ