Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৪:০৫ অপরাহ্ণ

The_ Memories_ Of_ Maijdee_PTI

The_ Memories_ Of_ Maijdee_PTI



বিদায় তিন অক্ষরের একটি শব্দ যা হেমলকের চেয়ে বিষাক্ত। জীবনের পরোতে পরোতে বিদায়।মাতৃগর্ভ থেকে বিদায় নিয়ে পৃথিবীতে আসার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই বিদায় আর এ বিদায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।কিন্তু এই জন্মমৃত্যুর মাঝখানেও আমাদের নিতে হয় অসংখ্য বিদায়।যেমন ধরুন শিক্ষাজীবনের বিদায়, কর্মজীবনের বিদায়, বদলীজনিত বিদায় এরকম অসংখ্য বিদায় রয়েছে জীবনের পরোতে পরোতে..…...

আমি ডিপিএড শিক্ষার্থী শিক্ষক (২০১৯-২০২০)। চোখ বুজলে মনে হয়,এই তো সে দিনকার কথা। এক ঝাঁক তরুন- তরুণী অডিটরিয়াম রুমে বসে আছে আর তাদের চোখে মুখে উচ্ছ্বাস; পোষা বিড়াল ছানাটির মত শান্ত শিষ্ট হয়ে ইন্সট্রাক্টর মহোদয়গণের কথা গিলছে।আর আমি চশমার ফাঁক দিয়ে অভিভূত নয়নে ডেস্কের দিকে তাকিয়ে কল্পনার জগতে বিচরণ করেছিআর ভাবছি যদি আমি এমন ( ইন্সট্রাক্টর) হতে পারতাম তাহলে ডেস্কে দাঁড়িয়ে আমিও কিছু বলতে পারতাম। আমার সে ভাবনাটি পরবর্তীতে সত্যি হয়েছিল।পরিচিতি অনুষ্ঠানের শেষে যখন স্যাররা বললো, আজকের দিন সম্পর্কে আপনাদের অনুভুতি কেউ বলতে চাইলে বলতে পারেন। তখন সাহস করে ডেস্কে দাঁড়িয়েছিলাম আর বলেছিলাম কিছু কথা।

এর কিছুদিন পর ক্লাশ শুরু হল আর Bear Grylls এর মতো আমিও ভাবতে লাগলাম," এখান থেকে বের হতে হবে।"

তবে মাইজদী পিটিআই এর অভিষেক অনুষ্ঠান,ক্রীড়া অনুষ্ঠান,আন্তঃপিটিআই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা,স্বাধীনতা দিবস,শোক দিবস,বিজয় দিবস উদযাপন এবং মেস নাইট অনুষ্ঠান সত্যিই আকর্ষণীয় যা আমাকে মনোমুগ্ধতায় উদ্ভাসিত করেছে। চেষ্টা করেছি প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করার জন্য; তবে আমি অধম খুব বেশি সৃজনশীল লোক না হওয়ার কারনে সাংস্কৃতিক কোনো আইটেমে অংশগ্রহণ করতে পারি নাই।তবে অধিকাংশ অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করে নিজেকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করেছি।

আমি সত্যি বলছি ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে আমার ভিতর যে অনুভুতি হয়েছিল কিন্তু কালের পরিক্রমায় তা ইতিবাচক ধারনায় পরিবর্তিত হলো আর আলভী লতার মতো স্নেহ- ভালোবাসা বৃদ্ধি পেয়েছিল পিটিআইয়ের প্রতি।বুঝতেই পারিনি কিভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিল মাসগুলো। তবে ফাইনাল পরীক্ষার এক মাস ছিল মানসিক চাপ ও ধৈর্যের পরীক্ষার। অনেক রাতে ঠিকমত ঘুমাতেও পারিনি.

 

তবে ৩১ ডিসেম্বর বিদায়ের দিন বুকের বামপাশে কেন যেন একটা ব্যাথা অনুভূত হল। বসন্ত দিনে দুপুরের বাতাসে অশ্বত্থ গাছের নতুন কচিপাতার মতো বুক থরথর করে কেঁপেছিল। পত্রশ্রীর মতো আমাদের মুখগুলো মহুর্তে মহুর্তে পরিবর্তিত হইয়া হেমন্ত শেষের পান্ডুর পাতার মত হইয়া গেল। হয়ত এরই নাম প্রেম/ ভালোবাসা/ আবেগ।

অনুষ্ঠান শেষে ব্যক্তিগতভাবে সুপার স্যারকে যখন বিদায় জানাতে গেলাম ; তখন দেখি স্যার টিফিন বক্স খুলছেন লাঞ্চ করার জন্য।

বললাম, " দুঃখিত স্যার, অসময়ে বিরক্ত করার জন্য।" স্যার, দোয়া করবেন। বিদায়, আল্লাহ হাফেজ, স্যার। স্যার, সোফা থেকে উঠে আসলেন। কাছে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন আর বললেন ভালো থাকবেন। সেই অনুভূতি কখনো ভোলার নয়।

রোহিণী স্যার, হ্যান্ডসেক করে বললো, "মানিক, বিদায়, ভালো থেকো।"

মনে পড়বে স্যারের অনেক হাস্যরসাত্নক কথা।

মোহাম্মদউল্লাহ পাটোয়ারী স্যার থেকেও বিদায় নিলাম। স্যার, যোগাযোগ রাখার জন্য বললো। গনিত সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যা স্যারের সাথে শেয়ার করার জন্য পরামর্শ দিলেন। স্যারের থেকে অনেক কিছু শিখেছি আরো অনেক কিছু শেখার আছে। আশা করি যোগাযোগ রক্ষা করার মধ্য দিয়ে আরো অনেক কিছু শিখবো।

মনে পড়বে শফিক স্যারের কথা। স্যারের সাথে দেখা হলেই বলতো, মানিক সাহেব কী খবর?

মনে পড়বে শেপাল স্যারের সেই মাথা নাড়ানোর দৃশ্য। কোন বিষয় সম্পর্কে মতামত বা তথ্য দিলে...... স্যার, মাথা নেড়ে আমার কথার সমর্থন করতেন।

মনে পড়বে মাহবুব স্যার ও শামীম স্যারের হাসি ও লাজুক ভঙ্গিতে কথা বলার দৃশ্য।

মনে পড়বে আহসান স্যারের সেই ডায়ালগ, মানিক সাহেব কেমন আছেন?

মনে পড়বে মতিন স্যারের সেই ডায়ালগের কথা,"ক্লাসে আমি আছি আর মানিক আছি। আরও মনে পড়বে পান খেয়ে মুখ লাল করা সে মুখটা।

মনে পড়বে, উপস্থাপনার ফাঁকে ফাঁকে নাহিদ ম্যাডাম ও ফারহানা ম্যাডামের সাথে আলোচনা করার সে মহুর্তগুলোর কথা।আমি জীবনে আরো ভালো কিছু করতে পারি এই বিশ্বাস রেখে যাতে এগিয়ে যায় সেই কথাটিও মনে থাকবে।

মনে পড়বে প্রিয় নাজিম স্যারের কথা।মনে থাকবে স্যারের সেই কথাটি,"ইতিবাচকটা ভাবুন।"

মনে পড়বে সহকারি লাইব্রেরিয়ান দেলোয়ার সাহেবের কথা। মহোদয় আমাকে স্নেহ করেন। এটা আমার সৌভাগ্য।

মনে পড়বে আমার ডিপিএড শিক্ষার্থী শিক্ষক বন্ধুদের। বিশেষ করে ইলিয়াস ,বারেক,মাজেদ সিরাজ, জুয়েল, রাজু,ফরহাদ, নাঈম,কামাল, সলিল, সাইফুল, আবু হাসান, সাহেদ, দিদার, সবুজ সাহেবদের। আরো নাম না জানা অনেকের ছবি ভাসবে চোখের সামনে

কবিতার ছন্দে বলতে হয়......

সাজ প্রভাতে সন্ধ্যারাতে নিভৃত নির্জনে

তোমাদেরই স্মৃতিকথা পড়বে জানি মনে

তখন আমার তপ্ত চোখে অশ্রু যদি আসে

ভাববো আমি বসে আছি তোমাদেরই পাশে।

তবে সময় বড়ই নিষ্ঠুর। সময় অনেক কিছুকেই ভুলিয়ে দেয়। তবে এমন কিছু স্মৃতি থাকে যা কখনো ভোলার নয়। তাই আমি এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি কিছু স্মৃতি অমলিন থাকবে। হয়ত জীবন সায়াহ্নে এসেও আওড়াতে থাকবো সেই স্মৃতিগুলো।

বঙ্কিমচন্দ্রের কথাটি এখানে প্রণিধানযোগ্য," স্মৃতি সততই সুন্দর।"

হয়ত আর আমি আসবো না এ নীড়ে বাসা বাঁধতে শিক্ষার্থী বেসে, তবে আমি দূর থেকে তোমার সৌন্দর্য উপভোগ করবো,যেমন করে দর্শনার্থীরা দার্জিলিং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার চুড়োর সৌন্দর্য উপভোগ করে।

পরিশেষে একটি কথাই বলতে চাই,

Maijdee PTI, U must be a good runner because u r always running in my mind. U must be a good thief because u have stolen my heart and I always a bad shooter because I miss u always.

                                                                                              

 

Md.Manik Hossain

Assistant teacher

Khalishatola Govt.Primary School

 

 

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ