Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৯:২৯ অপরাহ্ণ

এবার মানুষের মস্তিষ্কে ঢুকে পড়ল মাইক্রোপ্লাস্টিক, বিশ্বব্যাপী জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান

সবশেষ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানবদেহের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ মস্তিষ্কের কোষে ঢুকে পড়েছে। প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহ এই মাত্রাটির লাগাম টেনে ধরতে বিশ্বব্যাপী জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।


এর আগে, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে মানুষের ফুসফুস, প্ল্যাসেন্টাস, প্রজনন অঙ্গ (অণ্ডকোষ), যকৃত, কিডনি, হাঁটু এবং কনুইয়ের জয়েন্ট, রক্তনালী এবং অস্থি মজ্জাতে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণার অস্তিত্ব সনাক্ত করা হয়েছে। 

গবেষকরা চলতি বছরের শুরুতে ২৪ জনের মস্তিষ্কের নমুনা পরীক্ষা করেন। যাতে গড়ে মস্তিষ্কের মোট ওজনের শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ প্লাস্টিক কণা পরিমাপ করেছেন। এটি বেশ উদ্বেগজনক। এমনটি জানিয়েছেন নিউ ম্যাক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথিউ ক্যাম্পেন। তিনি বলেন, 'আমাদের মস্তিষ্কে যে এতো পরিমাণ প্লাস্টিক থাকতে পারে  তা আমি কল্পনাও করিনি। এখন পর্যন্ত নমুনা নেয়া সবচেয়ে প্লাস্টিক-দূষিত টিস্যুগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মস্তিষ্কের কোষ।' খবর দ্য গার্ডিয়ান। 

'গবেষণার ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে, প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলা করার জন্য এখনই বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা অপরিহার্য', বলেন সেদাত গুন্দোগদু, যিনি তুরস্কের কুকুরোভা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে গবেষণা করেন।

মানুষ যেসব মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসে সেগুলো ৫ মিমি ব্যাসের চেয়ে ক্ষুদ্র কণা। বাতাস, পানি এবং এমনকি খাবারের মাধ্যমে ব্যাপক মাত্রায় এসব প্লাস্টিক কণা মানুষকে আক্রান্ত করছে।

মানবদেহের অভ্যন্তরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি কী ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করছে তা এখনও গবেষণাধীন। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলি সবেমাত্র পরামর্শ দিতে শুরু করেছে যে, এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে  অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়তে পারে যাতে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ফুলে যেতে পারে। যা পরবর্তীতে কার্ডিওভাসকুলার রোগের কারণ হতে পারে।

প্রাণীর ওপর একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি উর্বরতা সমস্যা, ক্যানসার, অন্তঃস্রাব এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত এবং শেখার ক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়। 
যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য বা পানিতে প্লাস্টিকের কণার সহনশীল মাত্রা কী হবে তার সরকারি মানদণ্ড নেই। 

এর আগে, ২০২২ সালের অক্টোবরে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম মায়েদের বুকের দুধে শনাক্ত করা হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক। আর এর ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে যায় নবজাতক শিশুর স্বাস্থ্য।

ব্রিটিম গণমাধ্যম ডেইলি মেইল ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্য সন্তান জন্ম দেয়া ৩৪ জন সুস্থ মায়ের কাছ থেকে দুধের নমুনা সংগ্রহ করেন গবেষকরা। তা নিয়ে গবেষণায় তারা মাইক্রোপ্লাস্টিকের সন্ধান পান।

গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন ওইসব মায়ের চারভাগের তিন ভাগের বুকের দুধেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব আছে। 
তা সত্ত্বেও এখনও বিজ্ঞানীরা বলছেন, নবজাতকের জন্য সবচেয়ে সেরা খাবার মায়ের বুকের দুধ। শিশুকে প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করে গুঁড়ো দুধ বা অন্য যেকোনো ‘ফর্মুলা দুধ’ পান করানোর মাধ্যমে তার শরীরে উচ্চ মাত্রায় প্লাস্টিকের মজুদ গড়ে উঠতে পারে।

২০২২ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো মানুষের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব খুঁজে পায় বিজ্ঞানীরা। মানুষের রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে ১ ইঞ্চির ০.২ শতাংশের কম ব্যাসের (৫ মিলিমিটার) এসব প্লাস্টিক কণা।

নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানীরা ২২ জন স্বাস্থ্যবান ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করে বেশিরভাগ নমুনায় অতিক্ষুদ্র (১ ইঞ্চির ০.০০০০২ শতাংশ) প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। 
গবেষকরা ২২ জন স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে ১৭ জনের (৭৭.২ শতাংশ) রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছেন। বিষয়টি ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞানীরা।

মন্তব্য করুন

ব্লগ