Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৯:১৭ অপরাহ্ণ

আমাদের সুপারিনটেনডেন্টের বিদায় , মাইজদী পিটিআই ,২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ

Farewell of our beloved superintendent

____________________________________

অনেক দিন হয় কিছুই লিখছি না। লিখতেও মন চাচ্ছিলো না। জীবনে এ রকম অনেক বন্ধ্যা সময় আসে। কেন যেন আমার মস্তিষ্কের সেরেব্রাম অংশটি রুঢ় বাস্তবতার কতগুলো নিরর্থক, অহেতুক প্রশ্ন আর হতাশা দ্বারা জর্জরিত। আমার সৃজনশীলতা নেই বললেই চলে, কিন্তু নামে মাত্র যেটুকু ছিল, সেটুকুই যেন মলিন হতে বসল

তবে আজ সকালে অনুষ্ঠানে উপস্হিত থাকাকালীন আমার মস্তিষ্কের সেরিব্রাম অংশ যা চিন্তার পরিবেশ তৈরি করে সে অংশটি মনকে জানান দিলো --- I am ready to think. You can start ur writing now.

যখন মস্তিষ্ক ও মনের সংযোগ ঘটলো তখন চোখ খুলে দেখি বিদায়ের ঘন্টা বাজে এক মহৎ প্রাণের

হুম, ঠিকই ধরেছেন। লোকটি আর কেউ নয়, মাইজদী পিটিআই এর সুযোগ্য কর্ণধার, সুপারিন্টেনডেন্ট জনাব এ কে এম মোশাররফ হোসেন মহোদয়ের কর্মজীবনের সমাপ্তি

যেতে নাহি দেব হায়

তবু সে চলে যায়

তবু যেতে দিতে হয়

কবিগুরুর এ অমোঘ সত্য মনকে আবেগ আপ্লুত করে।বিদায় তিন বর্ণের শব্দ কিন্তু এর ব্যাপকতা বিশাল যা মনকে নাড়িয়ে দেয়। কিন্তু আমি মনে করি, বিদায় একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, মন থেকে বিদায় নেওয়া কখনোই সম্ভব নয়। কারন বিদায় মানুষ নেয়, স্মৃতি নয়। আর স্মৃতি মানুষকে হাসায় আবার কাদাঁয়

বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন---- "স্মৃতি সততই সুখের।"

রুই ক্যারোলের " Alice in Waterland " বইটিতে এলিস ছিল একটা শিশু। সে ভুলক্রমে একটা ওষুধ খেয়ে ফেললো। হঠাৎ সে বড় হয়ে গেল। বড় হওয়ার দুঃখে সে কাঁদতে শুরু করলো, কেদেঁ কেদেঁ সে সারা ঘর ভাসিয়ে দিল। সে আবার একটা ওষুধ খেলো এবং আবার সে আগের মতো ছোট হয়ে গেল কিন্তু পানিগুলো রয়ে গেলো আর সে ঐ পানিতে সাঁতরাচ্ছে। আমরা মানুষরা ঠিক এলিসের মতো। আমরা সবাই স্মৃতির নদীতে সাঁতরাই। আজ স্যার বিদায় নিচ্ছেন কর্মজীবন থেকে কিন্তু তিনি বেচেঁ থাকবেন স্মৃতিকে ঘিরে। কিছু স্মৃতি স্যারের মনকে এতটাই আন্দোলিত করবে তখন মনে হবে সত্যিই স্মৃতি মধুর

উপেন্দ্রকিশোর, সত্যজিৎ রায়ের দাদা , উনার একটা বই ছিল "ছেলেদের রামায়ণ"। সেই বইয়ের ১ম লাইন ছিল এমন-- "অযোধ্যার রাজা দশোরথের ষাট বছর পূর্ণ হইয়াছে। কাজেই বুঝিতে পারিতছ, কি বুড়াটা না তিনি হইয়াছেন।"

আমাদের স্যারেরও ষাট বছর পূর্ণ হয়েছে, কি না বুড়া তিনি হয়েছেন। কিন্তু মাশাল্লাহ উনার দিকে তাকালে তা মনে হয় না। মনে হয় আমার বড় ভাই। দোয়া করি, স্যার যেন অন্তত ১০০ বছর সুস্হ সবলভাবে বেচেঁ থাকেন

রোমান লেখক সিসারু বলেছেন-" বেচেঁ থাকাটা একটা যোগ্যতা।"

ঠিক তাই। সব লোক সমান ভাবে বেচেঁ থাকে না। অসংযত, অনিয়ন্ত্রিত, উচ্ছৃঙ্খল লোক দীর্ঘায়ু হয় না। বেচেঁ থাকা মানে বুঝতে হবে ঐ লোকটার মধ্যে সংযত, নিয়ন্ত্রিত ও ভারসাম্য আছে।

একটা প্রবাদ আছে-" শরীরও ব্যাধি মন্দিরম"

শরীর ব্যাধির মন্দির কি না সেটা জানি না তবে এটা জানি বার্ধক্য ব্যাধি মন্দিরম। আমি মনে করি, বার্ধক্য নিজেই একটা অসুখ। তাই সৃষ্টার কাছে প্রার্থনা, স্যার ভালো থাকুক,আর ভালো রাখুক পরিবার, সমাজ তথা উনার প্রিয়জনদেরকে

পৃথিবী বড়ই স্বার্থপর। কমর্কে চায়, কর্মীকে নয়। রবীন্দ্রনাথের সোনার তরী কবিতাটি তারই বড় প্রমাণ।সেই অমোঘ সত্যকে আমরা ধারণ করি বিধায় আজ স্যারকে দুঃখ ভরাক্রান্ত মন নিয়ে বিদায় দিতে হচ্ছে

স্যার, একজন বহুগুণে গুণান্বিত একজন ব্যক্তিত্ব যা তাঁর সহকর্মীদের বক্তিৃতায় স্পষ্ট হয়েছে। স্যারের, অনেকগুলো গুণের মধ্যে যে দুটি গুণ আমাকে মুগ্ধ করে

সেগুলো হলো- সরলতা আর সততা

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন-" বিস্মিত করো না, মুগ্ধ করো।"

কেননা মুগ্ধতার সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক আর বিস্ময়ের সাথে জ্ঞানের দ্যুতি আছে

তাই এটা নির্দ্বিধায় বলতে চাই.... আমি মুগ্ধ স্যারেরর গুণে এবং বিশ্বাস করি এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করবে ভালো মানুষ হতে।

অত্যান্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একজন মানুষ কর্ম থেকে বিদায় নেওয়ার সাথে সাথে তার অবমুল্যায়ন শুরু হয়ে যায়। বুড়োর খাতায় তার নাম উঠে, তার গুরুত্ব কমে যায় সংসারে, সমাজে। যা আমাকে ব্যাথিত করে। যে লোকটির ভয়ে কোন এক সময় সবাই কাঁপতো, যে লোকটি কোনো এক সমময় একটা প্রতিষ্ঠান চালাতো, কারো কারো কাছে সে হার্ট থ্রব ছিল, সেই লোকটি অবমুল্যায়িত হতে শুরু করে জুনিয়র কর্তৃক, যে ব্যক্তিরা বৃদ্ধলোকটির নুন্যতম যোগ্যতা রাখে না।

একটা প্রবাদ আছে-

দেশে কি আইলো কাল

ছাগলে চাটে বাঘের গাল

শুধুমাত্র বয়সটার কারনেই এমন অবহেলা পোহাতে হয় বৃদ্ধলোকগুলোকে। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে তো আমাদের বয়স্কদের বেশি সম্মান করা উচিত কারন সকল যুবক যুবতীর লক্ষ্য অভিন্ন। সেটা হলো আমরা সবাই বৃদ্ধ হওয়ার পথে হাটছি। এমন কাউকে কি পাওয়া যাবে যে দীর্ঘজীবী হতে চায় না। তাই প্রবীণদের ভালোবাসি। তাদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে শিখি পরিবারে, সমাজে। এটাই হোক আজকের দিনে নবীনদের অঙ্গিকার

পরিশেষে স্যারের দীর্ঘায়ু কামনা করি এবং এ ও প্রার্থনা

করি স্যারের জীবন হোক চন্দন আর ধূপের মতো। চন্দন যেমন ক্ষয়ে ক্ষয়ে অন্যের তরে নিজেকে বিলিয়ে দেয়, ধূপ যেমন সুশোভিত বাতাস দেয়, ঠিক তেমনি স্যার, তাঁর জ্ঞান,অভিজ্ঞতা দিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবেন এই প্রত্যাশা রাখি।

ধন্যবাদ সবাইকে

 

মোঃ মানিক হোসেন

সহকারী শিক্ষক,

খলিশাটোলা জিপিএস

 

 

মন্তব্য করুন