সহকারী শিক্ষক
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৬:২১ পূর্বাহ্ণ
তুমিময় আমি_তুমিময় আমি
তুমিময় আমি
আমাদের মস্তিষ্ক ছোট- বড় অনেক ঘটনায় ভুলে যায়।এমনকি বাহ্যিক আঘাতে শরীরে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয় তাও সময়ের পরিক্রমায় মিইয়ে যায়। ব্যাথা ভুলে যায় শরীরের কোষও। তারপরও এমন কিছু স্মৃতি বা ঘটনা থাকে যা মস্তিষ্কের ROM মেমোরিতে অম্লান থাকে।
গত একটি সপ্তাহ দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার সাগরে মন যখন নিমজ্জিত ঠিক তখনই আমার বাইকের এন্টি কাটারের ন্যায় মন মস্তিষ্ককে জানান দিল.....I am ready to write something special for your beloved one and are you ready to think?
সুবোধ বালকের ন্যায় মস্তিষ্কের প্রতি উত্তর------obviously, dear.
মন ও মস্তিষ্কের এমন সৃষ্টিশীল কর্মযজ্ঞে হস্তের স্বপ্রণোদিত অংশগ্রহণ; এ যেন সোনায় সোহাগা।
আমার শান্ত, স্নিগ্ধ অন্তরের পরিপূর্ণ চিত্তে একটি তারিখ বা দিবস সদায় হাস্যউজ্জ্বল সেটি ১৩ ই মার্চ, ২০১৯।
আলহামদুলিল্লাহ!!
শুকরিয়া জানাই সৃষ্টিকর্তার প্রতি যাঁর অনুগ্রহে বিবাহিত জীবনের একটি বছর অতিবাহিত করলাম পরম স্নেহ,ভালোবাসা, আদর,যত্ন ও কিছু অভিমানের মধ্য দিয়ে। তবে বলা বাহুল্য, বিবাহিত জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার পেয়েছি ১৫ই ফেব্রুয়ারি,২০২০। আমাদের শাহজাদা মাহির তাজওয়ার সাজিদকে পেয়ে। সেজন্য আমার সৃষ্টকর্তা পরম করুনাময় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
স্নেহ,মমতা,প্রেম-প্রীতি,ভালোবাসা,আদর,সোহাগ এই ব্যাপারগুলি খুবই আজিব। জগতের সাধারন কোনো নিয়ম- কানুন দিয়ে এদের বিশ্লেষণ করা যায় না। আর যায় না বলেই ভালোবাসা বৈচিত্র্যপূর্ণ। ভালোবাসা না জানা বহু রঙে রঙিন। এমনকি এর বহিঃপ্রকাশটাও বৈচিত্র্যময় ও রহস্যময়।
ভাবছি!!!! আর ভাবছি!!!!
প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে আমার প্রিয় সহধর্মিণীকে কী বা দিতে পারি!!! আমিতো সম্রাট শাহজাহান নয়, তাজমহল বানিয়ে দিবো; আমিতো নয় রাজা অষ্টম এডওয়ার্ড, ভালোবাসার জন্য সিংহাসন ছেড়ে দিবো। আমিতো নগন্য একজন। কী বা দিতে পারি!
হয়ত দিতে পারি এক টুকরো কাগজ,যেখানে লেখা থাকবে কিছু বাক্য বা চিহ্ন from the core of my heart. যে লেখার থাকবে না হয়ত কোনো সাহিত্যমান কিংবা অলংকার। তবে লেখার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে থাকবে অক্সিটোসিন হরমোন তথা ভালোবাসার হরমোন।
স্মৃতিপটে ভেসে উঠল সে দিনটির কথা, যে দিন আমি শিমুকে প্রথম দেখি। সম্ভবত ২৭ জানুয়ারী, ২০১৯।বড় মামী, মেজো মামা আর আমি, শিমুকে দেখতে তাদের বাড়ি যায়। তখন আমার মাথায় শুধু একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল " এত কম বয়স "। বয়স তখন under 18। মনে একটা সংশয় " সব কিছু মানিয়ে নিতে পারবে তো! "
কিন্তু আজ একটি বছর পার হতে না হতেই শিমু অনেক বেশি ম্যাচিউড হয়ে গেছে। হওয়ারই তো কথা। বিজ্ঞান তাই বলে। মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় ১০ গুণ তাড়াতাড়ি matured হয় ; সেটা শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকে। অনেকে বলেন,অল্প বয়সের মেয়েদের বিয়ে করলে সহধর্মিণীর অনেক ছেলে মানুষী সহ্য করতে হয়। কিন্তু আমি শিমুর ভিতরে কোনো ছেলেমানুষী দেখি নি বরং দেখেছি maturity. আমার সাথে শিমুর বয়সের পার্থক্য স্বভাবতই একটু বেশি। তাই আমি মাঝে মধ্যেই নিজেকে বুড়ো বলে সম্বোধন করি, শুধু তাই নয়,দাম্পত্য জীবনের বাহিরেও আমি এই ট্রাম্পকার্ডটি ব্যাবহার করি। তবে কেউ আমাকে বুড়ো বলে সম্বোধন করলে আমার খারাপ লাগে।মাঝে মধ্যে শিমু যখন পাকা চুলগুলো তুলে তখন সেও আমাকে "বুড়া অপবাদটা দেয়। তখন আমার defensive attack টা হয় এভাবে,
" বয়স আমার বেশী না, ওরে টুকটুকীর মা
খালি চুল কয়টা পাইকা গেছে বাতাসে। "
শিমুর অনেকগুলো গুণের মধ্যে যে একটি গুন আমার নজর কেড়েছে সেটি হলো- আমার প্রতি তাহার আনুগত্য।আমার মনে হয় আমার প্রতি তাহার ভালোবাসা মারিয়ানা ট্রেঞ্চের চেয়ে গভীর,মাউন্ট এভারেষ্টের উচ্চতার চেয়ে বেশী ; এককথায় immeasurable.
তার কাজলকালো চোখের ভাষা ঠিক যেন গানের মতো---
"ওগো আমার সুন্দর মানুষ
একটা কথা শোন
তুমি বিনা আমারতো, গতি নাই কোনো।"
যখন আমার মন লক্ষ - কোটি কিলোমিটার দূরে কল্পনার রাজ্যে ছুটছে, ঠিক সেই সময়ে আমার পড়ার কক্ষে তসরিফ আনলেন আমার হেতেন ( উনি)।
উনিঃ কী করেন?
আমিঃ লিখি
উনিঃ কী লিখেন?
আমিঃ তোমারে নিয়া।
উনিঃ হাচা ( সত্যি)
আমিঃ হুম
উনিঃ কী বিষয়ে?
আমিঃ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে
উনিঃ (বিস্ময়ে) আপনার মনে আছে
আমিঃ হুম
উনিঃ আমিতো দেখি আপনি ভুলো মনা।
আমিঃ হুম,সেটা স্বাভাবিক।
উনিঃ কেমনে?
আমিঃ মানুষ শব্দটির আরবী প্রতিশব্দ
আল-ইনসান। শব্দটির উৎপত্তি
নিসইয়ানুন শব্দ হতে, যার অর্থ ভুলে
যাওয়া।
উনিঃ ও.... তবে তারিখটা মনে রাখার জন্য
ধন্যবাদ। আচ্ছা,আমরা তো এখন
তিনজন। আপনি কি শুধু আমাকে
নিয়েই লিখছেন?
আমিঃ না, অবশ্যই আমাদের সাজিদও
থাকবে।
উনিঃ হা হা হা। একেই বলে রক্তের টান।
আমিঃ কিসের রক্ত?
উনিঃ সাজিদ আপনার রক্ত। অর্থাৎ
সাজিদের সাথে আপনার রক্তের
সম্পর্ক।
আমিঃ না তো, সাজিদের সাথে আমার
কোনো রক্তের সম্পর্ক নেয়। ওর
সাথে আমার ডিএনএ - র সম্পর্ক।
উনিঃ ও একই কথাই হল।
আমিঃ আচ্ছা বলো তো তুমি আমারে
কতটুকু ভালোবাসো?
উনিঃ আপনার চেয়ে বেশী?
আমিঃ কত বেশী
উনিঃ আপনার চেয়ে ১০ গুণ বেশী।
আমিঃ বুঝছি।
উনিঃ কি বুঝছেন?
আমিঃ তুমি আমারে একটুও ভালোবাসো
না।তোমার ভালোবাসা জিরো।
উনিঃ কেমনে?
আমিঃ আমিতো তোমাকে ভালোবাসি না
অর্থাৎ ০ আর তুমি আমাকে আমার
চেয়ে ১০ গুণ বেশি ভালোবাসো।
সুতরাং তোমার ভালোবাসা = ০×১০
= ০
কথাটি শোনার পর তার মুখখানা কীটদষ্ট শিউলি ফুলের মালার মতো বিবর্ণ হয়ে গেল।তবে কেন এত ছলনা!!!!
আমার মনে তো সর্বদা প্রতিধ্বনিত হয় Andrew Marvell এর সেই বাণী----
"আমার ভালোবাসা হচ্ছে দুর্লভ ভালোবাসা
আর ইহার উদ্দেশ্য অদ্ভুদ এবং মহিমান্বিত
অসম্ভবের হতাশার উপর আমার ভালোবাসার জন্ম।"
উনিঃ জানি! জানি! এটা আপনার মুখের কথা। মনের কথা নয়।
আমিঃ আচ্ছা, তাহলে মনের কথা কী?
উনিঃ আপনি আগে বলেন কে আপনার বেশি প্রিয়? আমি নাকি সাজিদ।
আমিঃ কঠিন প্রশ্ন। তবে উত্তরটা এক কথায় দেওয়া সম্ভব নয়।
উনিঃ ওকে,বলেন। শুনছি।
আমিঃ সাজিদের সাথে আমার ডিএনএ -র সম্পর্ক আর তোমার সাথে আত্নার বা মনের সম্পর্ক। So, decision is yours. Which things is superior to you, DNA or Soul?
উনিঃ কঠিন হিসাব। আপনি লিখেন। আমি গেলাম। তবে পুরো লেখা শেষ হলে আমাকে পড়ে শোনাবেন।
আমিঃ ওকে। আমার রাণী।
মানুষ মানুষের কাছে অচেনা রুপে আসে।
চরিত্রগুনে মানুষ সবার চোখে ভাসে। শিমুকে যখন বিয়ে করি, তখন সে আমার কাছে খুবই অচেনা ছিল। কিন্তু সে তার চরিত্রগুণে আজ আমার প্রিয় সহধর্মিণী। তার প্রতি আমার মুগ্ধতা বলতে গেলে বলতে হয় ---
"কেউ চাঁদ দেখে, কেউ দেখে না
আমি দেখি চাঁদের মুগ্ধতা।"
অনেকে বলে থাকেন " মানুষের মন আকাশের মতো, ফুলের মত, পানির মতো, মাটির মতো, কালির মতো,পাথরের মতো, আরো অনেক কিছুর মতো........কিন্তু শুধু মনের মত হয় না।"
কথাটা অনেকের বেলায় সত্যি।
তবে এটা মনে রাখা উচিত আমাদের মনটা ICE- BERG এর মতো।
Ice berg এর মাত্র ১০ ভাগ পানির উপরে থাকে আর ৯০ ভাগ থাকে পানির নিচে। ঠিক তেমনি আমাদের মনের মাত্র ১০ ভাগ সচেতন অংশ আর ৯০ ভাগ অবচেতন অংশ। এই অবচেতন মন কোনো প্রশ্ন করে না। অবচেতন মনকে যাই বলবেন সে তাই accept করে নেয়। So, be the king of your own kingdom.
আমি বিশ্বাস করি " Nothing is absolutely flawless in this world.আমার সীমাবদ্ধতা আছে, প্রত্যেক মানুষের সীমাবদ্ধতা আছে।তাই সীমাবদ্ধতার দিকে ফোকাস না করে বরং ভালো দিকটি র প্রতি ফোকাস করলেই দাম্পত্য জীবন হবে সুখের। আমি অধম মনে করি, দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার সবচেয়ে বড় টনিক হলো সহধর্মিণীর দুর্বলতাগুলো নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে, ভালো দিকগুলোর প্রতি ফোকাস করা উচিত।
when life gives you a hundred reasons to cry, show life that you have a thousand reasons to smile.
এই কথাটিকে তাবিজ করে সাথে রাখলেই কেল্লা ফাতেহ।
পরক্ষণেই তাকে time travel or time dialation এর স্বপ্ন দেখায়। গল্পের ছলে বুঝিয়ে দিই কোনো এক সময় হয়ত শিমু আমার চেয়ে বয়সে বড় হবে। আমি শিমুর ছোট হবো যদি আমি ১ বছর মহাশূন্যে ঘুরে আসতে পারি। যেহেতু মহাশূন্যের ৩ বছর পৃথিবীর ৫০ বছরের সমান।
সত্যি, স্বপ্ন দেখি আমি আর কইতুরি বুড়া-বুড়ি হবো।আমার হাতে থাকবে লাঠি আর কইতুরির হাতে পানের ডিব্বা.............
পরিশেষে বিধাতার কাছে একটাই চাওয়া---
"ছুঁয়ে থাকুক হাসি হাজারো কষ্টের ভীড়ে
সুখ পাখি ভীড় করুক আমার ছোট্ট কুঠিরে।
Happy Anniversary, dear কইতুরি।
১
২ মন্তব্য