Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০২:০৯ পূর্বাহ্ণ

বুড়িয়ে যাওয়া কোনো ট্র্যাজিক বিষয় না বরং একটি পরিবর্তন মাত্র

পৃথিবীতে মানুষের জন্মচক্র নিয়ে চিন্তা করলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের যে জিনিসগুলো মাথায় আসে তা হলো জীবন মানে শুধু জন্ম নেওয়া, বয়ঃপ্রাপ্তি হওয়া, তরুণ হওয়া, maturity আসা এবং তারপর বুড়ো হয়ে যাওয়া , অতঃপর মৃত্যু।

বুড়িয়ে যাওয়ার ভয় আমাদেরকে পেয়ে বসে চল্লিশ বা পন্ছাশ বছরে অথচ বয়সটাই হলো জ্ঞান স্বচ্ছ চিন্তা শক্তির উৎস। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যিই বেশিরভাগ মানুষই বুড়ো বয়সটাকে নিয়ে ভীত থাকে যদিও জীবন সীমাহীন। জ্ঞানী গুণিরা বলে থাকেন বয়স হলো জ্ঞানের উষাকাল। Aristotle বলেছিলেন-- Learning is an ornament in prosperity, a refuge in adversity and a provision in old age.

মানুষ বুড়িয়ে যাওয়াকে ভয় পাই বিধায় কত কিছুই না করে। কেউ ডায়েট করে, কেউ মাল্টিভিটামিন খায় তরুণ হওয়ার জন্য, চল্লিশ বছর পার হওয়ার পরও আরো বেশি তরুণ দেখানোর জন্য তরুণদের মতো পোশাক পরে, তরুণদের মতো আচরণ করতে থাকে কিন্তু আমাদের সমাজের মানুষ তথা বন্ধুবান্ধন অচেনা মানুষ হাসি ঠাট্টা করতে থাকে ফলে তারা ভাবে যে তারা বুড়িয়ে গেছে।

মৃত্যুর ভয় সৃষ্টির শুরু থেকেই ছিল, এই ভয় ছিল বলেইতো অনেকেই অমরত্ব পাওয়ার জন্য কতই না কিছু করেছেন কিন্তু কেউ পারেন নি রক্ষা পেতে। হুমায়ন আহমেদ তাঁর রঙপেন্সিল বইটিতে অমরত্বের কথা বলতে গিয়ে প্রাচীন গ্রীসের লোকদের কথা বলেছেন, জিনসেং গাছের কথা বলেছেন কিন্তু কোনো কিছুতেই মৃত্যুকে ঠেকানো যায় নি। মৃত্যু ভয় হলো সকল বেসিক ভয়ের মধ্যে সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম ভয়।

গোটা পৃথিবী গড়ে উঠেছে দুটি জিনিসের উপর ভিত্তি করে এনার্জি এবং ম্যাটার। পদার্থ বিজ্ঞানে আমরা পড়েছি ম্যাটার কিংবা এনার্জি সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না। শুধু মাত্র রূপান্তর ঘটে।

জীবন হলো এনার্জি বা শক্তি। তাই জীবনকে ধ্বংস করা যায় না। জীবন, শক্তির অন্যান্য গঠনের মতো ট্রানজিশনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত কিংবা বদল ঘটানো সম্ভব, ধ্বংস করা সম্ভব নয়। মৃত্যু আসলে একটি ক্রান্তিকাল মাত্র।

"বাইবেল বলেছে --ঈশ্বরই জীবন।"

সেই অর্থে জীবন অনন্ত, নিজেই গড়ে উঠেছে এবং যার কোনো ধ্বংস নেই যেহেতু ঈশ্বর অনন্ত, অসীম, অবিনশ্বর।

একটা উদাহরণ দিয়ে যদি বলি তাহলে বিষয়টা বুঝতে আরো সুবিধা হয়,-----আমরা জানি বিজ্ঞানীরা ইলেকট্রন চোখে দেখতে পান না তবু তারা একে scientific fact হিসাবে মেনে নিয়েছেন। কারন এটি একমাত্র প্রমাণিত উপসংহার যার সঙ্গে অন্যান্য experimental evidence এর কাকতালীয় মিল রয়েছে। তদ্রুপ জীবনকে আমরা দেখতে পাই না কিন্তু আমরা জানি আমরা বেঁচে আছি। আর জীবন আছে তাঁর সকল সৌন্দর্য মহিমা নিয়ে।

তাই বুড়িয়ে যাওয়াকে কোনো ট্র্যাজিক বিষয় না ভেবে এটিকে একটি পরিবর্তন হিসাবে নেওয়াটাই শ্রেয়। ভাবুন

পাকা চুল আপনার asset, বয়স আপনার একটা asset ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি মন বা আত্না কখনো বুড়ো হয় না সেটাকে বুলি হিসাবে না নিয়ে অন্তরে ধারন করি তাহলেই এই ভয় থেকে মুক্তি পাবো আর পৃথিবী পাবে সৃষ্টিশীল কিছু মানুষ।

কেননা বহুবিশ্ববিখ্যাতদার্শনিক,কবি,বিজ্ঞানী,লেখক, চিত্রশিল্পী এবং অন্যান্যরা তাঁদের সেরা কাজগুলো করেছেন ৮০ বছর বয়সে। দুই একজনের নাম না বললেই নয়, সক্রেটিস ৮০ বছর বয়সে বাদ্য বাজাতে শিখেন, অ্যাঞ্জেলো তাঁর জীবনের সেরা ছবিগুলো আঁকেন ৮০ বছর বয়সে,তাছাড়া নিউটন ৮৫ বছর বয়সেও কঠোর পরিশ্রম করতেন ,টেনিসন আরো অনেকের সেরা কাজগুলো ৮০ এর পরে, আসলে আপনি নিজেকে বুড়ো ভাবলেই বুড়ো, নইলে তরুণ।



Md. Manik Hossain

Assistant teacher

Khalishatola Govt. Primary School.

 

মন্তব্য করুন