সহকারী শিক্ষক
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
গভীর চোরাবালির সমুদ্রে এক বিন্দু পবিত্র জল।
গভীর চোরাবালির সমুদ্রে এক বিন্দু পবিত্র জল।
মানুষ হিসেবে জন্মগতভাবে আমরা গল্প-কথক। একজন ভদ্রলোকের স্বলাতের প্রতি আন্তরিকতা ও ধারাবাহিকতা দেখে আমার অন্তরে অনির্বচনীয় আনন্দের অপূর্ব হিল্লোল বয়ে গেল। হৃদয় সরোবরে সুখ- তরঙ্গ যেন উথলে উঠলো এবং কৃতজ্ঞতার অশ্রু যেন মুক্ত বিন্দু হয়ে ঝরে পড়ল। সবটুকু আবেগে কম্পিত হয়ে শুধু বিধাতাকে শুধালাম_
"হে রব! আমাকেও আপনাকে ভালোবাসতে পারার আবে কাউসার দান করুন।"
আনন্দোচ্ছ্বাস আমার হৃদয়াকাশে রংধনুর যে অপরূপ রূপ ধারণ করেছিল তা আপনাকে কিভাবে বুঝাই !!!
কৌতুহলী মনের পাতা উল্টে দেখি আমার জন্য অপেক্ষা করছে আরেকটি বিস্ময়। একদা কোন এক রজনীতে ঈশার স্বলাত পরবর্তী সময়ে আমার পরিচিত এক ভাইয়ের ফার্মেসি থেকে পরিবারের জন্য ওষুধ ক্রয় করছিলাম। হঠাৎ করে ঐ দ্বীনদার ভাইকে আমাদের সামনে দিয়ে হেঁটে যেতে দেখলাম। তখন আমি ফার্মেসির ভাইকে উদ্দেশ্য করে বললাম," ভাই, এই ভদ্রলোক কে চিনেন? "
তিনি প্রতি উত্তরে বললেন, "চিনি মানে! উনি তো আমাদের মার্কেটের একজন নামকরা ব্যবসায়ী। তাছাড়া আর একটা পরিচয় হচ্ছে উনি BNP -এর একজন সক্রিয় নেতা। উনার আরেকটা পরিচয় হলো উনি একজন সমাজসেবক, সমাজের অনেক সেবামূলক কাজ করেন।"
এ কথা শোনার অন্তে অন্দরমহলে একটি কথাই জন্ম নিল যা অস্ফুট স্বরে মুখ দিয়ে বের হলো_ আস্তাগফিরুল্লাহ !!!
ভাইটি বিস্ময়ে জানতে চাইল আমার আস্তাগফিরুল্লাহ বলার হেতু কি?
তখন ভাইটিকে একটা উপমা দিয়ে বুঝালাম। বললাম _"সর্পরাজ যেমন উদ্যত ফণা নামিয়ে ফেলে মন্ত্রের আবেশে, তদ্রুপ ইসলাম যখন পরিপূর্ণভাবে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে সেই আবেশে মানুষটি হয়ে উঠে সোনার মানুষ। ভেঙে ফেলে তাগুতের শৃঙ্খল। নিঃস্বার্থভাবে এক আল্লাহকে মেনে নেয়। আল্লাহর দ্বীনের বিজয় তার একমাত্র মাকসদ হয়ে উঠে। পৃথিবীর বুকে আল্লাহর বিধান কার্যকর হোক এই বাসনা মনে পোষণ করে এবং তার জন্য কাজ করবে এটাই ঈমানের দাবি। সেখানে একজন দ্বীনদার কিভাবে গণতন্ত্র পূজারী হতে পারে?
আর মনে রাখবেন, যে লোক আল্লাহর দ্বীনের বিজয় পছন্দ করে না। আল্লাহর শাসন দুনিয়ার বুকে চালু হওয়াটা পছন্দ করে না বরং অন্য ব্যক্তির কুফরি আদর্শ জমিনের বুকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করে আবার কেউ কেউ এক ডিগ্রী বেশি গিয়ে আল্লাহর বিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনাকে উত্তম মনে করে না, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিদ্বেষ পোষণ করে সে পূর্ণ মুসলিম হতে পারেনি। এটা আমার ফতোয়া ভেবে মনে কষ্ট নিবেন না।এটাই পূর্ববর্তী ঈমাম,মুহাদ্দিস, ফকিহ ও আলেমদের মত।
আপনি জানেন কি?
হাশরের মাঠে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি পাবে কারা?
"যারা মানব রচিত বিধান প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে, আল্লাহর বিধানের বিরোধিতা করেছে তারা।" (সূরা জাসিয়া-০৮)
একজন প্রাক্টেসিং মুসলিম কখনোই গণতন্ত্রকে তার আদর্শ বেছে নিতে পারেনা। গণতন্ত্র ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক একটি তন্ত্র। এই তন্ত্রে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জনগণের হাতে অথবা তাদের নিযুক্ত প্রতিনিধি (পার্লামেন্ট সদস্য) এর হাতে অর্পণ করা হয়। তাই এ তন্ত্রের মাধ্যমে গায়রুল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়।
উদাহরণ স্বরুপ : এই তন্ত্রের অধীনে গর্ভপাত করা, সমকামিতা, সুদি মুনাফার বিধান ইত্যাদি জারী করা হয়েছে। ইসলামি শাসনকে বাতিল করা হয়েছে। ব্যভিচার ও মদ্যপানকে বৈধ করা হয়েছে। বরং এই তন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম ও ইসলামপন্থীদেরকে প্রতিহত করা হয়। অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে জানিয়েছেন, হুকুম বা শাসনের মালিক একমাত্র তিনি এবং তিনিই হচ্ছেন- উত্তম হুকুমদাতা বা শাসক।
তখন ভাইটি আমাকে বললেন, "মাস্টার! ( বলাবাহুল্য উনি আমাকে মাস্টার বলে সম্বোধন করেন।) আপনি যে ইসলাম চান সেই ইসলাম বাংলাদেশে পাওয়া যাবে না। এমনকি হুজুরদের ভিতরেও এই ইসলাম নাই।"
আমি উনার কথাকে সমর্থন করে বললাম,আপনি সঠিক বলছেন। তবে এটাই সত্যি আপনাকে তাগুত ছাড়তে হবে এবং এক আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। নতুবা আপনার ইসলাম পূর্ণাঙ্গ হবে না, খণ্ডিত ইসলাম সর্বোচ্চ বলা যেতে পারে।
দুই নৌকায় পা দিয়ে মুসলিম হওয়া যায় না। কিছু সময় তাগুতের পূজা চলবে, আর কিছু সময় ইলাহের তা হবে না।
You have to choose Only Allah.
বিধাতার কি রহস্য- লীলা!!! ভালোবাসার পুষ্প কলি প্রস্ফুটিত হওয়ার পূর্বেই বিদায় নিল। আত্মার গভীরে যে প্রেমের আবেদন ছিল তা নিমিষেই উবে গেল।
মোহাম্মদ মানিক হোসেন
১৭/০৬/২০২৪
৭
৭ মন্তব্য