Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

পানসি চলে স্মৃতির দরিয়ায়………

পানসি চলে স্মৃতির দরিয়ায়………       

 

লেনদেনের এই পৃথিবীতে বিষয় বুদ্ধিহীন আদমগুলো কর্মহীন ও বটে ।তাই বুঝি এদের উর্বর মস্তি্কের চিন্তার বিচরণ ,ভূমির বিস্তারও আদিগন্ত বিস্তৃত ।আমি নিজেকে বুদ্ধিহীন না হলেও চালাক নই বলে জ্ঞান করি । সেজন্য বোধ হয় স্মৃতিচারণ আমার একটা প্রিয় কাজ ।

স্মৃতির সরণি বেয়ে আমি যখন হেঁটে চলি, লীলায় - অবলীলায় আমি প্লাবিত হই স্মৃতির সাগরে ।স্মৃতিরা বারে বারে আমাকে দিয়ে যায় আভাস; আরো একবার যেন দূর -নক্ষত্রকে ছোঁবার অবকাশ।

জীবন নদীর বহমানতায় হারিয়েছি জীবনের এক একটি পল অনুপল। যা এসে জমা হয়েছে স্মৃতির ব্যারাকে। স্মৃতির ব্যারাকে স্মৃতিদের পায়চারি ঠিক কবে থেকে যে শুরু হলো তা সত্যিই আমার অজানা।কিন্তু একথা অস্বীকার করার কোন জো নেই আমার একটা সুন্দর শৈশব ছিল, ছিল তার বহুরুপিতা এবং বৈচিত্র্যতা ।

মানুষ বড়ই অদ্ভুত প্রাণী। যেখানে পাখি তার বাসার ভেতর খসে যাওয়া পালক রাখে না সেখানে মানুষ পরম যত্নে তার ভুল স্মৃতিগুলোকে আঁকড়ে রাখে ।মানুষের এই স্মৃতিকাতরতা প্রাণী জগতে মানুষকে দিয়েছে অনন্য এক উচ্চতা।

কোন এক ঈদুল ফিতরের দিনে মা আমাকে গোসল করিয়ে দিয়ে নতুন জামা পড়ালেন । শার্টটি ছিল হালকা বাদামি রঙের ,কাপড় ছিল হালকা মোটা, শার্টের স্টাইলটি ছিল ফতোয়ার মত দেখতে (পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ যে পোশাক গুলো বেশি পড়ে)। সেদিন আমি খুব কেঁদেছিলাম এই ভেবে আমার শার্টটি খুব বাজে। ঈদের মাঠে গেলে সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। আমি কাঁদতেছিলাম আর বলতে লাগলাম,” আমার শার্ট ইয়াছিন ও শাহিনের (ওরা আমার সমবয়সী, সহপাঠী এবং একই বাড়ির বাসিন্দা) মতো ( ফরমাল শার্ট) কিনলেন না কেন? আমি ঘর থেকে বের হবো না। ঈদের মাঠে যাব না ।

অনেক বুঝিয়ে মা আমাকে ঈদের মাঠে পাঠালেন ।আমি একরাশ বিষন্নতা নিয়ে ঈদগাহের দিকে ছুটলাম । অবাক হয়ে সবাই যখন আমার দিকে তাকাচ্ছিল এবং কেউ কেউ বলতে লাগলো জামাটা তোমাকে মানাইছে তখন আমার মন কিছুটা শান্ত হলো এবং সমবয়সী বাচ্চাদের সাথে খেলতে খেলতে অনেকটা সময় পার করে বাড়িতে ফিরলাম।

সেদিন আমার মায়ের প্রাণান্তকর চেষ্টা ছিল আমাকে বোঝানো,” আমার শার্ট ইয়াসিন ও শাহিনের ফরমাল শার্টের তুলনায় দামি এবং গর্জিয়াস কিন্তু সেদিন আমি তা বোঝার চেষ্টা করিনি। এমনকি বোঝার চেষ্টা করিনি শৈশবের তীব্র অভাব অনটনের মধ্যে মা নিজের জন্য কিছু না কিনে আমাকে দামি পোশাকটা কিনে দেওয়ার মানে।শৈশবের এই অভাবের দিনে মায়ের এই আত্মত্যাগ আমাকে পেলিকান পাখির কথা মনে করিয়ে দেয়। যে পাখি অভাবের সময় তার বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য নিজের বুকে ক্ষত তৈরি করে রক্ত বের করে এবং বাচ্চাদের খাওয়ায়। আমি আদম সেদিন অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছি ,” অশতের ছায়াই ছায়া ,মায়ের মায়াই মায়া।”

স্মৃতির ভান্ডার ঝাড়া দিলে আজ তাই ঝুর ঝুর করে পড়তে থাকে স্মৃতির মালা।আজ তাই বারবার ফিরে পেতে চাই ছোটবেলাকে ।

একবার যদি আবার ফিরে পেতাম ছোটবেলা,

কে আর সইতো বড় হওয়ার জ্বালা !

তাই যৌবনের সায়াহ্নে এসে শৈশব যেন কানে কানে চুপিসারে এসে বলে –

বড় হতে চেয়েছিল না!

মিটেছে স্বাদ তবে ?

দেখ, এখন কেমন লাগে ?



মোঃ মানিক হোসেন

১৮/১০/২০২৩

 

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ