Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৪:০৭ অপরাহ্ণ

কলকাতায় এলে কিশোরকুমার, লীনাকে শাঁখা কিনে দিতেন, বুঝিয়ে দিতেন শাঁখার মর্ম। না লীনার হাতের শাঁখা কোনওদিন ভাঙে নি।

কলকাতায় এলে কিশোরকুমার, লীনাকে শাঁখা কিনে দিতেন, বুঝিয়ে দিতেন শাঁখার মর্ম। না লীনার হাতের শাঁখা কোনওদিন ভাঙে নি। কিন্তু জীবন যে সবসময় নিজের ছন্দে চলে না। ১৩ অক্টোবর,১৯৮৭, উল্টোপাল্টা হয়ে গেল লীনার জীবন। সেদিন তাঁর প্রিয় পুরুষ,স্বামী কিশোরকুমার আকাশের তারা হয়ে নাম না জানা দেশে পাড়ি দিলেন,আরও একবার বিধবা হলেন লীনা গাঙ্গুলি।


একুশ বছরের বড় কিশোরকুমার কে লীনা শেষ পর্যন্ত বিয়ে করলেন। অগ্ৰজ দাদামণি  চাননি এই বিয়ে হোক,তেমন লীনার পরিবারে ঘোর আপত্তি ওঠে । সব বাধা - বিপত্তি অতিক্রম করে ১৯৮০ সালে দুজনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। লীলা চন্দ্রভারকর থেকে বান্দোদকার সেখান থেকে গাঙ্গুলি। লীনার সন্তান সুমিত। কিশোর তাঁকে অসম্ভব স্নেহ করতেন। যেমন করতেন অমিতকুমার কে। ভাইকে আজও অমিতকুমার প্রচণ্ড ভালবাসেন,যেমন ভালবাসেন লীনা কে। তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি- লীনার সঙ্গেই আনন্দের আকাশ পেয়েছিলেন বাবা।


একদিন লীনা ফোনে গল্প করতে করতে বলেছিলেন তিনি রান্না করছেন, কিশোরকুমার অবাক হয়ে বললেন তুমি রান্না করছ! রাঁধতে পারো তুমি! টেলিফোনেই কিশোর বলেছিলেন সন্ধ্যের পরে তিনি বাড়িতে একা থাকেন,একা থাকতে ভাললাগে। এভাবেই দুজনের সম্পর্কের কেমিস্ট্রি এগিয়েছে। সেদিনটা আরও অবাক হওয়ার পালা। কিশোর কার্পণ্য করতেন না লীনার ঠোঁটের কোণে হাসি আনতে। তাঁর ফোন পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন লীনা।


 সবসময় লীনা চেয়েছেন একটি সুখী গৃহকোণ,তাই একুশ বছরের বড় একজন পুরুষ, যাঁর আগে  তিনটি বিয়ে সত্বেও কিশোররের বিবাহের প্রস্তাবে তিনি সম্মতি দিয়েছিলেন। কিশোরের ভাঙা হৃদয়ে আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে যে নারী হয়ে উঠেছিলেন তাঁর যোগ্য সহধর্মিণী তিনি অবশ্যই লীনা গাঙ্গুলি। কিশোরপুত্র অমিতকুমার ,লীনা কে বলেছিলেন বাবা কিন্তু বড় একা। তাঁকে আবার হাসিখুশি দেখতে চাই। লীনা প্রত্যুত্তরে বলেছেন,অমিত আমিও ঘর -সংসার চাই। তোমার বাবাকে আমিও সুখী দেখতে চাই। তুমি আমার ওপর ভরসা রাখতে পারো। নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পেরেছিলেন লীনা গাঙ্গুলি।


 সামান্য কয়েক বছরের দাম্পত্য জীবনে কিশোরকুমার লীনার মত একটা স্নেহশীল হৃদয়,সংসারপরায়ণা নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছিলেন তাঁর ভালবাসা,স্নেহের মধ্যে ছিল কিভাবে স্বামীকে সুখী রাখা যায়৷ অভিনেত্রী হয়েও লীনা সবসময় চেয়েছেন একটি সুখী গৃহকোণ।মারাঠি পরিবারের কন্যা লীনা বাঙালি ঘরের বধূ হয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন আপন দক্ষতা,ভালবাসা,স্নেহ,আন্তরিকতার পরশে। তাঁর খুড়তুতো মামা বিখ্যাত মানুষ অভিনেতা গিরিশ কারনাড। লীনারা থাকতেন মুম্বইয়ের বান্দ্রায়।প্রথম বিবাহ রাজনৈতিক পরিবারে হলেও রাজনীতির প্রতি তেমন কোনও ইন্টারেস্ট লীনার কোনওদিন ছিল না। অবশ্য তাঁর প্রথম স্বামীর মৃত্যু একটি রাজনৈতিক ইস্যু হয়। পুলিশি জেরার মুখে পড়েছেন লীনা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ অবশ্য তাঁকে আর বিব্রত করে নি। ভাঙা হৃদয় সদ্য স্বামী হারা তরুণী বাবা-মায়ের কাছে ফিরে এসেছিলেন ।এভাবেই কেটে যায় জীবনের তিনটি বসন্ত। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়েও কিছুটা ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে আবার সিনেমার জগতে ফিরে আসেন লীনা।কিশোরকুমারের সাথে তাঁর প্রথম আলাপ হয় কালিম্পংয়ে 'মন কা মিত ' ছবির শুটিংয়ে। এর অনেক পরে তাঁকে বিয়ে। অল্প দিনের জন্য হলেও সুখী দাম্পত্য।


সংকলনে :- অরুণাভ সেন।।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার :- ধ্রুবতারাদের খোঁজে।

পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার, "কত কী রয়েছে" লেখা সুমন গুপ্ত।

মন্তব্য করুন

ব্লগ