সহকারী শিক্ষক
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৭:৫২ পূর্বাহ্ণ
যক্ষ্মা (টিবি) রোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
- টিউবারকিউলোসিস কি?
- কত ধরনের টিবি হতে পারে
- টিবির লক্ষণ কি কি
- কেন টিবি হয়?
- টিবির চিকিৎসা
- কীভাবে টিবি আটকানো যায়
- কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
- টিবির স্থায়ী চিকিৎসা কি সম্ভব?
- টিবির চিকিৎসা কতদিন ধরে চলে?
- টিবির ওয়ুধ কতদিনে কাজ করে?
- টিবি কত ধরনের হয়?
- টিবি কীভাবে ছড়ায়?
- কোন ব্যাকটেরিয়া থেকে টিবি ছড়ায়?
- টিবিতে কি মৃত্যুও হতে পারে?
টিউবারকিউলোসিস (টিবি) রোগের কারণ একটি ব্যাকটেরিয়া, যার নাম মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস। ব্যাকটেরিয়া সাধারণত ফুসফুসে আক্রমণ করে, কিন্তু টিবির ব্যাকটেরিয়া দেহের যে কোনও অঙ্গেই রোগ ছড়াতে পারে যার মধ্যে পড়ে কিডনি, মেরুদণ্ড ও মস্তিষ্ক। তবে যাদের দেহে টিবির ব্যাকটেরিয়া থাকে তারা সবাই অসুস্থ হয় না।
যদি ঠিকমতো চিকিৎসা না হয় তাহলে এই রোগের কারণে মৃত্যও হতে পারে। যদি টিবি রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসার বিষয়টি জানা থাকে তাহলে সেটা খুবই সহায়ক হয়। এই ব্লগে আমরা যক্ষা রোগ বা টিবির কারণ , লক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করব।
টিউবারকিউলোসিস কি?
ইংরেজি ভাষায় টিবিকে টিউবারকিউলোসিস বলে। টিবি আসলে সংক্রামক রোগ যা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগের অনেক রকম লক্ষণ দেখা যায়। সেগুলি এই ব্লগের মাধ্যমে আপনি সহজেই জানতে পারবেন। আগেই আমরা বলেছি যে, এই রোগ ছড়ায় একটি ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে যার নাম মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস। টিবি ছড়ানোর পিছনে আসল কারণ হল বাতাস। কাশি, হাঁচি কিংবা লালা মারফৎ টিবি একজনের থেকে অন্যজনের দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এই ব্যাকটেরিয়া আমাদের ফুসফুসের ক্ষতি করে। তবে এই রোগটি আমাদের দেহের সেই সব অংশের ক্ষতি করে যেখানে রক্ত ও অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি। সেকারণেই টিবি বেশি হয় ফুসফুসে। ফুসফুসের টিবিকে আবার পালমোনারি টিবিও বলা হয়।
কত ধরনের টিবি হতে পারে
একজন ব্যক্তির নানা ধরনের টিবি হতে পারে। যেমন
- সুপ্ত বা প্রচ্ছন্ন টিবি:এই ধরনের টিবিতে শরীরে ব্যাকটেরিয়া নিষ্ক্রিয় আকারে থাকে। তখন প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে আমাদের শরীর এই ব্যাকটেরিয়াকে সক্রিয় হতে দেয় না। এই পরিস্থিতিতে টিবির কোনও লক্ষণও দেখা যায় না। তবে ভবিষ্যতে এই ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হতে পারে।
- সক্রিয় টিবি: এই ধরনের টিবিতে শরীরের মধ্যেই ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয় এবং এই রোগের সব লক্ষণ শরীরে ফুটে ওঠে। এটা সংক্রামক ধরনের রোগ।
- পালমোনারি টিবি: এই ধরনের টিবিকে রোগের প্রাথমিক ধাপ বলে ধরে নেওয়া যায়। এই ধরনের রোগ সরাসরি ফুসফুসে আক্রমণ করে এবং তার ফলে দীর্ঘ দিনের কাশির সমস্যা দেখা দেয়।
- এক্সট্রা পালমোনারি টিবি:এই ধরনের টিবিতে রোগ ফুসফুস থেকে শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ফুসফুস থেকে সমস্যা হাড়ে, কিডনিতে কিংবা লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
টিবির লক্ষণ কি কি
টিবির ব্যাকটেরিয়া শরীরের কোন অংশে বাড়ছে তার ওপর টিবি রোগের লক্ষণগুলি নির্ভর করে। সাধারণভাবে এই রোগের লক্ষণগুলি আলাদা। তবে হাড়ের টিবির কিছু লক্ষণ গলার টিবির লক্ষণের চেয়ে আলাদা। টিবির ব্যাকটেরিয়া সাধারণত বেড়ে ওঠে ফুসফুসে (পালমোনারি টিবি)। টিবি হলে নীচের লক্ষণগুলি দেখা দিতে পারে:
- কাশি হতে পারে এবং এই সমস্যা থাকতে পারে তিন সপ্তাহ বা তার বেশি
- বুকে ব্যথা
- শ্লেষ্মা
- দুর্বলতা কিংবা ক্লান্তি
- ওজন কমতে পারে
খিদে কমে যেতে পারে - ঠান্ডা লাগা ভাব থাকতে পারে
জ্বর - রাতে ঘাম হতে পারে
অনেকে ভুল বোঝেন যে নারী ও পুরুষের মধ্যে যক্ষ্মার লক্ষণ আলাদা। না, মোটেও সেরকম নয়। যদি আপনার উপরে উল্লিখিত উপসর্গগুলির কোনটি থাকে, তাহলে আমরা আপনাকে অবিলম্বে একজন পালমোনোলজি ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার পরামর্শ দিই।
কেন টিবি হয়?
ব্যাকটেরিয়ার কারণেই টিবি হয়। ঠান্ডা কিংবা ফ্লুয়ের মতো এই ব্যাকটেরিয়া বাতাসে ছড়ায়। যাদের টিবি হয়েছে এমন লোকের সংস্পর্শে এলেই তবে কারো টিবি হতে পারে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, যদি আপনি এমন একজনের সঙ্গে হাঁটেন যার টিবি হয়েছে, এবং তিনি যদি মুখে চাপা না দিয়ে হাঁচেন, এবং হাঁচি থেকে বেরোনো ড্রপলেট আপনার মুখের কাছে এসে পড়ে, তাহলে আপনারও টিবি হতে পারে।
৫
৫ মন্তব্য