Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০১:৫২ পূর্বাহ্ণ

আবেগি মুসলমান, আবেগি মুসলমান

 আবেগি মুসলমান

 

গত দুদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়াগুলো যে দুটি খবর অত্যন্ত তৃপ্তির সাথে প্রচার করেছে ; বলা চলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে সেটি নিয়ে আজ দু -চারটি কথা বলার প্রয়াস চালাবো, ইং শা আল্লাহ ।

প্রথমটি হল মরক্কোর ফুটবল দল খেলা শুরুর আগে তারা জাতীয় সংগীতের পরিবর্তে সুরা ফাতেহা পাঠ করেছে যা দেখে নেটিজেনরা খুশির সাগরে ভাসছেন কিন্তু প্রশ্ন হল তারা যে কাজটি করছেন সে কাজটি ইসলাম পারমিট করে কি?

না , করে না।কারণ ইসলামে সতর ঢাকা আবশ্যকীয় কাজ।

বিসমিল্লাহ বলে মদ খেলে মদ খাওয়া যেমন জায়েজ হয়ে যাবে না তদ্রুপ সুরা ফাতেহা পড়ে সতর খোলা রেখে ফুটবল খেললে সে খেলা জায়েজ হয়ে যায় না। আমাদের মনে রাখা উচিত কুরআনের উপস্থিতি আসল ব্যাপার না। আসল ব্যাপার হলো কুরআনের বাস্তবায়ন, কুরআন লব্ধজ্ঞান এবং এর বিধি-বিধান অনুযায়ী চলা।

দ্বিতীয় যে খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়েছে সেটা হলো আয়মান সাদিক ও মুনজেরীনের বিয়ে । আয়মান সাদিক মসজিদে তার বিয়ে সম্পন্ন করেছেন অর্থাৎ বলা চলে উনি সুন্নাহ অনুসরণ করেছেন। কাজটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হল ইসলামে যে কাজটাকে ফরজ করা হয়েছে সে ব্যাপারে উনি গাফেল ছিলেন, তিনি দাইয়্যুসের পরিচয় দিয়েছেন । উনার স্ত্রীর বেপর্দা ছবি অনলাইন দুনিয়ায় ভাইরাল যা মিলিয়ন মিলিয়ন লোকে দেখতেছে আর চোখের যিনায় লিপ্ত হচ্ছে। উনাদের এহেন কর্ম লুঙ্গি খুলে পাগড়ী পড়ার ন্যায় হয়েছে।

আয়মান সাদিক ও মুনজেরিনকে আমার কেন যেন ধোঁয়ার মতো মনে হয়, যারা মহাশুন্যের ভাঁজে ভাঁজে নিজেদের উর্ধ্বে তুলে ধরেছেন কিন্তু তারপরও তারা অত্যান্ত হীন। কারন তারা তাদের ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন যুবকদের হতাশাকে পুঁজি করে। তারা তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্য

মাঝে মাঝে মুসলমান যুবকদের আবেগ নিয়েও খেলেছেন।আর আমরা আবেগী মুসলমান ধর্মীয় জ্ঞান কম থাকার কারনে তাদেরকে আমাদের আইডল বানিয়ে নিয়েছি।

দুঃখ হয় সে সকল মুসলিম ভাইদের জন্য যারা তাদের আর্দশ নির্বাচনে এমন লোককে বেছে নিয়েছে যারা আমাদেরকে পারসুট অব ম্যাটারিয়ালিজমের শিক্ষা দেয়। তাদের এহেন শিক্ষা আমাদের যুব সম্প্রদায়কে বিষণ্ণতা ও হতাশার এক নিম্নগামী সর্পিল পথের দিকে ঠেলে দেয়।

প্রত্যেকে এবং সবকিছুই আমাদের মনোযোগ হরণ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে- টিভি চ্যানেল থেকে ওয়েবসাইট, ফেইসবুক থেকে টুইটার, রাস্তার বিলবোর্ড থেকে গলির দেওয়ালিকা আর সেখানে নতুন করে এড হয়েছে আয়মান ও মুনজেরীনের বিয়ে।

ইংরেজিতে একটি কথা প্রচলিত আছে-

Some darkness terrifies, some darkness attracts people.

কথাটির সত্যতা পাওয়া যায় এ বিয়েকে কেন্দ্র করে আমাদের যুবকদের মধ্যে উন্মাদনা থেকে। আমাদের মুসলিম যুবকরা ভুলতে বসেছে নিচের কথাটি- For the pleasure of the moment, we are constantly losing the unending happiness of eternity.

মার্কেটিং দুনিয়ার সর্বশেষ মন-ভুলানো প্রতারণাপূর্ণ কৌশলের কাছে আমাদের যুব সম্প্রদায়ের এমন অজ্ঞতাপূর্ণ আত্মসমর্পণ সত্যিই বেদনাদায়ক।

সূরা আ'লার ১৬ নম্বর আয়াত-" বাল তুখসিরুনাল হায়াতাদ দুনিয়া।" এই আয়াতের উপর যারা ঈমান এনেছেন তাদের উন্মাদনা আমাকে যতটা না বিচলিত করে , যারা তার পরবর্তী আয়াত -" ওয়াল আখিরাতু খাইরু ওয়া আবকা।" -এর উপর ঈমান এনেছেন তাদের উন্মাদনা আমাকে বেশি পীড়া দেয়।

এ বিয়ে কোনো মতেই আদর্শ বিয়ে নয়। এ বিয়ে আমাদের যুবকদের শিক্ষা দেয় আগে যেনা কর আর পরে বিয়ে কর। যে বিয়ে ইসলামী শরীয়তের বিরুদ্ধে যায় সে বিয়ে নিয়ে মুসলমান যুবকদের মধ্যে উন্মাদনা সত্যিই কাম্য নয়।

আরো ব্যথিত হয় যখন দেখি প্রাক্টেসিং মুসলিম এই বিয়েকে নিয়ে উন্মাদনায় মাতে। তাদের উপলব্ধির সূচনাবিন্দু আনয়নে আমি অধমের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

 

লেখায়- মোহাম্মদ মানিক হোসেন।

 

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ