Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৯:৩৪ অপরাহ্ণ

আলোকিত হতে দাও। লিখেছেন _ মোঃ মানিক হোসেন

(আলোকিত হতে দাও)

 

পরিবর্তন এখন একটা বাজওয়ার্ড। একটু লক্ষ্য করলে দেখতে পাই,শুরুর দিকে বিনিময় ছিল পণ্য বিনিময়কেন্দ্রিক।কেউ চাল দিয়ে ডাল নিবে।কেউ সবজি দিয়ে মাছ নিবে। এরপর আসলো মুদ্রার ব্যবহার। এরপর আসলো টাকা,এরপর আসলো প্লাস্টিক, এরপর এটিএম কার্ড আর নব্য আবিষ্কার হল Smartphone button। অন্য শতাব্দীগুলোর সাথে একুশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল পরিবর্তনশীলতা।টেলিফোন থেকে মোবাইল, এনসাইক্লোপিডিয়া থেকে উইকিপিডিয়া, ইটপাথরের মার্কেট থেকে অনলাইন শপিং; এসব কিছু আমাদের একটাই বার্তা দেয়___

 

Only one thing is constant—CHANGE

 

পরিবর্তনের হাওয়ায় পৃথিবী আজ উদ্ভাসিত।সেই হাওয়ায় দোলিত হচ্ছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। ল্যাটিন শব্দ educo থেকে উদ্ভূত education শব্দটি অত্যান্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত। তাই আমি অধম প্রাইমারি শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে দু-চারটি কথা মস্তিষ্ক থেকে প্রসব করার দুঃসাহস করব বলে মনস্থির করেছি।প্রথমেই আমার দুঃসাহসের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

শুরুতে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি "প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার" গ্রুপের এডমিনের প্রতি যিনি আমাকে এই অনন্য সুযোগটি দিয়েছেন।আমি নিজেও এ গ্রুপের একজন সদস্য হতে পেরে গর্ববোধ করছি। আমি আরো গর্ববোধ করি একজন শিক্ষক হতে পেরে।

প্রাথমিক শিক্ষা শিশুর জীবনে শিক্ষার ভিত তৈরি করে। আমরা জানি, একটি দালানের ফাউন্ডেশন যতটা মজবুত হবে,দালানটি ততটা সুরক্ষিত হবে ঠিক তেমনি যে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত,সে সকল শিশুদের পরবর্তী স্তরের শিক্ষা ততটা সুরক্ষিত। শিশুর জীবনে শিক্ষার ভিত তৈরিতে যারা কাজ করেন তাদের মধ্যে শিক্ষক অন্যতম। তাই শিক্ষককে হতে হবে মানসম্মত,যুগোপযোগী এবং আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষায় উদ্দীপ্ত তথা বিজ্ঞানমনস্ক। আমি বিশ্বাস করি Knight সম্প্রদায়ের চেতনায় বিশ্বাসী একদল নিবেদিত প্রাণ শিক্ষকরাই পারে প্রাথমিক শিক্ষার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে।

আমি মোঃ মানিক হোসেন,

সহকারী শিক্ষক,

খলিশাটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সদর, নোয়াখালী।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের একজন ডিপিএড শিক্ষার্থী - শিক্ষক হিসেবে গতবছর ২০০ জন শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সাথে প্রশিক্ষণ করার সৌভাগ্য হল। ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থীদের ৯০% ছিল youngsters কেনই বা হবে না____ বাংলাদেশ পৃথিবীর ৭ম যুবকের দেশ। মোট প্রশিক্ষণার্থীর (৮০-৮৫)% postgraduate ; এমনকি ১৫/২০ জন ছিল reputed public university graduate.

আমি "প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার - সারা বাংলা" নামক একটি গ্রুপেরও সদস্য। সেখানে আমার সহযোদ্ধাদের পরিচয় তথা শিক্ষাগত যোগ্যতা জানতে পেরে আমি রীতিমত মুগ্ধ কিন্তু বিস্মিত নয় কেননা মুগ্ধতার সাথে ভালোবাসা ও প্রেমের সম্পর্ক আর বিস্মিত হওয়াতে রয়েছে জ্ঞানের দ্যুতি।

প্লেটোর ন্যায় শেখ সাদি যুবকদের সুন্দর মুখচ্ছবিতে বিধাতার শ্রেষ্ঠ কারুকার্যের ললিতকলা দেখিতে পাইতেন। তাইতো যুবকরা তাঁহার অত্যাধিক স্নেহের পাত্র ছিলেন। আমি আদম নিজেও যুবকদের আরাধনা করি। আমি যদি সেই রোমান মেয়ের মতো Appollo দেবতার সাক্ষাত পেতাম নিশ্চিত তাঁর কাছে চিরযৌবন চাইতাম। তাই বলে ভাববেন না আমি প্রবীনদের অবজ্ঞা করছি।আমি বিশ্বাস করি নবীনদের আছে সামর্থ্য আর প্রবীণদের আছে প্রজ্ঞা আর এই দুইয়ের মিশেলে আসবে সফলতা।

Welcome, "all young,energetic & meritorious teachers" to my beloved primary department.

সাগরের উপচে পড়া ঢেউ,নীল জলরাশি,সাগরের বুকে সূর্যের হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্য আমাদের যেমন বিমোহিত করে তার উল্টো পিঠেই রয়েছে সাগরের এক ভয়ঙ্কর রুপ। বিখ্যাত উপন্যাসিক James Joyce এর একটি কথা প্রণিধানযোগ্য " একই হাতের ভালো- মন্দ।"আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, অনেক ইয়াং টিচারদের আমি হতাশায় ভুগতে দেখেছি।তাদের কথায়, কাজে এমনকি মনের গহীনে একটি সুরই বাজছে-

হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোথা আর অন্য কোনো খানে!!!!!!

Bear Grylls এর মত তারাও ভাবছে,

" এখান থেকে বের হতেই হবে।"

তাদের চোখ যেন সুরে সুরে বলছে------

"মিথ্যে হাসি দিয়ে ঢেকে রাখি ক্ষত

বাহিরটা রাণীর মতো ভিতরটা আহত।"

হৃদয়ের অলিন্দে জমে থাকা ক্ষোভ,হতাশা,দুঃখ তাদের অমিত সম্ভাবনাকে মিসলিড করছে। কেননা আশাশূন্য ও নিরানন্দ মনে ভালো কাজ হয় না।

তথাপি নন্দলালের মত প্রিয় দেশ ও প্রিয় ডিপার্টমেন্ট নিয়ে ভাবতে কতই না ভালো লাগে। একশ আকাশ,একশ নদী, আর অজস্র স্বপ্ন বুকে পুঁষি। আশা বেঁধে রাখি অন্তরে।কেননা -----

Who he liveth who he believeth that shall never die. Where is life there is hope. (Shakespeare)

তাছাড়া প্রিয় সহযোদ্ধারা Life is too short to live with regrets. তাই আফ্রিকান বাচ্চা হাতির মত মনকে লাফাতে না দিয়ে, মনকে স্থির করুন। আমরা বিশ্বাস করি আপনারা আরো ভালো পদ বা পদবী পেতে পারতেন। তবে মনে রাখবেন, আমরা সবাই নিয়তির হাতের পুতুল মাত্র।

Godfather বইটিতে লেখক বিষয়টি বর্ণনা করেছেন এভাবে,"" প্রত্যেক মানুষের জন্য নির্দিষ্ট একটি নিয়তি রয়েছে, কখনো কখনো ভুল পথ ধরেই মানুষ তার সেই নিয়তির কাছেই পৌঁছায়। "

তাই নিয়তিকে একসেপ্ট করতে শিখুন।

প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রুপের কিছু পোষ্ট অনভিপ্রেত। তারা ভার্সিটির একটা সার্টিফিকেট অর্জন করে superiority complex এ ভুগছেন।(বলাবাহুল্য সবাই না)

কুতুবান্দ্রে দিল পিয়েরেগণ বোঝাতে চাচ্ছেন,

কিসে আর কিসে ; ধানে আর তুষে।

সিনিয়দের হেয় করে,নিজেদেরকে বড় ভাবার মধ্যে কোনো মাহাত্ম্য নেই। আমরা রামের আদেশকে গৌরবান্বিত করি কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি আমরা রাবণের ন্যায় আচরণ করি। আমরা ভুলতেই বসেছি, একটি রেখা টাস না করেও তাকে ছোট প্রমাণ করা যায় তার চেয়েও বড় একটি রেখা টেনে। আর এহেন নীতিবোধই আমাদেরকে মহৎ করে তোলে। বন্ধুগণ, আমাদের মনে রাখা উচিত------

"আমরা মিলেছি আজ মায়ের ডাকে

এমন ঘরের হয়ে পরের মতন

ভাই ছেড়ে ভাই কদিন থাকে।"

তাই আসুন না, superiority complex টা ভুলে সবাই মিলে একসাথে কাজ করি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে।

আমি বিশ্বাস করি নিবেদিত প্রাণ প্রাইমারি শিক্ষকগণ ইতিহাসের সেই রাজপুত্রের মতো, "এলো,দেখলো এবং জয় করে নিলো" ইতিহাস সৃষ্টি করবে আর তা Riffle effect এর মতো তা চারপাশে ছড়িয়ে পড়বে খুব সহসাই।

চুম্বকায়িত ১ খন্ড লোহা তার ওজনের ১২ গুণের বেশি ভার তুলতে পারে কিন্তু চুম্বুকহীন লোহা ১ টা পালকের সমান ওজনেরও ভার তুলতে পারে না।আমাদের চুম্বুকায়িত লোহা আমাদের নিবেদিত শিক্ষকরা এবং আমাদের এনারজেটিক ইয়াং মেধাবী শিক্ষকরা।

তাই কৃর্তপক্ষের নিকট আকুল আবেদন---

হ্যামিলনের বংশীবাদকের ন্যায় অদ্ভুত সুরে সুখের পথে ডাকুন,যেখানে থাকবে স্বপ্ন ও বিশ্বাস। যে স্বপ্ন আমাদেরকে ঈশ্বরচন্দ্রের ন্যায় ভরা দামোদর পার হতেও আমাদের কুন্ঠাবোধ করবে না।

বিনীত নিবেদন যোগ্য শিক্ষকদের যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক,সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার,উপজেলা শিক্ষা অফিসার হওয়ার পথকে সুগম করবেন।আমরা আমাদের সাদা ভাতের ন্যায় স্বপ্নগুলোর সাথে ইমোশনের তরকারি মাখতে প্রস্তুত। আমরা মোখলেস বা হোপলেস হতে আসিনি আমরা আমাদের টার্গেট এচিভ করতে এসেছি।দয়া করে আমাদের উন্নতির পথকে সুগম করুন,প্লিজ,প্লিজ।

We were made to look forward, not back.

আমি বিশ্বাস করি আমার সম্পর্কে আপনাদের ধারনা কবিতার সেই দুটি

পঙক্তির মতো---

এই মোর পরিচয় হোক

আমি আপনাদেরই লোক।

পরিশেষে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি,এই গ্রুপের সকল সদস্যদের মুহূর্তগুলো অনিন্দ্যসুন্দর হোক অনুপম রায় কিংবা জেমসের গানের লিরিকের মতো।বছরের পর বছর তাঁদের ঠোঁটের কোণে হাসি হয়ে বেঁচে থাকুক প্রিয় মানুষগুলো ও প্রিয় মুহূর্তগুলো।

মোঃ মানিক হোসেন

সহকারি শিক্ষক

খলিশাটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সদর,নোয়াখালী।

মন্তব্য করুন

ব্লগ