Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৪:২৪ অপরাহ্ণ

Positiveness comes from hope.

Positiveness comes from hope.

 

 

লিখতে কেন যেন ভালোই লাগে।

তবে লিখবো কি নিয়ে!

সেটা নিয়েই দ্বন্দ্ব শুরু হলো মন আর মস্তিষ্কের মধ্যে।

মন সে তো আবেগের স্হান ছুটে যেতে চায় ভুইচাঁপার শ্যামল সরস ডাঁটাটির মত কোমল শ্রীময়ী ও তরঙ্গময়ী কৃশতনু মেয়েটার কলরোল তোলা হাস্যস্রোতের মধ্যে হারিয়ে যেতে। এমন অনুভূতিতে বুকের বামপাশে কিছু একটা যেন থরথর করে কাপেঁ যেমন করে বসন্ত দিনের দুপুরে অশ্বথু গাছের নতুন কচিপাতা কাপেঁ। কিন্তু মস্তিষ্ক মানতে চায় না। সে বোঝাতে চায়- চিন্তা করো আর নতুন কিছু করো যার মধ্যে থাকবে ইতিবাচকতা। আর ঠিক তখনই মন, মস্তিষ্কে ধমকের সুরে বলে---

" ভাগ বেটা বেরসিক কাহাঁকা! "

কিন্তু মস্তিষ্ক সে তো এত অল্পতে ধমে যাওয়ার নয়। সে চিন্তা করতে বাধ্য করে চারপাশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন জিনিস নিয়ে, অনেকের কথা ও মতামতকে যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করতে।

মস্তিষ্ক যখন মনকে শুনিয়ে দিলো এই বলে - I am the most valuable things in the world. I have super power to change the world. You stop your bullying now. তখন ব্যর্থ প্রেমিকের মতো অশ্রুসিক্ত নয়নে মন গাইতে লাগলো -----

বিদায় দে মা ফিরে আসি!

বলতে কথা বুক ফাটে মা চোখের জলে ভাসি।

I always prefer brain to mind. এটা আমার লেখাতেই বুঝতে পারছেন আর জানি অনেকে হাসছেন । এমন কল্পনা নির্ভর আলোচনাতে। যারা হাসছেন তাদের বলি----

হাসিস না লোক কালীমুখী- আর হাসিস না?

লাজে মরি গলায় দড়ি- লাজ বাসিস না?

যাক আর নয় আজে বাজে কথা। মূল কথায় আসা যাক। গত দুদিন ধরে একটা কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। জনাব শেফাল নাথ মহোদয় ( ইন্সট্রাক্টর বিজ্ঞান) এর বিজ্ঞান ক্লাশ চলাকালীন কিছু কথা আমাকে ভাবতে বাধ্য করলো। পিটিআই এর সম্মানিত ইন্সট্রাক্টরবৃন্দদের মধ্য যে কয়েকজন প্রিয় শিক্ষক আছেন তাঁদের মধ্যে স্যার অন্যতম। স্যারের প্রতি আমাদের ভালোবাসা, বিশেষ করে আমার, আলভী লতার মতোই বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্যাার, বললো আমরা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। সামনের দিনগুলোতে আরো খারাপ আসতেছে। কথাগুলো যেন অবচেতন মনকে একটা ধাক্কা দিল। মনকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি হয়ত সত্য কথা গুলো কিন্তু মস্তিষ্কের লজিক্যাল ইউনিট সেটা মানতে চায় না। সেটাই আজ আমার লেখার টপিকস।

পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত ১৮ টি সভ্যতা এসেছে, এসেছে অনেকগুলো যুগ, এর মধ্যে কোনটি ছিল ধর্মের যুগ,কোনটি ছিল সাহিত্যের যুগ,কোনটি শিল্পের যুগ, এভাবে অনেকগুলো যুগ এসেছে যাদের মধ্যে অনেকগুলো ছিল ভালো যুগ, কিছু কিছু খারাপ যুগ ও এসেছিল। বর্তমানেও একটা যুগ চলে সেটা হলো টাকার যুগ। সব কিছুই টাকা দিয়ে বিবেচ্য হয়। সবাই টাকার পিছনে ছুটছে। টাকার জন্য আমরা জীবন রক্ষাকারী ওষুধ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যতে বিষ প্রয়োগ করছি,বড় বড় শিক্ষিত বিদ্বান লোকেরা দুর্নীতি করছে, যারা আমাদেরকে ন্যায় নীতির চবক দিবে তারাই দলকানা স্বার্থবাজ হিসাবে নিজেদের উপস্থাপন করছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আমি তাতেও আশাহত হতে চায় না। আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি সময়ের পরিক্রমায় আগের যুগ গুলোর যেমন ইতি ঘটেছে ঠিক তেমনি টাকার যুগের ও অবসান ঘটবে। পূর্ব দিগন্তে উদীয়মান সূর্য যেমন নতুন দিনের বার্তা দেয় ঠিক তেমনী জাতির ভাগ্যাকাশে আগমনী বার্তা নিয়ে আসবে নতুন এক যুগ যে যুগ হবে জ্ঞান আর সৃজনশীলতার। আশাতো করতেই পারি ভাই, এমন কয়টা দেশ আছে যে দেশে ৪ কোটি শিক্ষার্থী আছে। তাছাড়া মানুষ তো আশা নিয়েই বেচেঁ থাকে। আমি আশাবাদী মানুষ হিসাবে আপনাকে একটা ইংরেজি কথা শুনাতেই পারি----

Who he liveth who he believeth that shall never die.

হুম, এটাতো সত্যিই আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া জিনিসগুলো আমাদেরকে বিচলিত করে, নেতিবাচক চিন্তা করতে বাধ্য করে। কিন্তু তারপরও ইতিবাচক চিন্তা করা উচিত। কেন উচিত?????????

আসুন, একটা উদাহরণ দিয়েই বলি...............

একজন লোক বললো -" গতকাল আমার খুব খারাপ ছিল। আজ আরো খারাপ। আগামিকাল যে কত খারাপ হবে, মনে হয় কেয়ামতই হয়ে যাবে।"

আরেকজনলোক বললো - "গতকাল আমার ভালো ছিল। আজ আরো ভালো। আগামিকাল আরো ভালো হবে।"

এখন যদি আপনাকে বলা হয়, কোন কথাটি সত্যি।

অবশ্যই আপনার উত্তর হবে, দুটোই মিথ্যা। কারন যতই খারাপ হোক না কেন,তার মধ্যে কিছু ভালো ছিল ঠিক তেমনি যতই ভালো দিন কাটুক না কেন কিছু না কিছু খারাপ হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো যদি দুটোর মধ্যে ১ টি কে নিতে বলে আমার কোনটিকে নেওয়া উচিত। অবশ্যই ২য় টা নেওয়া উচিত। ঠিক তেমনি যতই খারাপ হোক না, কিছু না কিছু ভালো হচ্ছে।

এটাতো সত্যি টাকা জীবনের একটা অংশ। কিন্তু আমরা টাকার পিছনে এমন ভাবে ছুটছি, যে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি। রবীন্দ্রনাথ একবার তাঁর এক অসুস্থ আত্নীয়কে দেখতে হাসপাতালে গেলেন। দেখে ফিরে যাওয়ার সময় তিনি দেখতে পেলেন একজন রমনীর একটা কাটাঁ পা টেবিলের উপর পড়ে আছ। আর পা টা দেখতে খুবই বীভৎস আর কুৎসিত। তখন তিনি ভাবলেন, এই পা এত বীভৎস কেন? এই পা নিয়ে তো কত কবি লিখেছেন কবিতা-----

যাহা যাহা অরুণ ও চরণ চলো চলেই

তাহা তাহা স্থল কমল ও ধলই থলই।

যেখানে যেখানে অরুণরাঙ্গা পা পড়েছে, সেখানে সেখানেই স্থলপদ্ম ফুটে উঠেছে। তিনি পরবর্তীতে আবিষ্কার করলেন, এই পা বীভৎস কারন এটি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন। এই পা ততক্ষন পর্যন্তই সুন্দর যখন এটা শরীরের সাথে সম্পৃক্ত। তাই আমাদের উচিত হবে না জীবনকে বিচ্ছিন্ন করে শুধু টাকার পিছনে ছোটা। সব মিলিয়েই যেন জীবনকে দেখি।

ইতিহাসের একটা রেফারেন্স দিয়ে বলি।

সুলতান মাহমুদ গজনী তাঁর দাস এয়াজকে একটি আংটি দিয়ে বললেন এতে এমন একটি বাক্য লিখে দাও যা আমি সুসময়ে দেখলে চিন্তিত হতে পারি আর দুঃসময়ে দেখলে খুশি হতে পারি।

এয়াজ আংটিতে লিখে দিল ------

"এ সময়টাও অতিক্রান্ত হয়ে যাবে।"

একজন আশাবাদী মানুষ হিসাবে আমি এটা বিশ্বাস করি, এ সময়টা অতিক্রান্ত হয়ে যাবে এবং একটা নতুন যুগের সূচনা হবে। ৪ কোটি শিক্ষার্থীর দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে না এটা বিশ্বাস করি না আর করবো না। জেলেদের দেশ সিঙ্গাপুর যদি পারে, জাপানের মতো প্রতিকূল, বৈরী পরিবেশকে চ্যালেন্জ করে যদি তারা উন্নত হতে পারে। জাপানের মাথাপিছু আয় ৪০০০০ মার্কিন ডলার, আমাদের মাথাপিছু আয়ও তাদের কাছাকাছি মাত্র ১০০০+ মার্কিন ডলার। ভাই কেমনে সম্ভব? কারন তারা তাদের জনগনকে বিদেশে রাষ্ট্রীয় খরচে পড়তে নিয়ে যেত, জ্ঞান,বিজ্ঞান ও দক্ষ করে নিয়ে আসতো।

তাই আমার বিশ্বাস within 2050 বাংলাদেশ একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হবে এবং সেটা যুবকদের হাত ধরেই হবে।

LOVE YOU BANGLADESH. MAY ALLAH LIVE LONG YOU.

 

ধন্যবাদ সবাইকে।

 

মোঃ মানিক হোসেন

সহকারি শিক্ষক

খলিশাটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।( ৮ ম শ্রেনি চলমান)

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ