প্রভাষক
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৩:৩৫ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
আমি গিরিশচন্দ্র ঘোষের সম্বন্ধে বলতে চাই। তিনি ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ও কবি এবং শ্রীরামকৃষ্ণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভক্ত। গিরিশচন্দ্র ঘোষ গৃহী ছিলেন, তাই উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কলকাতার কী অবস্থা ছিল তা আমাদের মনে রাখতে হবে। তাই আমি 'রামকৃষ্ণ ও তাঁর শিষ্যগণ' গ্রন্থ থেকে দুটি উদ্ধৃতি দেব যাতে আপনারা ব্রিটিশ ও কলকাতার মানুষের মধ্যে ভাবগত সঙ্ঘাতের ধারণা করতে পারেন:
"সেকালের কলকাতা ছিল ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পীঠস্থান; কলকাতা বন্দর ছিল পশ্চিমি চিন্তাভাবনা ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রবেশপথ। ভাল বা মন্দ, বদল যেমনই হোক না কেন, তার সূচনা হয়েছে এই শহর থেকেই। সুতরাং কামারপুকুর থেকে কলকাতা আসতে সেদিন গদাধরকে গ্রামজীবনের অফুরন্ত সময়ভাণ্ডার থেকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়েছিল সমকালীন ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে।....
"সত্তর বছর ধরে ব্রিটিশ রাজশক্তি কলকাতা শহরকে গড়ে-পিটে 'শান্তির 'নীড়' করে তুলেছিল। কলকাতা ছিল এক জমকালো ইউরোপীয় কলোনি, এক প্রাসাদনগরী। কলকাতার স্থাপত্য ছিল প্রাচীন গ্রিকো-রোমক স্থাপত্যের এক নয়া সংস্করণ। বিশাল বিশাল হর্য্য, চাঁদনিযুক্ত প্রবেশদ্বার, নিরঙ্কুশ আলোবাতাসবাহী বড় বড় বাতায়ন এবং উষ্ণতারোধের জন্যে নামমাত্র আসবাবে সজ্জিত সুবিশাল কক্ষশ্রেণি। সমাজজীবন ছিল স্থির। জীবন-যাপনে কোনো অসংযম ছিল না- আচরণ ছিল অত্যন্ত কেতা-দুরস্ত ও মাপা। উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীরা সঙ্গে ভৃত্য নিয়ে ঘোড়ায় টানা গাড়িতে চড়ে শহর বেড়াতেন। সান্ধ্য মজলিশে এসে পৌঁছানো মাত্র ভৃত্যকুল জ্বলন্ত মশাল হাতে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেত। রাজপুরুষদের পরিবারের লোকেরা চার্চে যেত উপাসনা করতে, অপেরাতে যেত অবসর বিনোদনের জন্যে। মহিলারা গাড়ি চড়ে এসপ্ল্যানেডে বেড়াতে যেত, আলাপ-সালাপ করত অন্য মহিলাদের সঙ্গে, ছেলেরা ক্রিকেট খেলত।
৭
৭ মন্তব্য