চিনিযুক্ত খাবার স্বাদে মজাদার হলেও শরীরের জন্য একেবারেই ভালো নয়। অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার কারণে শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধে। তবে বিপত্তি হচ্ছে, বেশিরভাগ মানুষ না জেনে অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার খেয়ে শরীরের ক্ষতি করেন। অনেক ক্ষেত্রে শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে গিয়ে বড় বিপদ হতে পারে।
শুনতে অবাক লাগলেও আমাদের শরীর অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার সংকেত পাঠায়। যদিও আমরা অনেকেই সেটা অমলে নেই না। বিভিন্ন গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যে চিকিৎসকেরা এমন কথাই বলছেন। মার্কিন স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট এভরিডে ডেইলির এক প্রতিবেদনে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে শরীর কীভাবে জানান দেয়, সে বিষয়টি উঠে এসেছে। এই সংকেতগুলো জানা থাকলে এখন থেকেই সাবধান হতে পারবেন।
- চিনি দ্রুত হজমে সাহায্য করে। ফলে খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা পরও আপনি ক্ষুধার্ত বোধ করতে পারেন। অন্যদিকে, ‘ডোপামিন’ তৈরির ক্ষেত্রে বেশ পরিচিত নাম চিনি। আপনি যত বেশি চিনি খাবেন, আপনার শরীরের তত বেশি চিনি চাইবে। কারণ, চিনিকে মস্তিষ্ক একটি ট্রিট বা পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করে। যা চিনিযুক্ত খাবার এবং অন্যান্য সুস্বাদু খাবারের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দেবে।
- গ্লুকোজ শরীরে শক্তি যোগায়, তাই রক্তে শর্করার একটি স্বাস্থ্যকর স্তর বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন মিষ্টি খান তখন অগ্ন্যাশয় কোষে গ্লুকোজ পরিবহনে সহায়তা করার জন্য ইনসুলিন নিঃসরণ করে।
- ফলে আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত চিনি এই কাজে বাধা দেয়। চক্রটি চলাকালীন আপনার শক্তির স্তর বাড়ে না, বরং হ্রাস পায়। কারণ, আপনার শরীর আরও চিনি চায়। তাই শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে চিনিযুক্ত এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো।
- অতিরিক্ত চিনি আর্থরাইটিস বা বাত, চোখে ছানি, হৃদরোগ, দুর্বল স্মৃতিশক্তি বা কুঁচকে যাওয়া ত্বকসহ খারাপ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
- বেশি চিনিযুক্ত খাবার শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং গ্লাইকেশন প্রক্রিয়া শুরু করে। ফলে প্রোটিন অণুর সঙ্গে চিনির সংযুক্তি ঘটে। এতে শারীরবৃত্তীয় কাজে সমস্যা শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত প্রদাহ এবং ত্বকের সমস্যা ঘটায়। সেই সঙ্গে নিয়মিত ত্বকের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়।
- বিভিন্ন খাবার খাওয়ার পর অপ্রীতিকর গ্যাস এবং বদহজমের কারণে অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। বদহজম বা পেট ফোলার ক্ষেত্রে চিনি উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখে। আবার চিনি সাধারণত গ্যাস উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়া হিসেবে কাজ করে।
- বেশি চিনিযুক্ত খাবার ওজন বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে ওজন কমাতে চাইলে চিনি থেকে দূরে থাকুন।
চিনিযুক্ত খাবার গহ্বর এবং দাঁতের সমস্যা বাড়িয়ে তুলবে। এ জন্য অতিরিক্ত চকলেট খাওয়ার কারণে প্রায় সময় শিশুদের দাঁতে সমস্যা দেখা দেয়।নিয়মিত প্রচুর মিষ্টি খাবার খেলে আপনি মিষ্টি স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে পড়বেন। মিষ্টি ফল তখন আপনার কাছে ততটা মিষ্টি লাগবে না।ঘন ঘন ফ্লু এবং সর্দি-কাশিতে ভুগার কারণ হতে পারে চিনি।
২
৫ মন্তব্য