Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে লেখা

Happy Teachers' Day

 

 

শিক্ষক মানে আঁধারে আলো

অশিক্ষার নিধন।

শিক্ষক মানে জ্ঞানের আলোয়

ভরে দাও সবার মন।

শিক্ষক মানে শিশু মনে দাও

উদ্দীপনার আলো।

শিক্ষক মানে চিনতে শেখাও

কোনটি সবার ভালো।

 

 

আজ এই দিবসে কৃতজ্ঞতা চিত্তে স্মরণ করছি বিশ্বের সকল শিক্ষককে। ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা চিত্তে স্মরণ করছি বিশ্বের মানবতার শিক্ষক মহানবী (স)কে।স্মরণ করছি সেই জগত বিখ্যাত শিক্ষক সক্রেটিশ, আইনস্টান সহ বিশ্বের সকল শিক্ষককে। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইল আমার প্রিয় শিক্ষক প্রফেসর আবদুল্লাহ আবু সাঈদ স্যারের প্রতি।

 

এবং গর্ববোধ করছি আমি এই উচ্চবংশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে। আমি যদিও নগন্য একজন প্রাইমারি শিক্ষক কিন্তু এটাতো সত্যি আমি এই উচ্চবংশে জন্মগ্রহণ করা একজন বংশধর। শুকরিয়া আদায় করছি সৃষ্টিকর্তার প্রতি যিনি আমাকে এই উচ্চবংশের বংশধর হিসাবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।এই বংশে জন্মগ্রহণ করেছেন জগতবিখ্যাত ব্যাক্তিবর্গ। যেমন মহানবী (স),গৌতম বুদ্ধ, সক্রেটিশ, প্লেটো, আইনস্টাইন, প্রফেসর আবদুল্লাহ আবু সাঈদ স্যার, প্রফেসর আনিসুল স্যার সহ অনেকে।

 

 

আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি সে সকল মহৎ শিক্ষকদের যারা আজ আমাদের ছেড়ে পরকালবাসী হয়ে গেছেন।

May Allah keep their soul in rest & peace.

 

 

তপ্ত মরুর ধূসর বুকে

যেমন একটি পাহাড় গড়া

তাহার চেয়েও অধিক কষ্ট

একটি শিশু মানুষ করা।

হুম, ঠিক তাই সেই কাজটি করেছেন আমার শিক্ষকেরা। আজ নিজেকে মানুষ বলে পরিচয় দিচ্ছি। কিন্তু আমরা সবাই জানি, পশুপাখি জন্ম মাত্রই পশুপাখি কিন্তু মানুষ জন্ম মাত্রই মানুষ হয় না, মানুষ হয়ে উঠতে হয়। আর সে কাজটি করে দিয়েছেন আমার শিক্ষকরা। আমি ঋণী তাদের কাছে চিরদিনই। সেই চিলড্রেন কেয়ার একাডেমি স্কুলে আমার প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক হাতেখড়ি। শিক্ষকদের ভালোবাসা আজও ভুলতে পারিনি। চম্পা, জবা, আনোয়ারা ম্যাডম যারা আমাকে ছেলের মতো ভালোবাসতো। বিশেষ করে চম্পা ম্যাডাম এত ভালোবাসতো যা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কোলে নিতেন, চুমু দিতেন, নিজের নাস্তা খেতে দিতেন, মাঝে মাঝে আইসক্রিম কেনার জন্য হাতের ভিতর টাকা গুজে দিতেন, আসলে ব্যাখ্যা করতে গেলে সাতকাহন হয়ে যাবে। প্রায় সময় second mother খ্যাত ম্যাডামদের কথা আমার মনে পড়ে। ম্যাডাম যেখানে থাকুন ভালো থাকুন এই প্রার্থনা সৃষ্টিকর্তার কাছে। আরো ছিলেন কামাল স্যার, হুজুর স্যার।আজ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সেসকল শিক্ষকদের প্রতি যারা আমার ফাউন্ডেশেন গড়ে দিয়েছেন। এবং কৃতজ্ঞতা চিত্তে স্মরন করছি my first teacher খ্যাত আমার গর্ভধারিণী মাকে যিনি আমার রক্তের সম্পর্কের টিচার।

 

ওবায়েদউল্ল্যাহ মেমোরিয়াল হাই স্কুলে এসেও সকল শিক্ষকের নয়ন মনি হিসেবে ৫ টি বছর অতিক্রম করলাম। যাদের কথা খুব বেশি মনে পড়ে তারা হলেন- হাসিনা ম্যাডাম, হুজুর স্যার, ইমাম স্যার, নুর মোহাম্মদ স্যারদেরকে। তবে সব টিচারের মধ্য থেকে একজন স্যার আমার অতি প্রিয় হয়ে উঠেছিল। তিনি হলেন জ্যোতি স্যার। স্যারকে আমরা পেয়েছি, আমরা যখন ১০ম ক্লাশে। স্যার ঢাকার ছেলে। কোনো এক কারনে স্যার নোয়াখালীতে আসলো।

 

স্যারের ড্যানিয়েল ক্রেইগের মত বডি ছিল না কিন্তু উনার এটিটিউড, স্টাইলিশ ও হ্যান্ডসাম চলাফেরা আমার ভালো লেগেছিল। কিন্তু যেটা সবচেয়ে ভালো লেগেছিল সেটা হল উনার পড়ার কৌশল।স্যারের পড়ানোর কৌশলের কথা মনে পড়লে আমার মনে হয়, স্যার মনে হয় নিচের কথাটা ধারন করতেন অন্তরে---" Every child is a genius, every child is a prodigy, every child is a miracle - And every child needs a push!

His every activities seems to me as like as a push.This is result of " this Manik".

English বিষয় পড়াতেন তিনি । প্রতিটি শব্দের অর্থ বলে দিয়ে ট্রেন্সলেট করতেন। আর ক্লাসে বলতেন "আমার ক্লাসে সবাই যে কোনো প্রশ্ন করতে পারবে। যেটা জানতে চাও প্রশ্ন করবে।আমাদেরকে প্রশ্ন করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন।" স্যারের প্রতি আরো ভালো লাগা বেড়ে গেল যখন দেখতাম যাই জিজ্ঞেস করি বলতে পারতেন। কোনটাতে অস্পষ্টতা থাকলে বলতেন আমি তোমাকে কনফার্ম হয়ে জানাবো। স্যার পাঠক ও ছিলেন। সাথে অধিকাংশ সময় বই থাকত।স্যারের ব্যক্তিত্ব ছিল অসাধারন। স্যারের কথা মুগ্ধ হয়ে শুনতাম।প্রমিত ভাষায় স্টাইলিস ভঙ্গিতে কথা বলতেন।

রবীন্দ্রনাথের ঐ কবিতার মতো জানতে ইচ্ছে করতো---

"তুমি কেমন করে গান করো, হে গুণী

আমি শুনি, শুধু অবাক হয়ে শুনি। "

তবে বছর কয়েক আগে শুনেছি , স্যার, শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দিয়ে বিদেশ পাড়ি জমালেন। হবেই না কেন?????আমাদের সমাজের প্রতিচ্ছবি যখন হয় এমন----

"মানিব্যাগের স্বাস্থ্য বলে, সখী তুমি কার?

আমরা শিক্ষকরা নামেমাত্র সম্মানী পাই, তাই জীবন- জীবিকার তাগিদে মৃত্যু হয় আমাদের স্বপ্নের।এই মৃত্যু আমাদের নয়, এই গ্লানি আমাদের নয়, এই মৃত্যু রাষ্ট্রের।

পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই

Love you, sir....

স্যার আমার শিক্ষকতা জীবনের অনুপ্রেরণা।স্যার, যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।

 

নোয়াখালী কলেজে আমি ছিলাম কোনো এক করিমন রহিমনের মতো। স্যারদের সংস্পর্শে আশার সুযোগ হয়নি। মানিক নামে উনাদের যে কোনো ছাত্র আছে উনারা জানতেন বলে মনে হয়না। এমনকি আমার অনেক সহপাঠী আমাকে চিনতে না। সবসময় পিছনে বসে ক্লাশ করতাম।দুইবার পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেলাম।প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অধিকার করি আর টেষ্ট পরীক্ষায় ২য় স্থান অধিকার করি। তাই ২/৩ জন টিচার ক্লাশে জানতে চাইলে পরীক্ষায় প্লেসে কারা কারা আছো দাড়াও। সেই সুবাধে আমার পরিচয় দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল এবং নোয়াখালী কলেজের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ১৫০০/- টাকার প্রাইজবন্ড উপহার হিসেবে পেলাম। কলেজ লাইফে এই স্মৃতিটুকু ছাড়া বাকী সব মরুভুমি। তবে ২/১ জন প্রভাষক ও প্রফেসরের ক্লাশ ভালো লাগতো। I.Sc রেজাল্ট দেওয়ার ১৪ দিন পড়ে বাবা মারা যায় তাই কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারেনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা। সেখানকার স্মৃতি বিরান মরুভূমির মতো।

 

পরিশেষে এটাই বলতে চাই, সকল শিক্ষক বেঁচে থাকুক আজীবন এই হৃদয় মাজারে।আমার জীবনে তথা প্রত্যেক মানুষের জীবনে শিক্ষকের অবদান সম্পর্কে বলতে গিয়ে Hemingway - এর নিচের উক্তিটি পুনারাবৃত্তি করা যায় -----

Time is not made for defeat. Man( teacher) can be destroyed but not defeated.

 

আজ থেকে ২৩শ বছর আগে মেগাস্থিনিস ভারতের মানুষকে যে সাতটি ভাগে ভাগ করেছেন, তার মধ্যে ১ম ভাগে ছিলেন দার্শনিক তথা শিক্ষক। আজও শিক্ষকরা সমাজের ১ম সারিতে আছেন, বিত্ততে না হোক সম্মানে আছেন।

ওরে কইতোরির মা- রা, আমরা সম্মানের পাগলরে......... সম্মানের। পরিশেষে এটাই বলতে চাই, " দিন শেষে আমরাই ( শিক্ষকরা) সেরা।"

জয় হোক শিক্ষক সমাজের।

 

মানিক হোসেন

সহকারি শিক্ষক

খলিশাটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

মন্তব্য করুন